বুধবার, জানুয়ারি ২২
TheWall
TheWall

ববি হাকিম আজ্ঞাবহ জল্লাদ, কলকাতার মেয়রকে কটাক্ষ বিধাননগরের মেয়রের

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে আজ্ঞাবহ জল্লাদ বললেন বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত।

রবিবার রাতে মুকুল রায়ের সঙ্গে সব্যসাচীর ‘সৌজন্য বৈঠক’ ও নৈশভোজ নিয়ে সোমবার সকালে তোপ দেগেছিলেন ববি। সব্যসাচীকে মিরজাফর ও বেইমানও বলেছেন। বিকেলে বিধাননগর পুরনিগমের দফতরে মেয়রের চেয়ারে বসে সব্যসাচী বলেন, “জহ্লাদ যখন ফাঁসি দেন, তখন তাঁকে খারাপ বলতে নেই। কারন তিনি কারও অর্ডারে ফাঁসি দেন। ইনিও হয়তো কারও অর্ডারে বলেছেন।” তখনই তাঁকে প্রশ্ন করা হয় আপনি কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইঙ্গিত করছেন? জবাবে সব্যাসাচী বলেন, “আমি কাউকেই ইঙ্গিত করিনি। এখন তো অনেকেই অর্ডার দেন। কত কনসালটেন্সি আছে!”

ইতিমধ্যেই তৃণমূল নেতৃত্ব ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়কে পুরসভা চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। কাউন্সিলরদের ডেকে বলে দেওয়া হয়েছে অনাস্থা আনতে হবে সব্যসাচীর বিরুদ্ধে। কিন্তু তিনি কী করবেন? ইস্তফা দেবেন? বিধাননগরের মেয়র বলেন, “সবটাই সময় বলবে। কবে বৃষ্টি হবে, তখন আমি রেনকোট গায়ে দেব না ছাতা মাথায় দেব সেটা তো তখন ঠিক করব।”

আরও পড়ুন: সব্যসাচীকে ফোন করে দল ছাড়তে বললেন ববি, নইলে অনাস্থা ভোট

এ দিন তাঁকে সোজাসুজি প্রশ্ন করা হয়, আপনার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনলে জিতবেন? হাসতে হাসতে সব্যসাচী বলেন, “চার বারের কাউন্সিলর আমি। একবার আমার স্ত্রী ইন্দ্রাণী দত্ত। স্বামী-স্ত্রী মিলিয়ে পাঁচ বার। আর জানেন তো আমি কোন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর? রাজ্যের প্রবাদপ্রতিম নেতা প্রয়াত জ্যোতি বসু আমার ওয়ার্ডের ভোটার ছিলেন। সাংসদ সরলা মাহেশ্বরী থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানী দেবপ্রসাদ দুয়ারি আমার ওয়ার্ডের ভোটার। মানুষের আশীর্বাদেই এতদিন জিতেছি। অনাস্থা আনলে ভোটাভুটি করলে সে দিনই দেখতে পাবেন।”

দলে কি সত্যিই তিনি কোণঠাসা? প্রতিদিন শীর্ষ তৃণমূল নেতারা তোপ দাগছেন তাঁর বিরুদ্ধে। এ দিন সকালেও ববি হাকিম বলেছেন, “শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিকে আমি বলেছি ওঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে।” কিন্তু সব্যসাচী বিকেল বেলা বোঝাতে চাইলেন তিনি মোটেই কোণঠাসা নন। তাঁর সঙ্গেও অনেক নেতামন্ত্রী যোগযাযোগ রাখছেন। এ দিন সব্যসাচী বলেন, “আমাকে তো মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করেছিল। কথা হয়েছে।” কিন্তু কী কথা তা অবশ্য খোলসা করেননি রাজারহাটের বিধায়ক। যদিও সব্যসাচীর এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন রাজীব। তিনি বলেন, “গত দু’আড়াই মাসের মধ্যে ওঁর সঙ্গে আমার কোনও কথা হয়নি।” অনেকের মতে, তৃণমূলের মধ্যে অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি করে দিতেই এই কৌশল নিয়েছেন সব্যসাচী। রাজনৈতিক মহলের অনেকে আবার এ-ও বলছেন, এই কৌশল টিপিকাল মুকুল রায়ের কৌশল।

Share.

Comments are closed.