দুর্গাপুজোয় তিন দিনের ছুটি চাইলেন বাংলাদেশের হিন্দুরা

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুজোয় তিন দিনের ছুটি চান বাংলাদেশের হিন্দুরা

বাংলাদেশে হিন্দুরাই দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জনগোষ্ঠী! সারা বছর ধরে বাংলাদেশের হিন্দুরা বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় আচার উপাচার পালন করে থাকেনl  আজ শুক্রবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন দুর্গাপুজো উপলক্ষে তিনদিনের সরকারি ছুটির আবেদন জানিয়েছেনl একই সঙ্গে এই সভা থেকে সারা বাংলাদেশ জুড়ে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদও জানানো হয়েছে।
আজকের বিক্ষোভ সমাবেশের নেতৃত্ব দেন হিন্দু মহাজোটের সভাপতি প্রভাসচন্দ্র রায়। তাঁর বক্তৃতায় প্রভাসবাবু বলেন, যে তাঁরা বর্তমান সরকারের কাছে আশা করেছিলেন পুজোর সময় সরকারি ছুটি এক দিনের পরিবর্তে তিন দিন করা হবে। কিন্তু হাসিনা সরকার  এ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। প্রভাসবাবুর কথায়, দুর্গাপুজো বাংলাদেশে এখন আর শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। এটি বাংলাদেশে বসবাসকারী সকল মুসলিম হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার অনুষ্ঠান, একটি জাতীয় অনুষ্ঠান এবং  আপামর বাঙালির ঐক্য সম্প্রীতির মিলন উৎসব। অথচ এতবড় উৎসবের জন্য বাঙালি ছুটি পান মাত্র এক দিন। এবং ছুটি মেলে কেবল  দশমীর দিনে। মাত্র একদিন ছুটি থাকায় অনেক পরিবার একত্রিত হওয়ার সময়টুকুও পান না।

এই সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশকান্তি দে। বক্তব্য রাখেন  শারদাঞ্জলি ফোরামের (ঢাকা মহানগর) সভাপতি রতনচন্দ্র পাল ও বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের নির্বাহী সভাপতি বাবুল দাশ।

হিন্দু পরিষদের মুখপাত্র সুমনকুমার রায় বলেন, যে তাঁরা আশা করেছিলেন বাংলাদেশের সব ধর্মেরই মানুষ সমান সুবিধা পাবে, যেহেতু বাংলাদেশের জাতীয় চেতনার একটি স্তম্ভ  অসাম্প্রদায়িক মনোভাব। কিন্তু সংবিধানের এই প্রতিশ্রুতি কেবল কাগজেকলমেই রয়ে গেছে। ধর্মীয় গোঁড়ামি বাংলাদেশের এক শ্রেণির মানুষকে অজ্ঞ  করে রেখেছে। যার কারণে হিন্দু-সহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা  প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন!

কুষ্টিয়ায় শিশু দেব দত্তকে অপহরণ ও হত্যা, রাজবাড়িতে কিশোরীকে অপহরণ, কিশোরগঞ্জে হিন্দু পরিবারের মা-মেয়েকে গণধর্ষণ-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির দখল এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নিপীড়ন ও নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয় এই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে !

শুক্রবারের এই সমাবেশ থেকে হাসিনা সরকারকে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয় l সমাবেশ থেকে উঠে আসা  দাবি পূরণ না হলে বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় একযোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করবেন বাংলাদেশের  হিন্দু সংগঠনগুলি। যাদের মধ্যে আছে, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট, বাংলাদেশ অগ্নি বীর, বাংলাদেশ মাইনরিটি পার্টি, বাংলাদেশ মাইনরিটি ইউনাইটেড ফ্রন্ট, বাংলাদেশ দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু স্বয়ং সেবক সংঘ, জাগো হিন্দু বাংলাদেশ, হিন্দু সমাজ, হিন্দু লীগ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ–ঢাকা মহানগর উত্তর, পার্থসারথি গীতা শিক্ষা ফাউন্ডেশন-সহ আরও অনেক সংগঠন !

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More