সোমবার, অক্টোবর ১৪

খরার প্রকোপে বন্য প্রাণীর মৃত্যু ঠেকাতে নিলামে চড়ানো হবে তাদের! বিশ্ব খরা দিবসে জানিয়ে দিল নামিবিয়া

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভয়াবহ খরার মুখে পড়েছে নামিবিয়া! এতটাই তীব্র পরিস্থিতি, যে বন্য পশুপাখিকে বাঁচিয়ে রাখাই বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে এই দেশটির। একের পর এক বনভূমি সাফ হয়ে যাওয়া, শুকনো, তপ্ত আবহাওয়া এবং নির্মাণকাজের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াই এই অবস্থার জন্য দায়ী। কিন্তু সে সব বিষয়ে কোনও চিন্তাভাবনা না করে, বন্যপ্রাণ বাঁচানোর চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে এক হাজার বন্যপ্রাণীকে নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নামিবিয়া প্রশাসন!

১৭ জুন বিশ্ব মরু ও খরা দিবসে এমনই চমকে দেওয়ার মতো তথ্য সামনে এল। জানা গিয়েছে, নামিবিয়া প্রশাসনের লক্ষ্য, ওই হাজার প্রাণীর নিলাম থেকে কমপক্ষে ১১ লক্ষ ডলার জোগাড় করা, যা এর পরে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ ও অভয়ারণ্য সুরক্ষিত করার কাজে ব্যবহৃত হবে। 

সে দেশের পরিবেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রোমিও মুউন্দার জানিয়েছেন, এই বছরটা খরার বছর বলেই জানা ছিল আগে থেকে। সেই খবর অনুযায়ীই গ্রীষ্ম পড়তেই বাড়তে শুরু করেছে খর তাপমাত্রা। এর পরেই পরিবেশ মন্ত্রক বিভিন্ন প্রজাতির বন্য পশু বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তাদের যুক্তি, অভয়ারণ্যটিকে সুরক্ষিত করার বা অভয়ারণ্যের অন্য প্রাণীগুলিকে রক্ষা করার বা অন্যান্য বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ করার যে খরচ, তা এই বিক্রির টাকা থেকে উঠে আসবে। মুউন্দা জানান, খরার ফলে অভয়ারণ্যের চারণভূমি প্রায় শুকিয়ে গিয়েছে। সবুজ নেই বললেই চলে। কমে এসেছে জলও। এইটুকু ঘাসে আর জলে এত পশু থাকলে নিজেদের মধ্যে মারামারি করবে তারা খাবারের জন্য। তাই এখনই কিছু পশু সরিয়ে ফেললে, বাকিরা হয়তো খাওয়ার জন্য ঘাস আর জল খানিকটা বেশি পাবে।

গত এপ্রিলেই কৃষি মন্ত্রক একটি রিপোর্টে জানিয়েছিল, খরার কারণেই প্রায় ৬৩ হাজার ৭০০ প্রাণী মারা গিয়েছে। সেই সংখ্যা আরও বাড়ুক, চায় না নামিবিয়া প্রশাসন। তাই নিলামে তোলা হয়েছে ৬০০টি মোষ, ১৫০টি স্প্রিংবক, ৬৫টি অরিক্স, ৬০টি জিরাফ, ৩৫টি ইল্যান্ড, ২৮টি চিতল হরিণ ও ১৬টি কুডুকে। এখন বাকি প্রাণীরা বাঁচে কি না, সেটাই দেখার।

Comments are closed.