গাফিলতিতে মৃত্যু সদ্যোজাতর, সাড়ে ৬ লাখ টাকা বিল, দেহ দিতেও আপত্তি! ফের কাঠগড়ায় কলকাতার হাসপাতাল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সদ্য অভিযোগের পাহাড় জমেছে বাইপাসের ধারের দুই বেসরকারি হাসপাতাল ডিসান এবং মেডিকার বিরুদ্ধে। প্রথম হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ৩ লাখ টাকা জমা না করায় করোনা রোগীর চিকিৎসা করেনি তারা। অ্যাম্বুল্যান্সেই মারা গেছেন ৬০ বছরের প্রৌঢ়া। ডিসানের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও রুজু করেছে স্বাস্থ্য কমিশন। মেডিকাকে রিভিউ করতে বলেছে ১৯ লক্ষ টাকার বিল। কোভিডে মৃত ডক্টর প্রদীপ ভট্টাচার্যের পরিবারকে এতটাই বিল ধরিয়েছে তারা।

এই দুই হাসপাতালের পরে এবার মারাত্মক অভিযোগ উঠল ভিআইপি রোডের ধারের আরও একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তাদের গাফিলতিতে মৃত্যু হয়েছে সদ্যোজাত শিশুসন্তানের, উপরন্তু বিনা চিকিৎসায় বিল ধরানো হয়েছে প্রায় সাড়ে ছ’লক্ষ টাকার!

জানা গিয়েছে, আনন্দপুর নোনাডাঙার বাসিন্দা কৌশিক চক্রবর্তীর স্ত্রী নিশা চক্রবর্তী গত জুন মাসের ২৪ তারিখে স্থানীয় একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু জন্মের পরেই সদ্যোজাতের হৃদযন্ত্রে একটি ফুটো ধরা পড়ে, সেই কারণে তাকে বাগুইআটির একটি হাসপাতালে রেফার করা হয়।

শিশুর মা-বাবার অভিযোগ, বাগুইআটির ওই হাসপাতালে বাচ্চার কোনও চিকিৎসাই হয়নি প্রায়। কার্যত ফেলে রাখার পরে আজ, বৃহস্পতিবার সকালে জানানো হয় বাচ্চা মারা গেছে। অথচ তার পরে আকাশছোঁয়া বিল ধরানো হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে। পরিবারের দাবি, হাসপাতালেরই এক মার্কেটিং কর্মী তাঁদের চিকিৎসা শুরুরর আগে থেকেই বলেছিলেন চিকিৎসা করতে গেলে প্রচুর টাকা লাগবে। তার পরেই ৩ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকার বিল ধরানো হয়। সে টাকা দিয়েও দেওয়া হয় পরিবারের তরফে।

কিন্তু অভিযোগ, এত টাকা দেওয়ার পরেও ভাল করে চিকিৎসাই হয়নি বাচ্চার। এমনকি এ নিয়ে হাসপাতালের সঙ্গে কথা বলতে গেলে নাকি রীতিমত হুমকি দেওয়া হয়। এমনও বলা হয়, মোট ৬ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকার বিল হয়েছে, বাকি টাকা দিতে। পরিবারের দাবি, তাঁদের বলা হয়, ‘টাকা না দিলে কী হবে বলা যাচ্ছে না।’

এর পরে আজ সকালে খবর দেওয়া হয়, বাচ্চাটি মারা গিয়েছে। সন্তানের মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিজনেরা হাসপাতালে আসেন দেহ নিতে। অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, বকেয়া টাকা পুরোটা মেটালে তবেই বাচ্চার দেহ ছাড়া হবে। এর পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রীতিমত তর্কাতর্কি শুরু হয় পরিবারের।

শেষে ২০ হাজার টাকা জমা নিয়ে মৃতদেহ ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় এখনও বাগুইআটি থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি পরিবারের তরফে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More