রবিবার, জুন ১৬

আপনার সুরাকে আরও সুরভিত করেন যাঁরা, এই প্রতিযোগিতা তাঁদের জন্য

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেই একটা গল্প ছিল না! এক সুরা রসিককে জিজ্ঞেস করা হল, আপনি কবে কবে মদ্য পান করেন? তাঁর ঝটিতি জবাব, মাত্র দু’দিন। যে দিন বৃষ্টি পড়ে, আর যে দিন পড়ে না।

আমরা সবাই ঠিক এতটা নেশাড়ু নই ঠিকই। তবে ডাক্তারের কড়া নিষেধ বা বেটার হাফ-এর অনুশাসন সত্ত্বেও একা কিংবা সবান্ধব পাব বা বারে মাঝেমধ্যে এক-আধ দিনও যান না, এমন আত্মসংযম ক’জন দেখাতে পারেন আজকের দিনে?

আমরা বার বা পাবে যাই, পানীয় অর্ডার করি, ধীরে বা দ্রুত পান করি, দক্ষিণা মেটাই, মুখে একটু মৌরি ফেলি এবং বেরিয়ে যাই। কত জনই বা খেয়াল করি, যে এই গোটা প্রক্রিয়ার মধ্যে একটা শিল্প আছে, এবং সেই শিল্পীর নাম বার টেন্ডার। তিনি আপনার পানীয়ের রূপ-রস-বর্ণ-গন্ধের অন্যতম কারিগর!

আমরা অনেকেই হয়তো জানি না, এক জন সফল ও আদর্শ বার টেন্ডারকে একটি-দু’টি নয়, পাঁচটি বিষয়ে পারদর্শী হতে হয়। থাকতে হয় বিভিন্ন পানীয় সম্পর্কে গভীর জ্ঞান। জানতে হয়, কী ভাবে ঢালতে হবে  (pouring)। কী ভাবে তার ঘ্রাণ নিতে হবে (nosing)। কী ভাবে কীসের সঙ্গে কতটা অনুপাতে তা মেশাতে হবে (mixing)। আর সব শেষে কী ভাবে তা পরিবেশন (serving) করতে হবে।

এখন কে এই আদর্শ বার টেন্ডার, যে এই পাঁচটি গুণে পর্যাপ্ত রকমের গুণী, তাঁকে বাছতে যে আবার প্রতিযোগিতাও হয়, জানতেন কি? তা-ও আবার দেশ জুড়ে, অনেক দিন ধরে, বেশ কয়েকটি রাউন্ডে!

কলকাতার ‘পার্কিং লট’-এ সোমবার এ রকমই যে প্রতিযোগিতা হয়ে গেল, তাতে অংশ নিয়েছিলেন দেশের পূর্ব প্রান্তের বাঘা সব বার-টেন্ডাররা। স্বনামধন্য স্কচ ব্র্যান্ড ‘মাঙ্কি শোল্ডার’ এই প্রতিযোগিতার আয়োজক।

এ দিনের প্রতিযোগিতায় সেরা স্কোরার হলেন সৌরভ সিং, বারটেন্ডিং-এ যাঁর অভিজ্ঞতা আট বছরের। কলকাতা ছাড়াও গোয়া, দুবাই– ইত্যাদি নানা জায়গায় বড় বড় জায়গায় যিনি কাজ করে এসেছেন। সৌরভ বললেন, “বারটেন্ডিং শুধু আমার পেশা নয়, প্যাশনও বটে। এই কম্পিটিশনে আসতে পেরে, এই কাজে সেরাদের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরে আমি ধন্য। মাঙ্কি শোল্ডারকে ধন্যবাদ।”

মাঙ্কি শোল্ডারের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর পঙ্কজ বালচন্দ্রনও এই ইভেন্টটি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। তাঁর কথায়, “আমাদের হুইস্কি একটা আধুনিক হুইস্কি, আমাদের এপ্রোচটাও নতুন। আমরা বার কমিউনিটিকে আরও বেশি বেশি করে এনগেজ করতে চাই।”

কলকাতার উইনার সৌরভকে এ বার আরও দু’রাউন্ড লড়তে হবে হায়দরাবাদ আর বেঙ্গালুরুতে। শেষে হবে গ্র্যান্ড ফিনালে, সেখানে যিনি সেরা নির্বাচিত হবেন, তাঁর পুরস্কার সম্পূর্ণ নিখরচায় অক্টোবরে লন্ডন ককটেল উইকে সামিল হওয়া।

মাঙ্কি শোল্ডার সংস্থাটি তৈরি করেছিলেন উইলিয়াম গ্র্যান্ড অ্যান্ড সনস। ১৮৮ সালে স্থাপিত এই সংস্থাই তৈরি করে গ্লেনফিডিশ বা ব্যালভেনির মতো বিশ্বখ্যাত সিঙ্গল মল্ট হুইস্কি। এদের তৈরি ব্লেন্ডেড স্কচও পৃথিবীর সব চেয়ে বিক্রিত তিনটি ব্র্যান্ডের মধ্যে একটি।

Comments are closed.