বুধবার, মার্চ ২০

ওরা কেন মরিয়া

পঞ্চায়েত ভোট চুকে গিয়েছে দু’সপ্তাহ হতে চলল। ভোটের আগে এবং ভোটের দিনেও তো কম রক্তপাত, বোমাবাজি, অঙ্গহানি, প্রাণহানি হল না। তবু ভয় দেখানো, জোরজুলুম থামছে কই! সন্ত্রাস এখনও দৈনন্দিন ব্যাপার। কিন্তু সন্ত্রাস করে কি মন জেতা যায়? মার খেয়ে হাড়গোড় ভাঙার ভয়ে যদিও বা দু’-এক জন জেতা সদস্যকে বশ করা যায়, আমজনতা কি এত সহজে তা মেনে নেবে?

ব্যাপারটা একটু খোলসা করা যাক তা হলে। মালদহের বিভিন্ন এলাকায় জয়ী বিজেপি প্রার্থীদের নিয়ে এসে কার্যালয়-বন্দি করে রাখতে হয়েছে। কারণ গ্রামে ফিরলেই তাঁদের নাকি তৃণমূলে যোগ দিতে বাধ্য করা হবে। সে পিটিয়ে হোক, বা ঘর পুড়িয়ে হোক। উত্তরের মালদহ শুধু নয়, এমন ঘটনার খবর আসছে পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকেও। সেখানে আবার গল্পে বাড়তি একটা টুইস্ট আছে। দু’-এক জন জয়ী নেতা প্রলোভনে পা দিয়ে ঘাসফুলে পা বাড়াতে পারেন আন্দাজ করে জেলা সভাপতি হুমকি দিয়ে রেখেছেন, ‘যাক না দেখি! গেলে একদম পা ভেঙে দেব না?’

প্রলোভনে পড়ে দু’-এক জন পা বাড়ালেন কি বাড়ালেন না সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হচ্ছে, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার পঞ্চায়েতকে পুরোদস্তুর বিরোধী-শূন্য করার জন্য শাসকদলের মরিয়া চেষ্টা। কিন্তু বারবার সেই একই প্রশ্ন উঠছে। কেন? কেন এই মরিয়া ভাব জরুরি? যদি দেশ ও দশের জন্য এতই কাজ করি আমি, যদি এতই সফল ভাবে কিশোরী-তরুণীদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করে তাদের মুখে আত্মবিশ্বাসের হাসি ফোটাই— তা হলে কেন এত জোরাজুরি করতে হবে? দলের উপরের সারির নেতা-নেত্রীরাও কি বুঝতে পারছেন না, যে এতে হিতে বিপরীত হতে পারে? শুধু গ্রামগঞ্জ নয়, নাগরিক সমাজের মনেও গোটা ব্যাপারটা একটা ‘নেগেটিভ’ ছবি আঁকছে। আগামী বছরের নির্বাচন কমিশন নিয়ন্ত্রিত, প্রত্যাশিত ভাবে সুরক্ষিত ভোট-যজ্ঞের পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে।

হয়তো বুঝতে পারছেন, কিন্তু নীচের তলাকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। পঞ্চায়েতের বিপুল টাকা তো বড় মিষ্টি মধু। সেই মধুভাণ্ডকে কোনও ভাবে ছাড়া যাবে না।

ওটাই তো রোজগারপাতি। ফুলে-ফেঁপে ওঠার সোপান।

Shares

Leave A Reply