শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

বিরাট সংকটের মুখে পড়তে চলেছে ব্যাঙ্কগুলি, সতর্ক করলেন নোবেলজয়ী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো : নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরেই তিনি ভারতের অর্থনীতির বেহাল অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বুধবার ফের দেশের ব্যাঙ্কিং সেক্টর নিয়ে সতর্ক করলেন সদ্য নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ব্যাঙ্কিং সেক্টর গভীর সংকটে পড়তে চলেছে। অবিলম্বে তা ঠেকাতে ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে অবস্থা আরও খারাপ দাঁড়াবে।

কিছুদিন আগেই মুম্বইয়ের পাঞ্জাব মহারাষ্ট্র কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে বিরাট কেলেংকারির কথা জানাজানি হয়ে গিয়েছে। এই প্রেক্ষিতে অভিজিতবাবু বলেন, আমার মনে হয়, বহু বছর ধরে ব্যাঙ্কে নানা সমস্যা রয়েছে। তার ফলেই এখন ব্যাঙ্কগুলি গভীর সমস্যায় পড়েছে। ব্যাঙ্কগুলির হাল ফেরাতে অনেক টাকা লাগবে। সরকারের হাতে অত টাকা নেই। আমার মনে হয়, এই অবস্থায় রুগণ ব্যাঙ্কগুলি বেচে দিয়ে সরকারের টাকা তোলা উচিত।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক এখন গুরুতর সংকটের মুখে। যত সংকট বাড়বে ততই নানা সমস্যার কথা জানা যাবে। এরকমই হয়। বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্কের অবস্থা এখন ভালো নয়। তাদের বাঁচাতে যে অর্থ প্রয়োজন তার পরিমাণ বিপুল।

টাকা সংগ্রহের জন্যই কয়েকটি ব্যাঙ্ক বিক্রি করে দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। তাঁর কথায়, রুগণ ব্যাঙ্কগুলির বেশ কয়েকটি শাখা আছে। সেখানে অনেক যোগ্য কর্মীও আছেন। সুতরাং ওই ব্যাঙ্কগুলি বিক্রি করা কঠিন হবে না। সেই অর্থ অন্যান্য ব্যাঙ্কগুলিকে বাঁচানোর কাজে ব্যয় করা যেতে পারে।

সম্প্রতি পাওয়া একটি তথ্যে জানা যায়, ভারতের বৃহত্তম ব্যাঙ্ক, স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া ৭৬ হাজার ৬৬০ কোটি টাকার ঋণ মকুব করে দিয়েছে। ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ২২০ জন ১০০ কোটি টাকার বেশি নিয়েছিলেন। অভিজিতবাবুর মতে ব্যাঙ্কগুলির সংকট বাস্তবে আরও গভীর। তাঁর কথায়, ব্যাঙ্কগুলিতে একপ্রকার অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। আমি আমানতকারীদের দোষ দিতে পারি না। আমি মনে করি, সংকট খুবই গভীর। এখনও পর্যন্ত এসম্পর্কে যা জানা গিয়েছে, তা হিমশৈলের চূড়া মাত্র।

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সম্পর্কে তিনি বলেন, তাদের আগে ব্যাঙ্কগুলিকে সতর্ক করা উচিত ছিল। তা তারা করেনি। আচমকা জানা যাচ্ছে, ব্যাঙ্কগুলি সংকটে পড়েছে। এই সুযোগে রুগণ ব্যাঙ্কগুলির বেসরকারিকরণ করা যেতে পারে।

কিছুদিন আগেই জানা যায়, গত তিনবছরে ব্যাঙ্কগুলি মোট ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ মকুব করে দিয়েছে। যাঁরা ঋণ নিয়ে শোধ করেননি, তাঁদের মধ্যে ৪১৬ জন ১০০ কোটি অথবা তার বেশি ঋণ নিয়েছিলেন।

Comments are closed.