জলপাইগুড়িতে সেলুন বন্ধের ডাক, ওবিসি মর্যাদা চান ক্ষৌরকাররা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠাকুর পদবিধারী ক্ষৌরকাদের নতুন করে ওবিসি শংসাপত্র চালু করার দাবিতে ৯ জানুয়ারি উত্তরবঙ্গে সমস্ত সেলুন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল ক্ষৌরকারদের সংগঠন। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ক্ষৌরকারদের জন্য পৃথক বোর্ড গঠনের দাবি করেছে উত্তরবঙ্গ ক্ষৌরকার শীল সমন্বয় কমিটি।

    অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি হরেকৃষ্ণ শর্মা জানিয়েছেন, দাবি পূরণের জন্য জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে ৯ জানুয়ারি তাঁরা প্রকাশ্য সমাবেশের আয়োজন করেছেন। সেদিন বিকেল থেকে শুরু হবে দু’দিনের সম্মেলন। এই সম্মেলনে ক্ষৌরকারদের জন্য আলাদা বোর্ড গঠনের দাবি নিয়ে আলোচনা হবে। সম্মেলনের আগে তাঁরা মিছিলও করেছেন।

    কমিটি দাবি করেছে, পশ্চিমবঙ্গে পূর্বতন সরকারের আমলে ঠাকুর পদবিধারী ক্ষৌরকারদের অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর (ওবিসি) শংসাপত্র দেওয়া হত কিন্তু বর্তমানে তা দেওয়া হয় না। তাঁরা চান এই সুবিধা ফেরানো হোক। একই সঙ্গে পৃথক বোর্ড গঠনের দাবিতে উত্তরবঙ্গের আটটি জেলার ক্ষৌরকারদের সম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। গত দু’বছর ধরে তাঁরা এই দাবি করে আসছেন।

    ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে নমঃশূদ্রদের জন্য পৃথক বোর্ড গঠন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মতুয়া সম্প্রদায় এই গোষ্ঠীভুক্ত। তাঁদের অভাব-অভিযোগ জানানোর জন্য ও উন্নতির কথা ভেবে এই বোর্ড তৈরি করা হয়। এবার সেই উত্তরবঙ্গ থেকেই ক্ষৌরকাররা পৃথক বোর্ড গঠনের দাবি তুলেছেন।

    ক্ষৌরকারদের একদিনের ধর্মঘট জনজীবনে কতটা প্রভাব ফেলবে সে কথা বলা মুশকিল। যাঁদের অশৌচান্ত হবে তাঁরা অবশ্য সমস্যায় পড়তে পারেন এই সিদ্ধান্তের ফলে। এরাজ্যে স্মরণকালে ক্ষৌরকারদের কোনও ধর্মঘট হয়েছে বলে কেউ মনে করতে পারছেন না, তাও আবার রাজ্যের একটি বড় অংশ জুড়ে।

    ক্ষৌরকাররা তাঁদের সম্মেলনে সরকারি প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাঁদের কাছে নিজেদের দাবি পেশ করবে উত্তরবঙ্গ ক্ষৌরকার শীল সমন্বয় কমিটি। সেই দাবি নিয়মমাফিক সরকারকে জানানো হবে। সরকারের অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দফতর সেই দাবি বিচার করে দেখবে।

    দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সম্প্রদায় ওবিসি-ভুক্ত হওয়ার দাবিতে আন্দোলন করেছে, কোনও কোনও আন্দোলনের ছাপ পড়েছে পুরো দেশে। সম্প্রতি গুজরাটে পটেল ও পাতিদারদের আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল। পশ্চিমবঙ্গে অবশ্য জাতপাত নিয়ে আন্দোলন আগে সেভাবে দেখা যায়নি। এরাজ্যে পূর্ববঙ্গ থেকে আসা মতুয়ারা আন্দোলন করলেও বংশানুক্রমিক পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এই ধরনের আন্দোলন করেননি। আদিবাসীদের বিভিন্ন আন্দোলনের সাক্ষী অবশ্য থেকেছে রাজ্য।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More