বুধবার, অক্টোবর ১৬

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর ডেঙ্গি মহামারী, আবহাওয়ার পরিবর্তনকে দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : চলতি বছরের শুরু থেকেই ডেঙ্গি রোগ ছড়াচ্ছিল বাংলাদেশে। জুলাই মাসে রীতিমতো ডেঙ্গি মহামারী দেখা দিয়েছে আমাদের প্রতিবেশী দেশে। হাজার হাজার মানুষ ওই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। বাংলাদেশ বাদে সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়াতেই ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গি। বিজ্ঞানীরা বলছেন তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্যই এডিস ইজিপ্টাই মশার বাড়বাড়ন্ত দেখা গিয়েছে। ওই মশাই ডেঙ্গির জীবাণু বহন করে।

বাংলাদেশে সোম ও মঙ্গলবার নতুন করে ডেঙ্গি ধরা পড়েছে ১ হাজার মানুষের দেহে। তাদের বেশিরভাগই শিশু। মঙ্গলবার বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রক স্বীকার করেছে, দেশের ইতিহাসে এত মারাত্মক ডেঙ্গি মহামারী আর কখনও হয়নি। জানুয়ারি থেকে দেশে ডেঙ্গিতে মারা গিয়েছেন আটজন। এখনও পর্যন্ত ওই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৬০০ জন। তার মধ্যে শুধু জুলাই মাসেই ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৩৪৮ জন। জুন মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮২০ জন। মে মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮৪ জন।

স্বাস্থ্য পরিষেবা দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর আয়েশা আখতার বলেন, ২০০০ সাল থেকে আমরা ডেঙ্গি সংক্রমণ সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য সংরক্ষণ করছি। এবছর দেশের ৫০ টিরও বেশি জেলায় ওই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা গিয়েছে রাজধানী ঢাকায়। দু’কোটি মানুষের বাসস্থান ঢাকা শহরে হাসপাতালগুলি ডেঙ্গিতে আক্রান্তদের জায়গা দিতে পারছে না। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গি আক্রান্তদের জন্য বিশেষ বিভাগ খোলা হয়েছে।

ডেঙ্গিতে সাধারণ ফ্লুর মতো লক্ষণ দেখা যায়। রোগীর মাথায় যন্ত্রণা হয়। মাংসপেশী ও গাঁটে ব্যথা হয়। শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে। গায়ে র‍্যাশ দেখা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছরে ১০ লক্ষ মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হন। তাঁদের মধ্যে পাঁচ লক্ষ মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। ১২ হাজার ৫০০ জন মারা যান। বাংলাদেশ সরকার ডেঙ্গি মহামারীর মোকাবিলায় হু-র সাহায্য চেয়েছে। সেই সঙ্গে একটি ন্যাশনাল ট্রিটমেন্ট গাইডলাইন তৈরি হয়েছে। ওই রোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা হচ্ছে।

ফিলিপাইন্স জুলাই মাসে দেশ জুড়ে ডেঙ্গি অ্যালার্ট জারি করেছে। বছরের প্রথম ছয় মাসে সেদেশে ওই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লক্ষ মানুষ। গত বছরের তুলনায় ফিলিপাইন্সে ওই রোগের প্রকোপ বেড়েছে ৮৫ শতাংশ।

Comments are closed.