বরের বাড়িতে বিয়ে করতে গেলেন কনে, নতুন-বর নিয়ে ফিরলেন নিজের বাড়ি! কোথায় এমন ছক ভাঙল?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের আসরে সেজেগুজে বসে রয়েছেন বর। কনে আসার সময় হয়ে গেছে, চার দিকে চলছে ব্যস্ততা। হঠাৎই হইহই করে কনেযাত্রীদের নিয়ে চলে এলেন কনে। বরণ করা হল তাঁকে। শুরু হল বিয়ে।

    না, প্রথম অনুচ্ছেদে কিছুই ভুল লেখা নেই। আদতে এমন উলটপুরাণই ঘটেছে ওপার বাংলার একটি পরিবারে। সমাজব্যবস্থায় চিরকাল চলে আসা চেনা ছবি বদলে দিয়েছেন এক তরুণী। তাঁকে বিয়ে করতে আসেননি বর, তিনিই বিয়ে করতে গেছেন বরকে। বরের বাড়িতেই। অবাক লাগলেও, এমন ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী রইল ওপার বাংলার মেহেরপুর।

    চুয়াডাঙার হাজরাহাটি গ্রামের বাসিন্দা খাদিজা আক্তার খুশি  কুষ্টিয়ার ইসলামিয়া কলেজের ছাত্রী। কিছু দিন আগে, মেহেরপুরের গাংনি চৌগাছার বাসিন্দা, পেশায় ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম জয়ের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয় খুশির। কিন্তু খুশি আগেই শর্ত দিয়েছিলেন, চিরাচরিত নিয়ম মেনে বিয়ে করবেন না তিনি। বর আসবেন দলবল নিয়ে, তাঁকে নিয়ে চলে যাবেন– এমনটা বিলকুল না-পসন্দ ছিল তাঁর। তাই চেয়েছিলেন, তিনিই যাবেন বরের বাড়ি। বিয়ে সেখানেই হবে। তার পরে বিয়ে করে বর নিয়ে নিজের বাড়ি আসবেন তিনি।

    প্রথমে তাঁর এই আবদার শুনে সকলেই বলেছিলেন, এমনটা হয় না কখনও। বিয়ের রীতিতে এমন কাণ্ড বেমানান। কিন্তু খুশির জেদ একটাই। রীতি তিনি ভাঙবেনই। তাঁর নিজের বাড়িতে এসে কেউ তাঁকে বিয়ে করে নিয়ে যাবে, এমনটা চলবে না। তিনিই বিয়ে করবেন বরের বাড়ি গিয়ে।

    শেষমেশ খুশির শর্ত মেনেই শনিবার দুপুরে বিয়ের আসর বসে জয়ের বাড়িতে। সাতটি বাস এবং ৩০টি বাইকে চড়ে কনেযাত্রীরা বরের বাড়ির সামনে পৌঁছায় সন্ধেবেলা। আর পাঁচটা বিয়েবাড়ির মতোই তুমুল হইচই তখন বিয়েবাড়ি জুড়ে।

    বাড়ির গেটের সামনে লাল বেনারসি পরে বাস থেকে নামেন কনে। তাঁকে ফুল দিয়ে, মিষ্টি খাইয়ে বরণ করে নেয় বরপক্ষ। এর পরেই শুরু হয় বিয়ে। বাড়ির সকলের উপস্থিতিতে বিয়ে হয় দু’জনের। খাওয়াদাওয়া সারেন দুই পরিবারের লোকজন। এর পরে সদ্য বিবাহিত বরকে নিয়ে খুশি চলে যান বাপের বাড়িতে। সেখানেই কয়েক দিন কাটাবেন সদ্যবিবাহিত দম্পতি খুশি-জয়। তার পরে জয়ের বাড়িতে ফিরবেন তাঁরা।

    খুশির ছক ভাঙার খবর রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। অভিনন্দনের জোয়ারে ভেসে যান তিনি। প্রায় সকলেই বলেছেন, বহু দিন ধরে চলে আসা পিতৃতান্ত্রিক বিয়ের রীতি ভেঙে খুব ভাল কাজ করেছেন খুশি।

    খুশি নিজে বলেন, “নারী-পুরুষের সমান অধিকার। তাই আমি মেয়ে হয়েও এক জন ছেলেকে বিয়ে করতে গিয়েছিলাম। নিয়মের বৃত্ত ভাঙতে শুরু করেছি আমরা। আশা করছি আরও অনেকেই এ রকম করবেন।” তবে সমালোচনাও করেছেন কেউ কেউ। বলেছেন, নারী-পুরুষের অধিকার যদি সমানই হবে, তা হলে কী এসে যায় বিয়ের জায়গা নিয়ে।

    পড়তে ভুলবেন না…

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More