বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

সাংবিধানিক বেঞ্চ থেকে পদত্যাগ বিচারপতির, অযোধ্যা মামলার শুনানি ফের পিছল

দ্য ওয়াল ব্যুরো : অযোধ্যা মামলার শুনানি হোক জরুরি ভিত্তিতে। এই মর্মে সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়েছিল বেশ কয়েকটি আবেদন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের যে সাংবিধানিক বেঞ্চ তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে পদত্যাগ করেছেন এক বিচারপতি। ফলে বৃহস্পতিবার আবেদনের শুনানি পিছিয়ে গেল। বিচারপতিরা ফের আবেদন শুনবেন ২৯ জানুয়ারি।

প্রধান বিচারপতি বাদে সাংবিধানিক বেঞ্চের অপর চার সদস্য ছিলেন বিচারপতি এস এ বোবদে, বিচারপতি এন ভি রামানা, বিচারপতি ইউ ইউ ললিত এবং বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। কিন্তু এদিন এক আইনজীবী মন্তব্য করেন, বিচারপতি ইউ ইউ ললিত দুই দশক আগে অযোধ্যা মামলায় একপক্ষের আইনজীবী ছিলেন। এর পরে বিচারপতি ইউ ইউ ললিত সাংবিধানিক বেঞ্চ থেকে পদত্যাগ করেন। তখনই শুনানি এদিনের মতো বন্ধ হয়ে যায়। এরপরে ফের নতুন বেঞ্চ তৈরি হবে। সেই বেঞ্চ আবেদনকারীদের বক্তব্য শুনবে।

অযোধ্যার বিতর্কিত এলাকায় বাবরি মসজিদ নির্মিত হয় ষোড়শ শতাব্দীতে। হিন্দুত্ববাদীদের দাবি, ওইখানেই ভগবান রামের জন্ম হয়েছিল। ১৯৯২ সালে তারা বিতর্কিত কাঠামোটি ভেঙে ফেলে। তাদের দাবি, সেখানে রামমন্দির নির্মাণ করতে হবে। বিজেপির কয়েকটি শরিক দল ও অন্যান্য কট্টরপন্থী সংগঠনের দাবি, বিতর্কিত এলাকায় রামমন্দির নির্মাণের জন্য অধ্যাদেশ আনা হোক। তাহলে লোকসভা নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার আগে মন্দির নির্মাণ শুরু করা যাবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়ে দেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে অধ্যাদেশ আনা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, আগে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হোক। তারপরে সরকার যা করার করবে। আমরা সবরকম চেষ্টা করব। আমরা বিজেপির ইস্তেহারেও বলেছি, রামমন্দির বিতর্কের সমাধান করতে হবে সংবিধান মেনেই।

আদালত গত বছর এই মামলার দ্রুত শুনানি করতে রাজি হয়নি। এদিন যদি রোজ শুনানিতে রাজি হত, তাহলে যারা ভোটের আগে মন্দির নির্মাণ শুরু করতে চায়, তাদের সুবিধা হত যথেষ্ট। রাজনৈতিকভাবে সুবিধা হত বিজেপিরও। গত দু’বছর ধরে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বার বার বলেছেন, অযোধ্যাকে নতুন করে গড়ে তুলবেন। সেখানে ভগবান রামের এত বড় মূর্তি নির্মাণ করবেন যে, সারা বিশ্বে তার জুড়ি থাকবে না। বিজেপির আশা ছিল, এর ফলে হিন্দু ভোট সংহত করতে সুবিধা হবে।

মুসলিম সংগঠনগুলিও চেয়েছিল, দ্রুত শুনানি হোক। লখনউয়ের ধর্মগুরু খালিদ রশিদ ফিরঙ্গি মাহালি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ গড়ার সিদ্ধান্তকে আমরা অভিনন্দন জানাই। দেশের প্রত্যেক নাগরিক চায়, দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি হোক।

Shares

Comments are closed.