মসজিদ কোথায় হবে? অযোধ্যার আকাশে নতুন বিবাদের মেঘ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    অযোধ্যা থেকে পিনাকপাণি ঘোষ

    ‘‘ললিপপ চাই না। সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে, তারা কোথায় জমি দিতে চাইছে।’’– অযোধ্যা মামলায় মুসলিম পক্ষের এক মামলাকারী হাজি মেহবুবের মন্তব্য নিয়ে ফের নতুন উত্তাপ তৈরি হয়েছে। অবশ্য তার কোনও প্রভাব নেই অযোধ্যা নগরীতে। আর পাঁচটা দিনের মতোই সব স্বাভাবিক। কিন্তু চায়ের দোকানে, অটো স্ট্যান্ডের জটলায় কান পাতলে, আশঙ্কার চাপা কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে আজ। সব ঠিকঠাক মিটবে তো!

    সুপ্রিম কোর্টের রায়ে খুশি মোটামুটি সব পক্ষই। কিন্তু একটা খটকা থেকে গেছে এখনও। সর্বোচ্চ আদালত মসজিদ নির্মাণের জন্য পাঁচ একর জমি দিতে বললেও, সেই জমি কোন এলাকার হবে তা নির্দিষ্ট করে বলেনি। আর এতেই নতুন বিবাদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শহরের কোথায় পাঁচ একর জমি মিলতে পারে তা নিয়ে সবার মনেই প্রশ্ন।

    ১৯৯১ সালে অযোধ্যায় বিতর্কিত এলাকা ছাড়াও সংলগ্ন এলাকার জমি অধিগ্রহণ করেছিল কেন্দ্র। সেই জমি থেকেই পাঁচ একর চায় মুসলিম পক্ষ। উত্তরপ্রদেশের সুন্নি সেন্ট্রাল বোর্ড আগেই জানিয়েছে, যে তারা মসজিদের জমির বিষয়ে অবস্থান ঠিক করতে আগামী ২৬ নভেম্বর বৈঠকে বসছে।

    উত্তরপ্রদেশ সরকার অবশ্য মসজিদ তৈরির জন্য অযোধ্যার আশপাশে বিকল্প জমির খোঁজ শুরু করে দিয়েছে। শহরের বাইরে জাতীয় সড়কের পাশে জমি দেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনার কথাও জানা গিয়েছে। কিন্তু সেটা খুব সহজ হবে না। ইতিমধ্যেই অযোধ্যায় মসজিদ গড়ার জমি অধিগৃহীত এলাকা থেকেই দিতে হবে বলে দাবি তুলেছেন একাধিক মুসলিম নেতা। অনেকের বক্তব্য, অন্যত্র জমি দেওয়ার চেষ্টা হলে মুসলিম সম্প্রদায় তা ফিরিয়ে দিতে পারে।

    অযোধ্যা মামলায় মুসলিম পক্ষের অন্যতম আবেদনকারী ইকবাল আনসারি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘জমি এমন জায়গাতেই দিতে হবে যেখানে আমাদের সুবিধা হয়। সরকার অযোধ্যায় ৬৭ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল। সেই জমি থেকেই আমাদের পাঁচ একর দিতে হবে। না হলে আমরা জমি নেব না।’’

    স্থানীয় মুসলিমদের বক্তব্য, মসজিদ বানাতে মুসলিমরা নিজে থেকেই জমি কিনতে পারে। কারও দান লাগবে না। তবে আদালত এবং সরকার যদি মুসলিমদের আবেগকে গুরুত্ব দিতে চায়, তা হলে অধিগৃহীত এলাকার মধ্যেই পাঁচ একর জমি দিতে হবে। ওই এলাকায় কবরস্থান, দরগাও রয়েছে।

    স্থানীয় সংবাদপত্রে এখন এই সব রকম মত নিয়েই দারুণ উত্তেজনা। সেখানেই অল ইন্ডিয়া মিল্লি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক খালিক আহমেদ খান একই কথা বলেছেন। তিনি আবার অযোধ্যা পুরসভার জনপ্রতিনিধি। তিনি বলেন, ‘‘মসজিদের জন্য জমি দিতে চাইলে তা অধিগৃহীত ৬৭ একরের মধ্যেই তা দিতে হবে। না হলে আমাদের কোনও রকম দানের প্রয়োজন নেই।’’ জমিয়ত উলেমা হিন্দের অযোধ্যা অঞ্চলের সভাপতি মৌলানা বাধা খানেরও বক্তব্য, মুসলিমরা বাবরি মসজিদের জন্য লড়েছিল, অন্য কোনও জমির জন্য নয়।

    সব মিলিয়ে মেঘ জমছে। এত দিন ধরে যতই বিবাদ হোক না কেন, এবার সমাধান চায় অযোধ্যা। দীর্ঘ দিনের মামলা মিটেছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে মীমাংসাও শান্তিতেই হবে তো? সেই আশঙ্কার মেঘ ভরা আকাশের দিকেই চেয়ে রয়েছে অযোধ্যা নগরী।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More