ছেলেকে ছেড়ে দিন, নইলে আত্মহত্যা করব: আদালতে বললেন অশোকনগরের প্রহৃত বৃদ্ধ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: শোনা যায়, কু-সন্তান হতে পারেন কেউ, কিন্তু কু-পিতা নাকি কেউ হন না। এই বিশ্বাসকেই যেন সত্যি করল অশোকনগর হাবরার ঘটনা। বুধবারই নির্মম ভাবে বৃদ্ধ বাবাকে মারধর করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিল ছেলে। কিন্তু আদালতে প্রহৃত বাবার কাতর আর্জিতেই বৃহস্পতিবার জামিন পেল অভিযুক্ত সন্তান।

    বুধবার ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওয় দেখা যায়, মাকে সন্দেশ খাওয়ানোর ‘অপরাধে’ নব্বই বছরের বাবা মানিকলাল বিশ্বাসকে যাচ্ছেতাই ভাবে অপমান করছে ছেলে প্রদীপ বিশ্বাস। হুমকি, গালাগালির সঙ্গে ছুটছে প্রবল চড়থাপ্পড়। সিঁটিয়ে যাচ্ছেন বৃদ্ধ, কিন্তু তেজ কমছে না ছেলের। তার রাগ, মায়ের ডায়াবেটিস আছে, সে কথা জেনেও বাবা কী করে তাঁকে সন্দেশ খাওয়ালেন।

    ফেসবুকে এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত প্রদীপকে। ছেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন মানিকলাল। কিন্তু রাত পোহাতেই মিলিয়ে গেল সব রাগ, অভিযোগ। প্রহৃত হওয়ার পরেও, একমাত্র ছেলেকে বিপাকে ফেলতে নারাজ বাবা। ছেলেকে জামিন পাওয়ানোর জন্য আদালতে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি পর্যন্ত দিলেন মানিকলাল বিশ্বাস। তাঁর পাল্টা স্বীকারোক্তি, আমিও তো অন্যায় করেছি!

    প্রদীপ বিশ্বাস অশোকনগর পুরসভার কর বিভাগের কর্মী। বৃহস্পতিবার তাঁকে তোলা হয় বারাসত আদালতে। সেখানেই এত কিছুর পরেও বাবার স্নেহ উপচে পড়ল ছেলের উপরে। আদালতে ছেলের জামিন চাইলেন খোদ বাবা। বললেন, একমাত্র ছেলে। ওকে ছাড়া চলবে না। এমনকী ছেলেকে জামিন না দিলে আত্মহত্যার হুমকিও দিলেন। বৃদ্ধ পিতার কাতর আর্জিতে সাড়া দেন বিচারক। জামিন হয় প্রদীপের।

    মানিকলালবাবু এ দিন বলেন, “প্রথমে তো আমারই ভুল। অসুখ জেনেও ওর মাকে মিষ্টি খাওয়াতে গেলাম।” কিন্তু যদি আবার হয় এমন ‘ভুল’? যদি আবার মারধর করে ছেলে? বাকিটা ঈশ্বর ও ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিতে চান তিনি। বলেন, “ঈশ্বর যা ভাল বুঝবেন তাই হবে আমার সঙ্গে। কিন্তু ও একমাত্র ছেলে, ওর কাছেই থাকতে হবে আমায়।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More