শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

নিজে আড়ালে থেকে তৈরি করতেন দলের কৌশল, বন্ধু ছিল সব দলেই

দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে ক্ষমতাশালী মন্ত্রীদের একজন ছিলেন অরুণ জেটলি। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে তিনি বিখ্যাত ছিলেন দক্ষ স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসাবে। দীর্ঘকাল নিজে আড়ালে থেকে তৈরি করেছেন দলের কৌশল। প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের মতো তিনিও আইনের পেশা থেকে রাজনীতিতে এসেছিলেন। সব দলের মধ্যেই তাঁর বন্ধু ছিল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও দীর্ঘকাল তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল।

মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন, আপনার সরকারে আর কোনও দায়িত্ব পালন করতে পারছি না। কারণ আমার শরীর ভালো নেই। চিঠিতে লেখা ছিল, আমি আপনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করতে চাই, আমাকে চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হোক। আমাকে যেন কোনও দায়িত্ব না দেওয়া হয়। পরে টুইট করেও তিনি একই কথা বলেন। একইসঙ্গে তিনি লিখেছিলেন, সরকারকে নিশ্চয় সাহায্য করবেন। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও দায়িত্ব নেবেন না। গত কয়েকমাসে তাঁকে প্রকাশ্যে বিশেষ দেখা যায়নি। তিনি ব্লগে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় মতামত প্রকাশ করতেন।

বিজেপিতে তিনি ট্রাবলশুটার হিসাবে পরিচিত ছিলেন। সরকারের প্রতিটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি সাজিয়েছেন দক্ষতার সঙ্গে। ২০১৪ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় এসে মোদী তাঁকে তিনটি দফতরের দায়িত্ব দেন। অর্থ, প্রতিরক্ষা এবং তথ্য ও সম্প্রচার।

গতবছর মে মাসে কিডনি ট্রানসপ্ল্যান্টের পর জেটলির শারীরিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। তিনি আগে থেকেই ডায়াবেটিসের রোগী ছিলেন। ফেব্রুয়ারি মাসে যখন অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করা হচ্ছিল, তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। তখন চিকিৎসার জন্য ছিলেন আমেরিকায়।

এক পাঞ্জাবী আইনজীবী পরিবারে তাঁর জন্ম হয়। তিনি দিল্লির শ্রীরাম কলেজে পড়াশোনা করেন। তখনই অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্য হন। জরুরি অবস্থার সময়ে তিনি জয়প্রকাশ নারায়ণের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। একসময় তাঁকে বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণীর কোর টিমের সদস্য হিসাবে ধরা হত। মোদীর সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ছিল। শনিবার তাঁর প্রয়াণের পরে দলমতনির্বিশেষে সকলেই শোক জানিয়েছেন।

Comments are closed.