নেই স্বীকৃতি ও সঙ্গতি, তবু মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অর্থ দিলেন ডাবিং আর্টিস্টরা

তাঁরা জানেন না, বর্তমান পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেদের জীবন-জীবিকার সংকট কাটিয়ে উঠবেন। তা সত্ত্বেও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে গঠিত ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট এমার্জেন্সি রিলিফ ফান্ডে অর্থপ্রদান করতে ভোলেননি তাঁরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁরা নেপথ্যশিল্পী। চলচ্চিত্র ও টেলি-জগতের হ্যালোজেনের আলো তাঁদের স্পর্শ করে না। ফলে এই মাধ্যমের অনেক
    নেপথ্যশিল্পীর মতো তাঁরাও পরিচয়হীন। তবে অন্য নেপথ্যশিল্পীদের সঙ্গে তাঁদের তফাত আর্থিক সঙ্গতিতে। কাজের বিচারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পীরা যোগ্য সাম্মানিকটুকুও পান না। দক্ষিণা যেটুকু পান তাও সময়মতো মেলে না বলে অভিযোগ। তবু করোনাভাইরাসের এই মহামড়কের দিনে কলকাতার স্বীকৃতিহীন কণ্ঠশিল্পীরাই মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সাধ্যমতো অর্থসাহায্য করলেন। ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে মঙ্গলবার ১৬ হাজার টাকা দান পাঠিয়ে দিয়েছে তাঁদের সংগঠন ‘অভতার’।

    অভতার একটি নাম সংক্ষেপ। পুরো নাম ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ভয়েসওভার আর্টিস্টস, ট্রান্সক্রিপ্টার্স অ্যান্ড সাউন্ড রি-রেকর্ডিস্ট অব কলকাতা’। জনাপঞ্চাশেক সদস্য এই অরাজনৈতিক সংগঠনটির। তাদের অন্যতম লক্ষ্য, আর্থিকভাবে সবচেয়ে পিছনের সারিতে থাকা ডাবিং আর্টিস্ট বা ভয়েসওভার আর্টিস্ট বা কন্ঠশিল্পীদের জন্য চলচ্চিত্র ও টেলিদুনিয়ার অন্যান্য শিল্পীদের সমান সম্মান ও স্বীকৃতি আদায়। অভিযোগ, সরকারি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত তাঁরা। তায় প্রোডাকশন হাউসের কর্তৃপক্ষ এবং প্রোডিউসারদের মর্জির ওপর নির্ভর করে এই শিল্পীদের সম্মানী। সেই সম্মানীর পরিমাণ শুনলে একশো দিনের কাজের শ্রমিকরাও লজ্জা পেতে পারেন।

    সকালে বিস্কুটের বিজ্ঞাপন হোক বা বাচ্চাদের প্রিয় কার্টুন, ইংরেজি ছবি হোক বা দক্ষিণী তারকাদের মুখে গরমাগরম বাংলা সংলাপ বা প্রাইমটাইমে বাংলায় ডাবিং করা হিন্দি সিরিয়াল। এই সমস্ত কিছুতে প্রত্যহ আমরা যাঁদের কণ্ঠ শুনতে পাই, তাঁদেরই বলা হয় ডাবিং আর্টিস্ট বা ভয়েসওভার আর্টিস্ট। যদিও এঁদের প্রায় কাউকেই আমরা আলাদা করে চিনি না বা চেনার প্রয়োজন মনে করি না। দর্শক-শ্রোতার কাছে সে প্রত্যাশাও তাঁদের নেই। কিন্তু তাঁদের আক্ষেপ, ডাবিং আর্টিস্ট বা ভয়েসওভার আর্টিস্টরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চলচ্চিত্র ও টেলি-জগতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও শিল্পীর সরকারি স্বীকৃতি মেলেনি। সেই পরিচয়হীনতার দরুন তাঁদের জীবনের আঁধার ঘোচে না।

    সংগঠনের সভাপতি শঙ্করীপ্রসাদ মিত্র জানিয়েছেন, সরকার লকডাউন ঘোষণার পর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়েছে বিনোদন জগতে জড়িত শিল্পী ও কলাকুশলীদের ওপর। যা থেকে বাদ যাননি এইসব কণ্ঠশিল্পীরাও। এই দুর্দিনে চলচ্চিত্র বা টেলি-জগতের অন্যান্য শিল্পীরা অনুদান পেলেও, কণ্ঠশিল্পীরা বঞ্চিতই থাকলেন। তাঁরা জানেন না, বর্তমান পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেদের জীবন-জীবিকার সংকট কাটিয়ে উঠবেন। তা সত্ত্বেও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে গঠিত
    ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট এমার্জেন্সি রিলিফ ফান্ডে অর্থপ্রদান করতে ভোলেননি তাঁরা। এই মহাদুর্যোগ মোকাবিলায় তাঁদের যৎসামান্য দান সেতুবন্ধনে কাঠবেড়ালির অবদানটুকুর মতো হয়ে থাক।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More