বুধবার, জানুয়ারি ২৯
TheWall
TheWall

ভয়ঙ্কর দূষণ, সঙ্গী কুয়াশা! শ্বাসকষ্ট আর রক্তপাতে ভুগছে গোটা শহর, বন্ধ প্রায় ৫০০ স্কুল

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। হাপরের মতো ওঠানামা করছে বুক। কাশির দমকে প্রাণ ওষ্ঠাগত। নাকমুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছে রক্তের দলা। শুধু মানুষ নয়, এভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে পোষ্যেরাও! থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্কক শহর জুড়ে প্রবল দূষণের কারণে এমনই প্রাণঘাতী অবস্থা চলছে বলে জানা গিয়েছে। গত ১৫ দিন ধরে কুয়াশা আর দূষণ মিলে স্মগের চাদর মুড়ে আছে সারা শহরে, শহরবাসীর ফুসফুসেও জড়িয়ে গিয়েছে সেই চাদর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহর জুড়ে অসংখ্য গাড়ি, বড় বড় নির্মাণ, এবং হোটেলের উনুন বেড়ে যাওয়ার কারণে এই অবস্থা হয়েছে ব্যাঙ্ককের। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ছড়িয়েছে দুঃসহ অবস্থার ছবি। কোনও ছবিতে দেখা যাচ্ছে রুমালে করে নাকের রক্ত মুছছেন তরুণী, কোথাও আবার কারও চোখ টকটকে লাল হয়ে গিয়েছে। সারা শহরের মানুষ মুখোশ পরে বেরোচ্ছেন রাস্তায়।

কুয়াশা আর দূষণে আচ্ছন্ন শহর।

অফিসকর্মী নুত্তাউট সিরিচাইনাউমিত বলছেন, “দিন কয়েক ধরেই প্রশ্বাস নেওয়ার সময়ে জ্বলে যাচ্ছিল নাক। তার পরে রাতে হঠাৎ হাঁচি শুরু হল, আর সকাল থেকে দেখছি, হাঁচির সঙ্গে নাক থেকে বেরিয়ে আসছে দলা দলা রক্ত। প্রচণ্ড চমকে যাই আমি। আগে কখনও হয়নি এমন। ভয়ঙ্কর ধুলোর কারণেই এই অবস্থা মনে হয়।”

ক্রমাগত হাঁচির সঙ্গে নাক থেকে রক্ত পড়ছে।

সিনি প্রেম্মানুসপাইসাল নামের আর এক শহরবাসী আবার ভুগছেন ফুসফুসের সংক্রমণে। তিন দিন ধরে ক্রমাগত বমি হচ্ছে তাঁর। কফের সঙ্গে উঠে আসছে রক্ত। এর আগে কোনও শ্বাসপ্রশ্বাসের অসুখ হয়নি তাঁর। তিনি বলেন, “দূষিত হাওয়ায় মিশে আছে অসংখ্য জীবাণু। সুস্থ মানুষকেও অসুস্থ করে তুলছে এই পরিস্থিতি।”

শিশুদের নিয়ে রীতিমতো আতঙ্ক বাড়ছে।

অবস্থা এতটাই বিপজ্জনক, শিশুদের রাস্তায় বেরোতে বারণ করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে প্রায় ৫০০টি স্কুল। রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। এমনকী দূষণের কারণে ধোঁয়াচ্ছন্ন আকাশে উড়তে পারছে না বিমানও। ড্রোন উড়িয়ে আকাশে জল ছিটিয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে দূষণ। তবে উড়ছে বিমান!

ড্রোন উড়িয়ে জল ছেটানো হচ্ছে আকাশে।

ব্রঙ্কাইটিস ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীতে উপচে পড়ছে ব্যাঙ্ককের হাসপাতালগুলি। আইসিইউ-তেও স্থান সঙ্কুলান হচ্ছে। কারও কারও চোখ থেকেও রক্ত পড়ছে।খুন সংসামুত নামের এক রোগীর কথায়, “এভাবে বাঁচব না। দূষণেই মরে যাব। কিছু করা উচিত।” কিন্তু কিছুই করা হয়নি এখনও। বেড়েই চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। ক্রমে আরও বেশি করে আবছা হয়ে যাচ্ছে গোটা শহর। অসংখ্য পশুপাখিও অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছে রোজ।

পোষ্যেরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

তিলধারণের জায়গা নেই পশু হাসপাতালগুলোতেও। ‘পেট অ্যান্ড অ্যাকোয়াটিক অ্যানিম্যাল হসপিটাল’-এ পোষ্য খরগোশ জুব্বুকে নিয়ে এসেছেন মালিক। তাঁর দাবি, জুব্বুর হাঁচি থামছেই না। সঙ্গে রক্তও পড়ছে। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, খরগোশটির নাকের ভিতরটা লাল হয়ে ফুলে রয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, প্রবল দূষণেই এই অবস্থা জুব্বুর। সংক্রমণ ছড়িয়েছে ফুসফুস পর্যন্ত। মালিক বলছেন, “ওকে বাড়ি থেকে বেরোতে দিই না। তাও বাঁচাতে পারলাম না সংক্রমণ থেকে। আমার বাড়ির ভেতরটাও ধোঁয়া-ধোঁয়া হয়ে আছে।”

ভয়াবহ পরিস্থিতি শহরের, দেখুন ভিডিও।

অনেকে আবার পোষ্যের অসুবিধা বুঝতে পারার আগেই আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। একটি পোষ্য পুডল কুকুর যেমন ডাকছিল না এক সপ্তাহ ধরে। পরীক্ষায় জানা গেল, ভোকাল কর্ড প্রায় নষ্ট হয়ে গিয়েছে তার। ফুসফুসে থিকথিক করছে ধুলো। প্রায় মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে এসেছে সে। মালিক বললেন, “ওর অবস্থা দেখে যেন সকলে সতর্ক হয়। নিজেদের সঙ্গে সঙ্গে ওদেরও সামলে রাখতে হবে।”শহরের এই অবস্থায় সরকারের কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, সরকার আকাশে জল দিচ্ছে, স্কুল বন্ধ রাখছে। কিন্তু আসল সমস্যা যে দূষণ, তা বন্ধ করতে কিছুই করছে না।

Share.

Comments are closed.