মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

Breaking : কাশ্মীরের স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস রদ, লাদাখ ও জম্মু-কাশ্মীর দু’টি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে দিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। সোমবার রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির দেওয়া বিজ্ঞপ্তি পড়ে শোনালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর পাশাপাশি তিনি আনলেন জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য পুনর্গঠন বিল। তাতে বলা হয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরকে দু’ভাগ করা হবে। তার মধ্যে একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হবে লাদাখ। অপর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হবে জম্মু-কাশ্মীর।

লাদাখে কোনও বিধানসভা থাকবে না। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভা থাকবে। দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেই প্রশাসনের শীর্ষে থাকবেন একজন করে লেফটেন্যান্ট গভর্নর।

লাদাখ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওই অঞ্চলের আয়তন যথেষ্ট বড়। সেখানে খুব কম লোক বাস করেন। সেখানকার ভূপ্রকৃতি বন্ধুর। লাদাখের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন, ওই অঞ্চলটি কেন্দ্রের শাসনের আওতায় আনা হোক। তাতে সেখানকার মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে।

জম্মু-কাশ্মীর সম্পর্কে বলা হয়েছে, সীমান্তের ওপার থেকে এসে সন্ত্রাসবাদীরা সেখানে অশান্তি সৃষ্টি করছে। সেই পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে জম্মু ও কাশ্মীরকেও পৃথক একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হচ্ছে।

এদিন বিরোধীদের হল্লায় রাজ্যসভার অধিবেশন বাতিল হয়ে যায় কিছুক্ষণের জন্য। পরে ফের অধিবেশন বসেছে। বিরোধীরা একযোগে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। তারই মধ্যে কোনরকমে বিবৃতি পাঠ করেন অমিত শাহ।

গত এক সপ্তাহে কাশ্মীরে ৩৮ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে কেন্দ্র। রবিবার মধ্যরাতে কাশ্মীরের নেতারা গৃহবন্দি হয়েছেন। কাশ্মীর উপত্যকার নানা জায়গায় কার্ফু জারি করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা।

কাশ্মীরে অনেকেই ভেবেছিলেন, সরকার ৩৭০ ধারা ও ৩৫ এ ধারা বাতিল করতে চায়। কাশ্মীরে তার সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার কথা ভেবেই আগেভাগে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি আগামী মাসেই রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ অধিবেশনে ভারতের ‘আগ্রাসন’ নিয়ে অভিযোগ জানাতে চলেছে পাকিস্তান। কিন্তু ভারতীয় সেনা জানাচ্ছে, জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে পাকিস্তান নিজেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর আটবার গোলাগুলি চালিয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের বর্ডার অ্যাকশন টিম।

১৩ জুলাই থেকে ৪ অগাস্টের মধ্যে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুজাহিদ এবং স্পেশ্যাল সার্ভিসেস কোর এবং জয়েশ ই মহম্মদের জঙ্গিরা আক্রমণ চালাচ্ছে। উরি, গুরেজ এবং তাঙ্গধের সেক্টরে নিয়মিত গোলাগুলি চলছে। ইতিমধ্যে পাকিস্তানের ন’জন মারা গিয়েছে। দিল্লি থেকে কূটনৈতিক সূত্রে খবর, পাকিস্তানের বিদেশ সচিব আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স ও চিনের প্রতিনিধিদের বলেছেন, ভারত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় নিষিদ্ধ ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করেছে। তাতে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছে।

ভারতীয় সেনা জানাচ্ছে, গত কয়েকদিনে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছে পাকিস্তান। একটি সূত্রে খবর, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পরে মনোবল বেড়েছে পাক সেনার। তারা সীমান্তে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে চায়। তাদের ধারণা সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মহল কাশ্মীর নিয়ে ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য দিল্লিকে চাপ দেবে।

Comments are closed.