বেচুবাবু আসছেন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    কয়েক বছর আগে আমেরিকায় গিয়ে নরেন্দ্র মোদী যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জড়িয়ে ধরেছিলেন, তখন থেকেই নাকি দু’জনের দারুণ বন্ধুত্ব। যখনই দেখা হয়, খোশগল্পে মেতে ওঠেন দু’জনে। ভারতে হিন্দুত্ববাদীরা অনেকেই আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে খুব ভালোবাসেন। দু’-একটা হিন্দু গ্রুপ তো দিল্লিতে তাঁর জন্মদিনও পালন করে।
    ট্রাম্পও এমন ভাব দেখাচ্ছেন যেন তিনি মোদী ও তাঁর সমর্থকদের ভালোবাসায় মুগ্ধ। হোয়াইট হাউস থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মোদীর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। অর্থাৎ বন্ধুপ্রীতির টানেই তাঁর ভারতে আসা। কিন্তু সেকথা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
    তাহলে তিনি কেন আসছেন?
    তার কারণ দু’টো। রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক। দু’টো কারণ আবার পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
    সামনের নভেম্বরে আমেরিকায় ভোট। ট্রাম্পের শত্রুরা কিছুদিন আগে তাঁকে খুব জোর ফাঁসাতে গিয়েছিলেন। আর একটু হলে ইমপিচ করে ফেলতেন। ভোটেও তারা প্রেসিডেন্টকে হারানোর জন্য তেড়েফুঁড়ে লেগেছেন।
    এই অবস্থায় ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের ভোট পাওয়া ট্রাম্পের কাছে জরুরি। গতবারে তাঁরা ছিলেন ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে। এবার তেমন হলে চলবে না। তাই ট্রাম্প ভাবছেন, ভারতে এসে চারটি ভাল ভাল কথা বলে যাবেন। তাতে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মন ভিজবে।
    রাজনীতির পরে ব্যবসা। ট্রাম্প চান আমেরিকার জন্য বাজার খুলে দিক ভারত। আমেরিকায় উৎপাদিত দুধ, দুগ্ধজাত অন্যান্য পণ্য ছেয়ে যাক এদেশের বাজারে। সেই সঙ্গে তিনি গছিয়ে দিতে চান লক্ষ লক্ষ মুরগির ঠ্যাং। আমেরিকান সাহেবরা মুরগির ঠ্যাং খায় না। তাদের পছন্দ মুরগির বুকের দিককার তুলতুলে মাংস। তাই আমেরিকায় মুরগি মেরে ঠ্যাংগুলো এদেশে চালান করার চেষ্টা।
    এদেশে অনেকে অবশ্য আমেরিকা থেকে ঢালাও পণ্য আমদানি করতে রাজি নয়। ভারতে এসে ট্রাম্প তাদেরই বোঝানোর চেষ্টা করবেন। সেলসম্যানরা যেমন করে।
    আমেরিকায় লকহিড-মার্টিন নামে একটা কোম্পানি ট্রাম্পের খুব ঘনিষ্ঠ। ২০১৬ সালে তারা ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হতে খুব সাহায্য করেছিল। তারা অস্ত্রশস্ত্র বানায়।
    ভারতের সীমান্তের ওপারে দু’টো খুব গোলমেলে প্রতিবেশী আছে। একনম্বর পাকিস্তান। দু’নম্বর চিন। তাদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্য ভারতকে সবসময় তৈরি থাকতে হয়। নিয়মিত অস্ত্রশস্ত্র ও যুদ্ধের অন্যান্য সরঞ্জাম কেনাকাটা করতে হয়। এই সুযোগে লকহিড মার্টিন চায় ভারতে তাদের হেলিকপ্টার বেচতে। ট্রাম্পের ভারত সফরের সময় হেলিকপ্টার কেনার চুক্তি পাকা হবে। লকহিড কোম্পানির হয়ে তিনি ভারতকে কপ্টার বেচবেন। তার দাম ২১০০ কোটি ডলার। প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।
    বাড়ি বাড়ি যারা সাবান, ফিতে, চুলের ক্লিপ বেচতে আসে, অনেকে তাদের কটাক্ষ করে বলে বেচুবাবু। এখনকার দিনে তো অনেক ফ্ল্যাটবাড়ির বাইরে নোটিশ লটকে দেয়, সেলসমেন আর নট অ্যালাওড। কিন্তু বেচুবাবু যদি হন আমেরিকার রাষ্ট্রপ্রধান, তাঁকে লাল কার্পেট পেতে অভ্যর্থনা জানানো হয়।
    ভারতে এসে যদি সেলসম্যানের ভূমিকায় সফল হন, তাহলে ভোটে তাঁর সুবিধা। বিরোধীরা বলেন, লকহিড মার্টিন সেক্ষেত্রে তাঁর নির্বাচনী তহবিল ভরে দেবে। মুরগির ঠ্যাং যারা সাপ্লাই করে তারাও দেবে। ট্রাম্প প্রচারে ঝড় তুলবেন। জাতীয়তাবাদের কথা বলে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবেন। সব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাই যেমন করেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More