বৃহস্পতিবার, মে ২৩

কেন চিন বার বার রক্ষা করছে মাসুদকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : এই নিয়ে চারবার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে জইশ ই মহম্মদ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করতে দিল না চিন। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চিন সেজন্য ভেটো প্রয়োগ করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, কেন মাসুদকে বার বার বাঁচাচ্ছে তারা? পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্যই কি? নাকি এর পিছনে আছে আরও বড় কারণ?

পর্যবেক্ষকদের মতে, মূলত দু’টি কারণে মাসুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে না চিনের পক্ষে। প্রথমত, চিন যদি মাসুদের বিপক্ষে পদক্ষেপ করে তাহলে অসন্তুষ্ট হবে পাকিস্তান। চিন মূলত পাকিস্তানের মাধ্যমেই মুসলিম দুনিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। কূটনৈতিক কারণে পাকিস্তানকে চটানো সম্ভব নয় চিনের পক্ষে।

দ্বিতীয়ত চিনের শিনজিয়াং প্রদেশেও জঙ্গিরা সক্রিয়। তাদের নিয়ে যথেষ্ট চিন্তা আছে বেজিং-এর। চিন যদি মাসুদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে, তাহলে জইশ হয়তো শিনজিয়াং-এর সন্ত্রাসবাদীদের মদত দিতে পারে। তাতে চিনের বিপদ বাড়বে।

চিন অবশ্য প্রকাশ্যে বলেছে, ভারত মাসুদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণ দিতে পারেনি।

চিনের শিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ লু ইয়াং বলেন, পাকিস্তানও জঙ্গিবাদের শিকার। আজহারকে সন্ত্রাসবাদী বলে ঘোষণা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সেজন্য চিন এসম্পর্কে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করেছে।

লু-র কথায়, মুসলিম দুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে পাকিস্তান আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। চিন এখন দেশের পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে চিন্তিত। এখানে তিনি শিনজিয়াং উইঘুর স্বশাসিত অঞ্চলের কথা বোঝাতে চেয়েছেন।

সাংহাই ইনস্টিটিউটস অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের চায়না-সাউথ এশিয়া কো-অপারেশন স্টাডিজের সাধারণ সম্পাদক লিউ জং ই বলেন, চিন যেভাবে তার দেশের মধ্যে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করে, তা ভারতের থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। তাঁর কথায়, শিনজিয়াং আর কাশ্মীর এক নয়। কাশ্মীর হল বিতর্কিত এলাকা। শিনজিয়াং তা নয়। ওই অঞ্চলটি নিরাপদ রাখার জন্য আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা করছি।

ভারতের সঙ্গে চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, ২০১৭ সালে ডোকলাম নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব পড়েছে। ভারতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা মাসুদ আজহারের বিষয়টিকে পুরো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত করে। ভারত মনে করে, চিন যদি ওই ইস্যুতে তাদের সমর্থন করে, তাহলে সামগ্রিকভাবে দুই দেশের সম্পর্ক প্রভাবিত হবে।

Shares

Comments are closed.