সোমবার, এপ্রিল ২২

পাক সীমান্তে এখনও সেনাবাহিনীকে হাই অ্যালার্ট রাখা হয়েছে, জানালেন নির্মলা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : পুলওয়ামা থেকে বালাকোট। সীমান্তে যুদ্ধের প্রস্তুতি। একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিককে এসব নিয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তিনি প্রথমেই জানিয়েছেন, পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার পরে পাকিস্তান সীমান্তে এখনও উত্তেজনা কমেনি। সেনাবাহিনীকে ‘হাই অ্যালার্ট’ থাকতে বলা হয়েছে। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রী শাহ মহম্মদ কুরেশি সম্প্রতি বলেছেন, ভারত শীঘ্রই আমাদের আক্রমণ করবে। সীতারমন সেই মন্তব্য উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক মহলের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য তিনি ওই কথা বলেছেন।

তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, কুরেশি তো বলেছেন, আগামী ১৬ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে ভারত পাকিস্তানকে আক্রমণ করবে। আপনি কী বলবেন? প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, ২০১৬ আর ২০১৯-এর শিক্ষা ভুলতে পারছে না পাকিস্তান। ভারত বরাবরের মতো এবারও দায়িত্বশীল শক্তি হিসাবেই কাজ করেছে। আমরা কখনই আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করিনি। পুলওয়ামার ঘটনার পরে ১০-১২ দিন অপেক্ষা করে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।

পাকিস্তানকে দোষারোপ করে তিনি বলেন, তারা বলে, সন্ত্রাসবাদের জন্য তাদেরও অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাই যদি হবে, তারা সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি কেন? জইশ ই মহম্মদ নিজে পুলওয়ামায় হানার দায়িত্ব স্বীকার করেছিল। বালাকোটে তাদের প্রশিক্ষণ শিবিরে আত্মঘাতী বোমারুদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। আমি তাদের সম্পর্কে ফিদায়েঁ শব্দটি ব্যবহার করতে চাই না। কারণ এতে তাদের গৌরবান্বিত করা হয়। প্রশ্ন হল, বালাকোটে জইশের শিবির আছে জেনেও পাকিস্তান ব্যবস্থা নেয়নি কেন?

বালাকোট সম্পর্কে সীতারমন বলেন, আমরা যখন দেখলাম পাকিস্তান সরকার জইশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তখন নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বালাকোটে অভিযান চালিয়েছি। আমরা লক্ষ্যে আঘাত করে ফিরে এসেছি। কোনও নিরীহ মানুষ মারা যাননি।

পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমান ধ্বংস নিয়েও মুখ খুলেছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। একটি মহলের দাবি, পাকিস্তানের কোনও এফ-১৬ বিমান ধ্বংস হয়নি। নির্মলা বলেন, আমরা যে এফ-১৬ বিমান ধ্বংস করেছি, তার প্রমাণ আছে। ওই বিমানের পাইলট যে প্যারাসুট নিয়ে লাফ দিয়েছিলেন, তার ছবি তোলা হয়েছে।

বিজেপির ইস্তাহারে বলা হয়েছে, তারা গত পাঁচ বছরে প্রতিরক্ষার নতুন সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। সীতারমনকে এসম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে এনডিএ ক্ষমতায় আসার পরে প্রথম দু’বছর তেমন কিছু কেনা হয়নি। আমাদের কী পরিমাণে সরঞ্জাম আছে, তা বুঝতেই দু’বছর কেটে গিয়েছিল। পরে অরুণ জেটলি যখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হন, তখন থেকে সেনাবাহিনীকে আধুনিক করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

Shares

Comments are closed.