শনিবার, ডিসেম্বর ১৪
TheWall
TheWall

বিদ্যাসাগর সতীদাহ রদ করেন! বেফাঁস বাবুলকে এসএমএস করে ক্ষমাও করে দিলেন রামমোহন!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে। কয়েক দিন আগেই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলে বসেছিলেন, বিদ্যাসাগরের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হল সহজপাঠ লেখা। এবার সেই বিদ্যাসাগরের জন্মদিনেই তাঁর প্রশংসা করতে গিয়ে দিলীপ ঘোষের অনুজ নেতা বাবুল সুপ্রিয় বলে বসলেন, সতীদাহ প্রথা রদ করেছিলেন বিদ্যাসাগর। তবে এখানেই থামেননি তিনি। কিছু পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলাও করে নিজের ভুল স্বীকার করে দাবি করেছেন, রাজা রামমোহন রায় এসএমএস করে তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এই ভুলের জন্য! ভুল স্বীকারের সেই পোস্টে রীতিমতো ফুটে উঠেছে বাবুলের ব্যঙ্গাত্মক স্বর। সঙ্গে আবার একাধিক ইমোজি ব্যবহার করেছেন তিনি।

নিন্দা এবং হাসির জোড়া ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এক তো মনীষীদের নিয়ে এই ধরনের ভুল মন্তব্য মেনে নিতে পারেন না অনেকেই। তার উপরে বাবুলের ভুল স্বীকারের পোস্টে এই ধরনের ছেলেখেলা মোটেই সমর্থনযোগ্য নয় বলেই মত নেটিজেনদের বড় অংশের। তাঁরা বলছেন, এ ভাবে মনীষীদের অপমানই করা হয় কেবল।

টলিউডের কলাকুশলীদের নিয়ে ‘খোলা হাওয়া’ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান ছিল আজ। সেখানেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দাবি করে বসেন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সতীদাহ প্রথা রদ করেছিলেন। বাবুল বলেন, “সতীদাহ প্রথার বিলোপ, বিধবা বিবাহ চালু করেছিলেন বিদ্যাসাগর। তাঁর জন্মদিনে একটা সংগঠন শুরু হচ্ছে, এটা অনেক বড় ব্যাপার।”

এই মন্তব্যের পরেই স্বাভাবিক ভাবেই চার দিকে সমালোচনা ও হাসির ঝড় ওঠে। কিছু দিন আগেই যাদবপুর-কাণ্ডে গণবিক্ষোভের মুখে পড়ে বাবুল ছাত্রদের জিজ্ঞেস করছিলেন, এনআরসি-র ফুল ফর্ম কী। সেই প্রসঙ্গ টেনে এনেও বাবুলের সাধারণ জ্ঞানের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন অনেকে। বাবুলের লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী হওয়া উচিত বলেও মত দেন একটা বড় অংশ। এবং বাবুল তা করেনও। তবে নিজের বক্তব্যের সাফাই দিতে গিয়ে এবার আজব ব্যাখ্যা দিলেন বিজেপি নেতা।

ঘটনার কিছু ক্ষণ করেই টুইটারে ও ফেসবুকে ভুল স্বীকার করে একটা পোস্ট দেন তিনি। কিন্তু তাতে নিজের ভুল ঢাকতে গিয়ে চূড়ান্ত রসিকতার আশ্রয় নেন তিনি। পোস্ট শুরুই করে ‘হা হা’ করে হেসে। তার পরে তিনি লেখেন, “রামমোহন রায় অলরেডি আমাকে মাফ করে দিয়ে হাসিমুখে এসএমএস করেছেন। আশীর্বাদও করেছেন।” রামমোহন রায়ের মতো এক জন সমাজ সংস্কারককে নিয়ে ওই মাপের রসিকতা ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করা যায় কি না, হা হা করে হাসা যায় কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

বাবুল অবশ্য এটুকুতেই থেমে থাকেননি। বলেন, “সত্যি একটা ভুল তো করেছি। বিদ্যাসাগর নিয়ে বলবার সময়ে বিধবা বিবাহ বলতে গিয়ে বিধবা বিবাহ তো বলেছি, তার সঙ্গে সতী প্রথার অবলুপ্তিও জুড়ে দিয়েছি।” এই বিষয়টিকে ‘স্লিপ অফ টাং’ অর্থাৎ মুখ ফস্কে বলে ফেলা কথা বলে উল্লেখ করে তিনি একটি জিভের ইমোজি জুড়েছেন। সেই সঙ্গে লিখেছেন, “আপনারাও মাফ করে ফেলুন বলতে খুব ইচ্ছে করছে, কিন্তু পারবেন কি? তবে আর যাই করি না কেন, মানুষের ক্ষতি কিন্তু করি না, বৃষ্টির দিনে চা-তেলেভাজার সাথে ডিসকাস করার মতো একটা টপিক তো পেলেন।”

দেখুন বাবুলের পোস্ট।

Haha ? shottyi, aaj ekta bhool toh korechhi! Bidyasagar niye bolbar shomoye, Bidhoba Bibaho bolte giye, bidhoba bibaho…

Babul Supriyo এতে পোস্ট করেছেন বৃহস্পতিবার, 26 সেপ্টেম্বর, 2019

তবে এত বড় ভুল করেও যে অনমনীয় হতে বাবুল নারাজ, তা তাঁর পরের বাক্যেই স্পষ্ট। তিনি বলেন, “কত মানুষ কত কিছু লিখেছে, বিশেষ করে বামেরা।” সেই সঙ্গে তিনি আরও সংযোজন করেছেন, “যাদবপুরে এনআরসি-র ফুল ফর্ম জিজ্ঞেস করার সাথে এটার কিন্তু কোনও সম্পর্ক নেই।”

বিজেপি নেতাদের এই ধরনের বেফাঁস মন্তব্য এবং তথ্যবিভ্রাট অবশ্য নতুন কিছু নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব, মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রমেশ পোখরিওয়াল, এ রাজ্যের দিলীপ ঘোষ– অনেকেই মনীষীদের নিয়ে বা বিজ্ঞান নিয়ে এমন সব মন্তব্য করেছেন, যা বিপুল চর্চার বিষয় হয়েছে। সেই তালিকায় এবার নাম উঠে গেল বাবুল সুপ্রিয়রও।

তবে ভুলের পরে সেই ভুল নিয়ে পাল্টা ব্যঙ্গ ও রসিকতা করে, অন্য নেতাদের চেয়ে আরও এক কাঠি এগিয়ে গেলেন বাবুল।

Comments are closed.