বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

ক্ষুব্ধ মমতার নির্দেশে মোদীর আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প থেকে নাম তুলেই নিল রাজ্য

দ্য ওয়াল ব্যুরোকেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে বাংলা আর টাকা দেবে না বলে বৃহস্পতিবার সাফ জানিয়েছিলেন  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

আর মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই প্রকল্প থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করার কথা কেন্দ্রকে জানিয়ে দিল রাজ্য। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের সচিবকে এক চিঠিতে রাজ্যের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা।

বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরে সরকারি সভায় গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে বক্তৃতা প্রসঙ্গে মমতা বলেন, বাংলায় স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প শুরু করেছে কেন্দ্র, তার চল্লিশ শতাংশ টাকা রাজ্য দিচ্ছে। অথচ প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে সেই প্রকল্পের বিজ্ঞাপন দেখিয়ে রাজনীতি করছে কেন্দ্র। কিন্তু ওটা তোমার টাকা নয়, ওতে রাজ্যের টাকা রয়েছে। এর পরেই দৃশ্যত ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, আমি ওই প্রকল্পে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিলাম। প্রকল্প চালাতে হলে টাকা দেবে তোমার থেকে, আমি আর টাকা দেব না।

রাজীববাবুর চিঠিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, রাজ্যের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা না করে, বা না জানিয়েই সরাসরি গ্রাহকদের কাছে এনটাইটেলমেন্ট কার্ড পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা দেখে রাজ্য বিস্মিত।

সন্দেহ নেই মমতার এই ঘোষণার পর বাংলায় মোদী সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। গোটা দেশের প্রায় ১১ কোটি পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত বছর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হয়।

গোড়া থেকেই এই প্রকল্প নিয়ে অনীহা দেখিয়েছিল বাংলা। কারণ, প্রকল্পের খরচের চল্লিশ শতাংশ বহন করার ক্ষমতা রাজ্যের নেই। তবে শেষমেশ কেন্দ্রের সঙ্গে এ ব্যাপারে চুক্তি সই করে রাজ্য সরকার। তাৎপর্যপূর্ণ হল, যে সব রাজ্য এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্প থেকে সব থেকে বেশি সুবিধা পেয়েছে তার মধ্যে অন্যতম বাংলা। নভেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পে ৭৯৮ কোটি টাকা খরচ করেছে কেন্দ্র। তার মধ্যে ১৯৩ কোটি টাকা বরাদ্দ হয় বাংলার জন্য। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া পটেল জানান, এর পাশাপাশি প্রায় ১৭ কোটি টাকা প্রশাসনিক খরচ হিসাবে দেওয়া হয়েছে বাংলাকে। অর্থাৎ নভেম্বর মাসের মধ্যেই প্রকল্প বাবদ ২১০ কোটি টাকা পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।

কিন্তু মমতার উষ্মার কারণ হল, ওই প্রকল্পটি সম্পর্কে মোদী সরকারের একটি লিফলেট। যা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে উপভোক্তাদের বাড়িতে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, যে প্রকল্পে রাজ্যের অংশীদারিত্ব রয়েছে সেখানে শুধু প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে প্রচার হবে কেন?

স্বাভাবিক ভাবেই এ ব্যাপারে ক্ষিপ্ত বিজেপি নেতারা। কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প দফতরের প্রতি মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এর থেকে বেশি কী প্রত্যাশা করা যায় ওঁর থেকে। ওনার রাজনীতি আর মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার এ ছাড়া উনি কিছুই বোঝেন না। তাতে গরিব মানুষের যতই কষ্ট হয় হোক। ভোটের সময় শুধু ওদের ভয় দেখিয়ে ভোট নিতে পারলেই হল। শুধু তা নয়, বিজেপি নেতাদের পাল্টা অভিযোগ, বাংলায় কেন্দ্রের অনুদানে চলা প্রকল্পগুলি যখন মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় বলে ঢালাও প্রচার হয়, তার বেলা কী হবেযে সরকার কেন্দ্রের অনুদানকে রাজ্য বাজেটে ঢুকিয়ে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখায়, তাদের মুখে এ কথা শোভা পায় না!

এ ব্যাপারে কংগ্রেস বা বামেরা অবশ্য কোনও মন্তব্য করেননি। তবে রাজ্য কংগ্রেসের এক নেতা বলেন, বাংলায় এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। ভোটের আগে কাউকে কোনও কৃতিত্ব নিতে দেবেন না মমতা। ইউপিএ সরকার খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্প চালু করার পর প্রথম দেড় বছর তা বাংলায় বাস্তবায়িত হয়নি শুধু মমতার আপত্তিতে। পরে সেই প্রকল্পকেই নিজেদের বলে চালিয়ে তৃণমূল প্রচার করে যে তাদের সরকার ২ টাকা কেজি দরে চাল দিচ্ছে গরিব মানুষকে! 

Shares

Comments are closed.