শনিবার, মার্চ ২৩

রাস্তা জুড়ে দাঁড়িয়ে হাতি, চার পায়ের মাঝে পড়ে গেল শিশু! তার পর…

হাতির পায়ের তলায় পড়েও প্রাণে বেঁচে গেল শিশু! একেই কি বলে, রাখে হরি মারে কে!

বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি গরুমারা জাতীয় উদ্যানের মহাকাল এলাকার ঘটনায় এখনও আতঙ্ক কাটেনি। ওই শিশু-সহ গোটা পরিবার এখন জলপাইগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রাণে বেঁচে যাওয়ার স্বস্তি থাকলেও, ঘটনার কথা মনে পড়লেই শিউরে উঠছেন সকলে।

সূত্রের খবর, ডুয়ার্সের ন্যাওড়া এলাকা থেকে স্কুটিতে চেপে লাটাগুড়ি মহাকাল মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন বছর তিরিশের যুবক রিঙ্কু ঘোষ। সঙ্গে ছিলেন সরস্বতী ঘোষ ও তাঁর তিন বছরের শিশুকন্যা অহনা ঘোষ। পুজো দিয়ে ফেরার পথে মন্দিরের কাছেই রাস্তা পার হচ্ছিল ১৫টি হাতির একটি দল।

রিঙ্কু ঘোষ জানান, হাতির দল দেখে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যায় অনেকগুলি গাড়ি। তিনি বলেন, “স্কুটি নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ি আমিও। হাতির দলটি পার হয়ে গেলে ফের স্কুটি চালু করে কিছু দূর গেলে, সামনে একটি হাতি পড়ে যায় আচমকা। আমি স্কুটিতে ব্রেক করলে আমার স্ত্রী সরস্বতী রাস্তার পাশে পড়ে যান। আমি তখনই বাইক ছেড়ে বাচ্চাকে নিয়ে নামি, ওকে তুলব বলে। আর তখনই হাতিটা লাথি মারল আমায় আর আমার স্ত্রীকে। কপালজোরে বেঁচে গেলাম!

লাটাগুড়ির বাসিন্দা পল্লব কর জানান রিঙ্কুরা আজ কার্যত নতুন জীবন ফিরে পেলেন। তিনি বলেন, “হাতিটি লাথি মারার সময়ে ওদের ছোট্টো বাচ্চাটি হাতির চার পায়ের ঠিক মাঝে পড়ে যায়। ঐ সময়ে সাহস করে পেছন থেকে এগিয়ে আসেন এক লরির চালক। হাতিটাকে তাড়িয়ে দেন উনিই। এর পরেই বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে আমরা লাটাগুড়ি থেকে ছুটে গিয়ে, ওদের জলপাইগুড়ি নিয়ে চলে আসি।”

ঘটনায় অনারারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরী জানান, হাতির হামলার একটি ঘটনার কথা শুনেছেন, বিশদে জানেন না। তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”

 

Shares

Comments are closed.