বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫

বাসি রুটিতেই রোগমুক্তি!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমাদের সকলের বাড়িতেই প্রেশার, সুগার, পেট খারাপ,গ্যাস-অম্বল থাবা বসায়। এইসব রোজের সমস্যার জন্য একটা আলাদা ওষুধের বাক্সও রাখি আমরা। আর এদিক ওদিক শরীর খারাপে মুঠোমুঠো ওষুধই ভরসা। কিন্তু বাসি রুটি আপনাকে সেই সব সমস্যা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি দিতে পারে। অন্তত গবেষণা তাই বলছে।

অবাক হচ্ছেন? স্বাভাবিক, কারণ আমরা জেনে এসেছি যে কোনও বাসি খাবারই অস্বাস্থ্যকর।  ১২ ঘণ্টার বেশি আগে খাবার তৈরি হলে, সেটা খেলে ডায়রিয়া, পেট খারাপ, গ্যাস-অম্বল ইত্যাদি হতে পারে।  কিন্তু অ্যাপোলো হাসপাতালের সিনিয়র কনস্যালটেন্ট, নিউট্রিশনিস্ট ডঃপ্রিয়াঙ্কা রোহাতগি বলছেন গম থেকে তৈরি হচ্ছে আটা। আর সেই আটা থেকে রুটি তৈরি হয় বলেই ১২-১৫ ঘণ্টা পরে বাসি খাবারে যে সমস্যা তৈরি হয়, বাসি রুটির ক্ষেত্রে তা হয় না।  তাই সবজির সঙ্গে না খেয়ে আপনি অনায়াসে ঠাণ্ডা দুধের সঙ্গে বাসি রুটি খেতেই পারেন।  অতিরিক্ত রিফাইনড্ খাবার আজকাল আমরা খাই যা স্বাস্থ্যের জন্য সঠিক নয়।  তাই গমের রুটিতে যে ফাইবার থাকে তার সঙ্গে ঠান্ডা দুধের এনার্জি মিশে আপনার শরীরের ভালোই করবে। বলছেন ডঃরোহাতগি।

ব্লাড প্রেশারের রোগীরা সকালে আগের দিনের রুটি দশ মিনিট ঠাণ্ডা দুধে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সেটা দিয়েই করুন ব্রেকফাস্ট।  প্রেশার থাকবে নিয়ন্ত্রণে। আর প্রেশার না বাড়লে হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক ঘটনার সম্ভাবনাও কমতে পারে সহজেই।

ব্লাড সুগারের রোগী হন যদি তাহলে ঠিক একইভাবে দুধ রুটি খান, তবে এক্ষেত্রে কোনও সময়ের বাধ্যবাধকতা নেই।  দিনের যে কোনও সময়েই বাসি রুটি ঠাণ্ডা দুধে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে খেতে পারেন। তাহলে আপনাকে আর সুগার নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করতে হবে না।

পেটের সমস্যায় ঘন ঘন ভুগছেন। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গ্যাস অম্বল বা পেট খারাপও। সুস্থ থাকার উপায় সেই বাসি রুটিই। কোষ্ঠকাঠিণ্য থেকেই এই গ্যাস অম্বল পেট খারাপের সূচনা। আর কোষ্ঠকাঠিণ্যের সমাধান হচ্ছে আটার রুটিতে থাকা ফাইবার। খাওয়ার আগে ১০ মিনিট দুধে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর রাতের খাওয়ারে সেটাই খেয়ে নিন। সকালে উঠে চলে যান টয়লেটে। আপনার সিস্টেম ক্লিয়ার আর পেটের হাজার এক সমস্যা থেকে মুক্তি। সকালে আর টয়লেটে সময় নষ্ট না করে বাকি কাজে ব্যস্ত থাকুন।

শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস পেরিয়ে গেলে আমাদের মাল্টিঅরগ্যান ফেল করে মারাত্মক ঘটনা ঘটতেই পারে। তাই ব্রেকফাস্টে ঠাণ্ডা দুধ আর রুটি খেলে ৩৭ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যেই থাকে আপনার শরীরের তাপমাত্রা। দিনের শুরুটা তাই করতেই পারেন বাসি রুটি দিয়ে।

বাসি রুটির উপাদান আপনার শরীরে সোডিয়ামের ব্যালেন্স ঠিক রাখে এবং যথেষ্ট পরিমাণে ফাইবারের যোগান দেয়। তাই আর বাসি রুটি পাড়ার লালু ভুলুকে দেবেন না। বরং নিজের ডায়েট প্ল্যানে রেখে দিন সকাল থেকে রাত। একাধিক সমস্যা থেকে নিজেকে মুক্ত করুন।

Shares

Comments are closed.