আজ রাম মন্দিরের ভূমিপুজো, ‘দুপুর ১২ টায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শাঁখ বাজান, উদযাপন করুন’, আর্জি দিলীপ ঘোষের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

পিনাকপাণি ঘোষ

আজ ৫ অগস্ট, বুধবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা শুভ ক্ষণ বলে জানিয়েছেন বিখ্যাত জ্যোতিষী পণ্ডিত এন আর বিজয়েন্দ্র শর্মা। সেটা মেনেই অযোধ্যায় প্রস্তাবিত রাম মন্দিরের ভূমি পুজো হবে। হাজির থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এই ‘শুভক্ষণ’কেই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণকে আখ্যা দিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ আর্জি জানালেন, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সব স্তরের মানুষ যেন শঙ্খ, ঘন্টা বাজিয়ে উদযাপন করেন ওই মুহূর্তটিকে। দিলীপ বাবু বলেন, “শত শত বছরের গ্লানিমুক্ত হতে চলেছে ভারত। এ ব্যাপারে আগেই আইনি নিষ্পত্তি হয়েছে। সেই মোতাবেক রাষ্ট্রপুরুষ শ্রীরামের ভব্য মন্দির তৈরি হচ্ছে। তাই জাতীয়তাবাদী মানুষের কাছে এই দিনটি অত্যন্ত পবিত্র। ভারতের কাছে গর্বের। যাঁরা দেশকে ভালবাসেন, আশাকরি তারা এই দিনটি শঙ্খ, ঘণ্টা বাজিয়ে স্মরণীয় করে রাখবেন।”

এর আরও ব্যাখ্যা দিতে দিলীপবাবুর কথায়, “অযোধ্যায় রাম মন্দির নিয়ে যে বিতর্ক ও দ্বন্দ্বের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা দেশের পক্ষে ভাল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালত শান্তি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের লক্ষ্যে রায় দিয়েছে। সেই রায়ও ঐতিহাসিক। আমি তাই মনে করি, এই কারণেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার উচিত আজকের দিনটি উদযাপন করা।”

অযোধ্যায় যখন আজ ভূমিপুজো হচ্ছে, তখন বাংলায় এদিন সম্পূর্ণ লকডাউন থাকবে। রাজ্য সরকারকে এই সিদ্ধান্তে পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছিল বিজেপি। সেই প্রসঙ্গে দিলীপবাবু বলেন, “মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করেছে সরকার। কিন্তু মানুষ ঘরে বসেও এই দিন উৎসব পালন করবেন। আমি চাই গোটা রাজ্য ঘণ্টা বাজিয়ে, শঙ্খ বাজিয়ে বুঝিয়ে দেবে ওই মন্দির নির্মাণ নতুন ভারত গঠনের এক অধ্যায়ের সূচনা করল।”

এই প্রসঙ্গে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। তিনি বলেন, “কোনও কোনও স্বপ্ন খুব বড় হয়ে থাকে মানুষের মনে। এও তেমন এক স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্ন সফল হতে দেখার আনন্দের কাছে বাকি সব কিছুই ফিকে। এই অনুভূতি শুধু আমার নয়, বছরের পর বছর ধরে কবে অযোধ্যায় শ্রীরামের জন্মভূমিতে ভব্য মন্দির হবে তার অপেক্ষা করেছেন দেশের কোটি কোটি মানুষ।”

অযোধ্যায় রামমন্দিরের ভূমিপুজোর জন্য এই রাজ্য থেকেও গেছে জল, মাটি। গত সপ্তাহেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের উদ্যোগে হুগলি জেলার ত্রিবেণী থেকে সংগ্রহ করা হয় জল। সেই জল ইতিমধ্যেই অযোধ্যায় পৌঁছে গিয়েছে। ত্রিবেণী ঘাট থেকে নৌকোয় করে মাঝ গঙ্গায় গিয়ে গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী নদীর কল্পিত মিলন স্থল থেকে জল সংগ্রহ করা হয়।

এছাড়াও জলপাইগুড়ি জেলার জল্পেশ মন্দির থেকে কোচবিহারের মদনমোহন মন্দির– রাজবংশী অধ্যুষিত উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার ধর্মীয় স্থান থেকে মাটি এবং জল গেছে অযোধ্যায়। জটিলেশ্বর, মদনমোহন, বানেশ্বর, গোসানীমারি, ভামরী মন্দিরের মাটি সহ তিস্তা ও তোর্ষা নদীর জল সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে। অযোধ্যায় ভূমি পূজনের জন্য বেলুড় মঠ থেকেও মাটি পাঠানো হয়েছে।

বুধবার আমেরিকায় উৎসব পালনের কথাও জানিয়েছেন দিলীপবাবু । রাম মন্দির সূচনার সময়ে রাম এবং অযোধ্যা মন্দিরের ত্রিমাত্রিক ছবি ফুটে উঠবে নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কোয়ারে। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দিনভর হিন্দি ও ইংরেজিতে ‘জয় শ্রীরাম’ লেখা ফুটে উঠবে টাইমস স্কোয়ারের বিভিন্ন হোর্ডিং ও বিলবোর্ডে। সারাদিন ধরে দেখানো হবে রামের প্রতিকৃতি এবং নানা ভিডিও। রাম মন্দিরের নকশা ও স্থাপত্যের বিস্তারিত খুঁটিনাটিও দেখানো হবে। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ছবি এবং ভিডিও-ও প্রদর্শিত হবে দিনভর।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More