রবিবার, নভেম্বর ১৭

ভরসা রাখুন ভুট্টায়, সাত সমস্যার সমাধানে ভালো থাকবেন আপনি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুট্টা খেতে ভালোবাসেন আপনি? না বাসলেও আজ থেকে শপিং মল হোক বা রাস্তার ধারে গাছতলায়, যেখানেই ভুট্টা পাবেন কিনে খেয়ে ফেলুন।  এমনিই সারাদিন দৌড়ঝাঁপ, স্ট্রেসে নিজেদের দিকে কম সময়, কম নজর দিতে পারেন।  তাই যেটুকুই খাবেন সুস্থ থাকার জন্য খান।  অন্তত বেশ কিছু উপকার রয়েছে যে খাবারে, তাতেই মন দিন।  ভুট্টা এমনি খেতে অনেকেই বলেন কোনও স্বাদ পান না, শুধু চিবোতে হয়।  তাতে একটু স্বাদ আনতেই নুন, লেবু মাখিয়ে আমরা খাই।  এই ভুট্টাতেই এমন সব উপাদান রয়েছে, যা আপনার হার্ট, স্কিন, হাড় সবকিছুরই খেয়াল রাখে, জানেন কি?  ভুট্টায় থাকা ফাইবার, ফেরুলিক অ্যাসিড, ক্যারোটিন সহ নানা উপাদান আমাদের পুষ্টিগুণ বাড়াতে সাহায্য করে।

কোলেস্টরল কমাতে সাহায্য করে
ভুট্টায় ভিটামিন সি, বায়োফ্ল্যাভনয়েড, ক্যারটিনয়েড, ফাইবার থাকে যথেষ্ট পরিমাণে।  কোলেস্টরল যেখানে আমাদের নিত্যসঙ্গী, সেখানে ভুট্টায় থাকা এই জিনিসগুলো কোলেস্টরল কমাতে সাহায্য করে।  ফলে আমাদের শিরা-ধমনীও থাকে ঝঞ্ঝাটমুক্ত।  স্বাভাবিকভাবেই হার্টের সমস্যাও অনেকটাই কম হয়।

ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে
যত ফাস্টফুড-নির্ভর জীবন হচ্ছে, ততই ঘরে ঘরে ক্যানসারের থাবা বসছে।  অথচ হাতের কাছে ভুট্টা থাকলেও আমরা পাশ কাটিয়ে বার্গার-পিৎজার দোকানে চলে যাচ্ছি।  ভুট্টায় থাকা ফেরুলিক অ্যাসিডের মতো যৌগ আমার আপনার ব্রেস্ট এবং লিভারে থাকা টিউমারের সাইজ কমাতে সাহায্য করে।  এছাড়াও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফ্ল্যাভানয়েড থাকে ভুট্টায়।  যা ক্যানসারের কোষগুলোকে বাড়তে দেয় না।

গর্ভবতীদের কাজে আসে
মায়ের পেটের ভিতরে যখন সন্তান বাড়তে থাকে, তখন তার যথেষ্ট পুষ্টির দরকার হয়।  ভুট্টায় থাকে ফলিক অ্যাসিড।  এই অ্যাসিড গর্ভস্থ সন্তানের বেড়ে ওঠা এবং পুষ্টির জন্য ভীষণভাবে জরুরি।

কোষ্টকাঠিন্য কমায়
ফাস্ট লাইফ স্টাইল আর ফাস্টফুডে ভরসা, এই দুই নিয়েই জীবন এখন।  তাই বাড়িতে রান্না করা সবজি এখন আমরা খুবই কম খাই।  আর এতে পেটের গন্ডগোল হচ্ছে প্রায় সকলেরই।  কোষ্টকাঠিন্যের জন্য সারাদিনই যাচ্ছে নষ্ট হয়ে।  ভুট্টায় থাকা ফাইবার সহজেই এই সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে।  অনেক সময়েই আমাদের পায়ুনালী এবং অন্ত্র রোজ সঠিকভাবে পরিষ্কার হয় না, কিন্তু ভুট্টায় থাকা ফাইবার দায়িত্ব নিয়ে এই কাজটা করে দেয়।  তাই কোষ্টকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে ভুট্টা খেতেই পারেন প্রায়ই।

স্কিন সুন্দর করে
বয়স যতই বাড়ুক, চামড়া থাকবে টানটান।  কে না চায়? ভুট্টায় ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে অনেকটাই।  এই প্রতিটা জিনিসই চামড়া টানটান করে রাখে।  তাই বলিরেখার যে সমস্যা ৩০-৪০ বছরে শুরু হয়, তা ভুট্টা খেলে অনেকটাই আয়ত্তে রাখা সম্ভব হয়।

হাড় শক্ত করে
আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় প্রায় প্রতি ঘরেই কেউ না কেউ ভুগছেন।  জিঙ্ক, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন থাকে ভুট্টায়।  তাই ভুট্টা যত খাবেন, এই মিনারেলগুলো আপনার শরীরে পৌঁছে যাবে।  আর এগুলোই আপনার আর্থ্রাইটিসের ব্যথা অনেকটা কমিয়ে দিতে পারে।

গায়ে গত্তি লাগতে সাহায্য করে
আল্ট্রা থিন হতে সকলে যখন জিমে ছুটছেন, তখন এই পয়েন্টটা পড়ে নিশ্চয় ভুট্টা থেকে পিছিয়ে আসবেন।  কিন্তু যাঁরা অনেক কিছু খেয়েও কিছুতেই তালপাতার সেপাই থেকে উন্নীত হতে পারছেন না, তাঁরা ভুট্টায় ভরসা রাখুন।  এতে থাকা যথেষ্ট পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট এবং ক্যালোরি আপনাকে বেশ তাগড়া বানিয়ে দিতে পারে।

অতএব ভালো থাকতে ভালোবাসুন ভুট্টাকে।

Comments are closed.