মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

রমজানের সময় ভোট, ‘তাতে কী?’ তৃণমূলের যুক্তি ওড়ালেন আসাদউদ্দিন ওয়াইসি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর পরই তৃণমূলের তরফে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য দলের সংখ্যালঘু নেতা তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে এগিয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সাংবাদিক বৈঠক করে ফিরহাদ হাকিম বলেছিলেন, রমজানের সময় বাংলায় সাত দফায় ভোট হবে। এতে বিরাট সংখ্যক মুসলিম ভোট দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। কিন্তু তৃণমূলের সেই আশঙ্কা ও যুক্তি সোমবার খারিজ করে দিতে চাইলেন হায়দরবাদের সাংসদ তথা মজলিসি ইত্তেহাদুল মুসলিমিন-এর নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি বলেন, “এঁরা কী যা তা বলছে!”

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বাংলায় ১১ এপ্রিল থেকে ১৯ মে পর্যন্ত সাত দফায় ভোট গ্রহণ করা হবে। রমজান মাস চলবে তখন। এ ব্যাপারে প্রশ্নের জবাবে ওয়াইসি এ দিন বলেন, “অযথা বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা চলছে। এর কোনও মানে নেই।” তাঁর কথায়, “রাজনৈতিক দলগুলিকে বলব দয়া করে মুসলিম সমাজ ও রমজানকে রাজনীতির জন্য ব্যবহার করবেন না।”

হায়দরবাদের এই প্রবীণ সংখ্যালঘু সাংসদ আরও বলেন, “মুসলিমরা অবশ্যই রমজান মাসে উপবাস করবেন। কিন্তু একই সঙ্গে সাধারণ জীবনযাপনও করবেন। অফিস যাবেন, কাজে বেরোবেন। এমনকি গরিব মুসলিমরাও তাই করবেন। ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি, রমজান মাসের মধ্যে ভোট হলে মুসলিমদের ভোট দেওয়ার হার বেড়ে যাবে। আর ওই সময় পার্থিব কাজকর্ম কমই করেন মুসলিমরা।”

রমজান মাসের কথা কমিশন যে একেবারে বিবেচনায় রাখেনি তা নয়। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, গোটা রমজান মাসে ভোট হবে না, এমনটা করা যাবে না। তবে কমিশন খেয়াল রেখেছে মূল পরবের দিনগুলিতে যেন ভোট গ্রহণ না হয়।

বস্তুত বাংলায় সাত দফায় ভোট করানো নিয়ে তৃণমূল যে খুব খুশি তা নয়। তবে দলের তরফে রবিবার ববি হাকিম বলেছিলেন, সাত দফায় কেন বাংলায় চোদ্দ দফায় ভোট হলেও তৃণমূল ৪২ টি আসনের সব ক’টিতেই জিতবে। তবে উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও বাংলায় মুসলিমদের রমজানের মধ্যে ভোট দিতে অসুবিধা হবে বইকি।

Shares

Comments are closed.