বন্যায় মৃত্যু বাড়ছে অসমে, ব্রহ্মপুত্র ফুঁসে উঠে ভাসিয়েছে গ্রামের পর গ্রাম, ঘর ছাড়ছে মানুষ

ইতিমধ্যেই অসম সরকার কেন্দ্রীয় সাহায্যের আশ্বাস পেয়েছে। রবিবার অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়ালের সঙ্গে কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবল বৃষ্টিতে টইটুম্বুর ব্রহ্মপুত্র নদ। গত কয়েক সপ্তাহের টানা বর্ষণে ভাসছে অসম। প্লাবিত রাজ্যের ২০টি জেলা। ইতিমধ্যেই বন্যার করাণে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। সেই সঙ্গে বড় বিপদ নদী ধস। তাতে মৃত্যু হয়েছে আরও কমপক্ষে ২৩ জনের। বৃষ্টি এখনও চলছে। আর সেই ভারী বর্ষণে ফুঁসছে ব্রহ্মপুত্র। তাতেই আরও বিপদের আশঙ্কা।

    ইতিমধ্যেই অসম সরকার কেন্দ্রীয় সাহায্যের আশ্বাস পেয়েছে। রবিবার অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়ালের সঙ্গে কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানিয়েছেন, “অসমের মুখ্যমন্ত্রী ও হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে কথা হয়েছে। ভারী বর্ষণে প্লাবিত হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ। মোদী সরকার অসম সরকারকে সবরকম সাহায্যের জন্য তৈরি।”

    আরও পড়ুন

    ভারতের প্রথম প্লাজমা ব্যাঙ্ক চালু হতে চলেছে রাজধানীতে, কোভিড মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ দিল্লি সরকারের

    জানা গিয়েছে, অসমের বহু এলাকাতেই ব্রহ্মপুত্রের জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। ফলে সর্বত্রই বন্যার আশঙ্কায় গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা। জলের তলায় চলে গিয়েছে বিস্তির্ণ এলাকার কয়েক হাজার হেক্টর চাষের জমি। অনেক গৃহপালিত পশুরও মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছে। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, বন্যায় অসমের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধেমাজি, লক্ষ্মীপুর, বিশ্বনাথ, উদালগুড়ি, দারাং, লনবাড়ি, বরপেটা, কোকরাঝাড়, ধুবড়ি, নগাঁও, গোলাঘাট, জোরহাট, মাজুলি, শিবাসাগর, ডিব্রুগড়, বনগাইগাঁও, দক্ষিণ সালমারা, গোলপারা, কামরূপ, মরিগাঁও, হজাই, পশ্চিম করবি আংলং ও তিনসুকিয়া। ডিব্রুগড়ের বহু এলাকাও জলের তলায়।

    এখনও পর্যন্ত যা হিসেব মিলেছে তাতে অসমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৯.২৬ লক্ষেরও বেশি মানুষ। জলের তলায় প্রায় ৬৮,৮০৬ হেক্টর কৃষি জমি। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন বিপদ অসমের এই সব এলাকাগুলিতে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ১৯৩টি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার মানুষ। সেই সংখ্যাটা প্রায় ২৮ হাজার। শুধু মানুষ বা কৃষি জমির ক্ষতিই নয়, বন্যায় গবাদিপশুরও ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক হারে। সর্বত্র এক ছবি। গবাদি পশুদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে চলেছেন গ্রামবাসীরা। অনেকেই নিয়ে যেতে পারছেন না পোষ্যদের।

    ইতিমধ্যেই অসমের রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দল, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা ফোর্স ও জেলাস্তরের প্রশাসনে দলের সদস্যরা মিলিতে ভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেমেছেন। বন্যায় বিধ্বস্ত গ্রামগুলিতে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য চলছে কাজ। উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির মধ্যে অসমেই করোনা সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। তাই বন্যায় নতুন ভয়ও রয়েছে। ত্রাণ শিবিরগুলিতে সংক্রমণ যাতে না হয় তাই যতটা সম্ভব বিধিনিষেধ মেনে কাজ করা হচ্ছে বলে রাজ্য প্রশাসনের দাবি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More