অসমে বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়াল ১০০, বিহারে গঙ্গা বইছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : অসম ও বিহারে বন্যা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। রবিবার অসমে মারা গিয়েছেন আরও পাঁচজন। সব মিলিয়ে দুই রাজ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৪০ লক্ষ মানুষ। অসম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির বুলেটিন অনুযায়ী রাজ্যে এখন বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০২। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন মারা গিয়েছেন জলে ডুবে। এছাড়া রাজ্যের নানা প্রান্তে ধস নেমে মারা গিয়েছেন ২৬ জন।

অসমের ৩৩ টি জেলার মধ্যে ২৩ টি পড়েছে বন্যার কবলে। রাজ্যে মোট ২২৬৫ টি গ্রামের ২৫ লক্ষ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গোয়ালপাড়া জেলা। সেখানে বন্যাদুর্গতের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৭০ হাজার। বরপেটা জেলায় ৩ লক্ষ ৯৫ হাজার এবং মরিগাঁওতে ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যাদুর্গত ১৬ টি জেলায় গৃহহীন হয়েছেন ৪৬ হাজার মানুষ। তাঁরা আছেন ৪৫৭ টি রিলিফ ক্যাম্পে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং সম্প্রতি অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়ালের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। বন্যায় বিধ্বস্ত পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও নর্থ ইস্ট কাউন্সিল থেকে সাহায্য দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিহারে ভাগলপুর অঞ্চলে কাহালগাঁওতে গঙ্গা বইছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে। গণ্ডক নদীতে বন্যা হয়ে আরও বহু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। জলসম্পদ দফতর থেকে বলা হয়েছে, পাটনা ও মুঙ্গের শহরে গঙ্গা ফুলেফঁপে ওঠায় নিচু এলাকাগুলি প্লাবিত হয়েছে। বাগমতী, বুড়ি গণ্ডক, কামলা, আধওয়ারা ও মহানন্দাও বইছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে।

বিহারে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চম্পারণ ও মিথিলাঞ্চল এলাকা। এনডিআরএফ এবং স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স সেখান থেকে বহু মানুষকে উদ্ধার করেছে। সংবাদ সংস্থার খবর, বুড়ি গণ্ডক নদীর জলে প্লাবিত এলাকা থেকে উদ্ধার করে আনার সময় এনডিআরএফের নৌকায় এক মহিলা সন্তান প্রসব করেছেন। তিনি পূর্ব চম্পারণ জেলার গোবারি গ্রামের বাসিন্দা। রবিবার দুপুর ১ টা বেজে ৪০ মিনিট নাগাদ তিনি সন্তানের জন্ম দেন।

উত্তর বিহারে ১১ টি জেলার ৮৬ টি ব্লকে ৬২৫ টি পঞ্চায়েতের ১৫ লক্ষ মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় নেপালের পার্বত্য অঞ্চলে ও উত্তর বিহারে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। জলসম্পদ দফতর আশঙ্কা করছে, তাতে বন্যাপরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More