কার্গিল-যুদ্ধে দেশের জন্য লড়াই করা সেনা নাকি ‘বিদেশি’! অবসরের পরে ঠাঁই হল জেলে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য় ওয়াল ব্যুরো: দেশের হয়ে যুদ্ধ করেছেন তিনি। সেই তাঁকেই বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে পাঠানো হল জেলে!

    এমনটাই ঘটেছে লেফটেন্যান্ট মহম্মদ সানাউল্লার সঙ্গে। কার্গিল যুদ্ধে দেশের হয়ে লড়ে, অবসরের পরে সেই দেশেরই আইনে ‘অপরাধী’ হলে গেলেন অসমের এই প্রাক্তন সেনাকর্মী। অবসরের পরে তিনি অসম পুলিশের সীমান্ত শাখায় এএসআই হিসেবে কাজ করছিলেন। পুলিশের এই সীমান্ত শাখার কাজই হল সন্দেহজনক নাগরিকদের খুঁজে বার করা। সেই শাখাই চিহ্নিত করেছে তাঁকে!

    নির্বাচনী প্রচারে সেনাবাহিনীর কৃতিত্বকে বারবার সামনে রেখেছে বিজেপি। বিজেপি-শাসিত অসম রাজ্যেই সম্প্রতি এনআরসি ইস্যু নিয়ে সক্রিয় হয়েছে প্রশাসন। গত বছর বেশ কয়েক জন আত্মহত্যাও করেন এই ঘটনায়।

    সম্প্রতি রাজ্যের বেশ কয়েক জন প্রাক্তন ও বর্তমান সেনাকর্মী এবং পুলিশকর্মীর নামে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের নোটিস এসেছিল। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছেও স্মারকলিপি পাঠিয়েছিলেন সেনাকর্মীরা। জানিয়েছিলেন, তাঁরা অপমানিত। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন সানাউল্লা ও তাঁর আত্মীয়, অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার মহম্মদ আজমল হক। আজমলের মামলাটি খারিজ হলেও সানাউল্লার মামলা চলছিল।

    গত কাল সেই মামলার শুনানিতেই বিচারক তাঁকে বিদেশি বলে চিহ্নিত করে রায় দেন। তাঁকে জেলেও পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আজ, বহস্পতিবার তাঁর পরিবারের তরফে ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।

    সানাউল্লার আত্মীয় আজমল জানান, সানাউল্লা ১৯৮৭ সালে, মাত্র ২০ বছর বয়সে সেনায় যোগ দেন। অসমসাহসিকতার জন্য রাষ্ট্রপতি পুরস্কারও পেয়েছিলেন সানাউল্লা। একটানা ৩০ বছর সেনাবাহিনীতে থাকার পরে ২০১৭ সালে অবসর নেন তিনি। এর পরে এএসআই হিসেবে সীমান্ত শাখায় যোগ দেন।

    স্বাভাবিক ভাবেই সেনাবাহিনীতে ও পুলিশে যোগ দেওয়ার সময়ে তাঁর নাগরিকত্ব যাচাই করা হয়। ফলে তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কথাই নয়। কিন্তু বিচারক জানান, শুনানির সময়ে নাকি সানাউল্লা বলেছেন, তিনি ১৯৭৮ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। আসলে সেটি ১৯৮৭ সাল হওয়ার কথা। তাই এটি তাঁর মিথ্যাচার। আদালতকে ভুল তথ্য দেওয়া। সেই অপরাধেই তাঁকে বিদেশি হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হয়।

    আজমলের দাবি, যেখানে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সময়ে সব প্রমাণপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, সেখানে মুখ ফসকে বলা ভুলকে প্রমাণ হিসেবে ধরা যায় না। প্রাক্তন সেনাকর্মী ও রাজ্য পুলিশের এএসআইকে বিদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া যায় না।

    ৫২ বছরের সানাউল্লা বিদেশি ঘোষিত হওয়ার তাঁর স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলের নামও এনআরসি থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More