বাবরি নিয়ে রায় সংবিধান বিরোধী, দাবি কংগ্রেসের

২২

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, বাবরি মসজিদ ধ্বংস বেআইনি কাজ। কিন্তু লখনউয়ের বিশেষ আদালত ওই ঘটনায় অভিযুক্ত সকলকেই মুক্তি দিয়েছে। বুধবার বাবরি মসজিদ ধ্বংস নিয়ে বিশেষ সিবিআই কোর্টের রায়ের পর এমনই মন্তব্য করে কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, এই রায় সংবিধান বিরোধী। গত নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তারও বিরুদ্ধে গিয়েছে বিশেষ আদালতের এই রায়। কংগ্রেসের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার ও উত্তরপ্রদেশ সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করুক।

ওই মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন ৩২ জন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণী, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুরলি মনোহর যোশী, উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং, বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা বিনয় কাটিহার, সাক্ষী মহারাজ প্রমুখ। আদালত এদিন সকলকেই নির্দোষ বলে রায় দিয়েছে।

বিচারক তাঁর রায়ে পাঁচটি পয়েন্ট উল্লেখ করেন। প্রথমত, পরিকল্পিতভাবে বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়নি। দ্বিতীয়ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তৃতীয়ত সিবিআই যে ভিডিও এবং অডিও রেকর্ড পেশ করেছে, তা প্রামাণ্য কিনা জানা যাচ্ছে না। চতুর্থত, সমাজবিরোধীরা মসজিদ ভাঙার চেষ্টা করেছিল। অভিযুক্তরা তাঁদের থামাতে চেষ্টা করেছিলেন। পঞ্চমত, অডিও ক্যাসেটে কয়েকজনের ভাষণ শোনা যাচ্ছে বটে কিন্তু কী বলা হয়েছে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না।

কংগ্রেসের বক্তব্য, গত নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের রায় দেয়। তখনই শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা বলেছিলেন, বাবরি মসজিদ ভাঙা সম্পূর্ণ বেআইনি। কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন, “বিশেষ আদালত বলেছে, সব অভিযুক্তই নির্দোষ। একথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, বিশেষ আদালতের সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়েছে।”

কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি ও আরএসএস দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভাঙার জন্য গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। যে কোনও উপায়ে ক্ষমতা দখল করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। সুরজেওয়ালা বলেন, “উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন বিজেপি সরকার ভারতের সংবিধানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। তারা মিথ্যা হলফনামা দিয়ে সুপ্রিম কোর্টকে বিভ্রান্ত করেছিল।”

করসেবকরা বিশ্বাস করত, যেখানে বাবরি মসজিদ দাঁড়িয়েছিল, সেখানেই জন্ম হয়েছিল রামচন্দ্রের। তাই তারা মসজিদটি ভেঙে ফেলে। তারপরে দেশ জুড়ে দাঙ্গা শুরু হয়। সরকারি হিসাবমতো দাঙ্গায় ৩০০০ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। অযোধ্যার জমি নিয়ে যে মামলা চলছিল, তা এই বাবরি ভাঙার মামলার থেকে আলাদা। জমির মামলায় ২০১৯ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে। গত ৫ অগাস্ট অযোধ্যায় রামমন্দিরের শিলান্যাস করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More