লকডাউনেই শ্যুটিং মোবাইলে, মা-মেয়েকে নিয়ে নতুন শর্টফিল্ম অপরাজিতার, তফাত নেই রিল ও রিয়েলে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

    অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য এবার গল্পকার ও চিত্রনাট্যকারের ভূমিকায়। আসছে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের তরফে নির্মিত নতুন শর্ট ফিল্ম ‘দুঃসময়ের ওষুধ’। আজ, রবিবার, বিকেল পাঁচটায় ইউটিউবে অপরাজিতার চ্যানেল ‘নিরন্তর অপরাজিতা’-তে রিলিজ করেছে সিনেমাটি। তারই আগে শনিবারের লকডাউনের বিকেলে অপরাজিতা আঢ্য কথা বলেছেন দ্য ওয়ালের সঙ্গে। জানিয়েছেন নতুন এ ছবির প্রেক্ষাপট ও কাহিনিবিন্যাস।

    একটি মেয়ে ব্যাঙ্কে কাজ করে। ব্যাঙ্কটি তাঁর বাড়ি থেকে অনেকটাই দূরে। কিন্তু এই লকডাউনেও বহুদূরের সেই ব্যাঙ্কে যেতেই হয় মেয়েটিকে। শিবপুরের মেয়ে রোজ যায় মেদিনীপুরের ব্যাঙ্কে। এভাবেই সে রোজ লকডাউনেও ডেলি প্যাসেঞ্জারি করত গোড়া থেকেই। কিন্তু লকডাউনে ট্রেন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায় এক সময়। গাড়ি ভাড়া করে শিবপুর থেকে মেদিনীপুর যাওয়া আসা করতে হচ্ছে তাকে। ফলে অতিরিক্ত খরচ তো বটেই, শরীরও ক্লান্ত হয়ে পড়ছে তার। এই অবস্থায় মেয়েটি ভাবছে মেদিনীপুরে থেকেই যাবে, কিন্তু একা একটি মেয়ের এই সময়ে একলা থাকার নিরাপত্তা নিয়েও তার মা চিন্তিত। আবার অন্যদিকে এই করোনা পরিস্থিতিতে যে মেয়েকে প্রায় রোজ বেরোতে হচ্ছে সে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত তার মাও খুব চিন্তায় থাকছেন।

    আদতে এটা খুবই বাস্তব পরিস্থিতি এখনকার। যাদের পরিবারের সদস্য জরুরি পরিষেবায় আছেন, তাঁরা ভালই বুঝছেন কী দুশ্চিন্তার প্রহর চলছে। অপরাজিতার ‘দুঃসময়ের ওষুধ’ এমনই এক মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প। সে পরিবারের প্রতিদিনের ভয়ার্ত দিনযাপনের গল্প, অসহায়ত্বের গল্প।

    অপরাজিতা বলছিলেন, যে মায়েরা খুব সাধারণ হন, মধ্যবিত্ত হন, তাঁদের মেয়েরাই অনেকে অসাধারণ হন। বিশেষত মায়েরাই তো মেয়েদের তৈরি করেন। এই সাধারণ মায়েদের মেয়েরাই কেউ আইপিএস অফিসার, কেউ ডাক্তার, কেউ নার্স। তাঁরাই কিন্তু এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সৈনিক। সিনেমার পর্দায় ব্যাঙ্কে পরিষেবা দেওয়া ব্যাঙ্ককর্মী তরুণীও তাঁদেরই এক জন।

    আরও পড়ুন: লকডাউনেও তেঘরিয়া থেকে নরেন্দ্রপুর আসছি শুধু আপনাদের জন্য! ব্যাঙ্ককর্মীদেরও ঝুঁকি কম নয়

    অপরাজিতা জানালেন, এই মেয়েটির ছবিতে নাম হচ্ছে মেনি। মেনি কিন্তু কোনও পেশাদার অভিনেত্রী নয়। নবাগতা অভিনেত্রী হবে বলেই কাজ করেছে তাও নয়। মেনি সত্যিই ব্যাঙ্কে চাকরি করে। রোজ ওভাবেই যায়। ওর নাম গার্গী রায়।

    “গার্গী আমায় রোজ এসে বলত ওর এই রোজকার জার্নির গল্প। তাই ওকেই আমি নিয়েছি ছবিটায়। বাস্তবের নায়িকাই ছবির নায়িকা। রিল টু রিয়েলে কোনও তফাত নেই। ওর মায়ের রোলটা আমি করছি। তবে ফিল্মের এই মা-মেয়ে কিন্তু বাস্তবেও মা-মেয়ে। মেনি অর্থাৎ গার্গী আসলে আমারই মেয়ে। ও ছোট্টবেলা থেকেই আমার কাছে থাকে। আমাকেই মা বলে ডাকে আর আমার বরকে পাপা বলে।”– খোলসা করলেন অপরাজিতা। আরও বললেন, “আমাদের মা-মেয়ের বন্ডিং ছবি দেখলেই সবাই বুঝবেন। সব মায়ের মতোই মেনির মাও চিন্তা করে কখন মেয়েটা আমার বাড়ি আসবে!”

    সিনেমার মেনি যখন বাড়িতে ঢোকে, তখন মিনি হাত-মুখ ধুয়ে, জামাকাপড় কেচে উঠে দেখে, তার মা সন্ধ্যে দিচ্ছে ঠাকুরঘরে। এটাই নিয়ম মেনিদের বাড়ির। বাস্তবেও। অপরাজিতা জানালেন, আজকে করোনার জন্য এই যে নিয়মটা হয়েছে আগে ভাল করে হাত পা ধুয়ে বাড়ি ঢুকবে, এটা তো আমাদের পুরনো বাঙালি বাড়ির সনাতন নিয়মই ছিল। এই আটপৌরে বাঙালি নিয়মগুলোই এখন কত কার্যকরী হয়ে উঠেছে, সেই গল্পই বলবে এই ছবি। সেইসঙ্গে ব্যাঙ্ককর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাও আর একটি দিক।

    এ ছবির শ্যুটিং যেভাবে হয়েছে, সেটাও যেন একটা গল্প। গোটা সিনেমাটাই শ্যুট হয়েছে মোবাইল ক্যামেরায়। নিজেরই বাড়িতে শ্যুট করেছেন অপরাজিতা। আর শিবপুরের অংশটা সেখান থেকেই শ্যুট করেছে গার্গী নিজেই। গোটা বিষয়টা পরিচালনা করেছেন অপরাজিতার স্বামী অতনু হাজরা। “ছবির ভাবনা, গল্প ও চিত্রনাট্য আমার করা। মিউজিক করেছে রাজীব মুখার্জী আর সুদীপ্ত সাহা। সম্পাদনা সুবীর বিশ্বাসের।”– বললেন অপরাজিতা।

    স্বামী অতনু হাজরার সঙ্গে।

    হাওড়া-শিবপুর রেড জোন। অপরাজিতার বাড়ি যে বেহালায়, সেখানেও করোনা আতঙ্কে। ঘরবন্দি অবস্থায় এবং আতঙ্কের আবহে তৈরি হয়েছে এই গোটা সিনেমাটা। অপরাজিতা জানালেন, তাঁর শ্বশুরবাড়ি বেহালায় আর হাওড়ায় বাপের বাড়ি। চল্লিশ দিনের বেশি ঘরবন্দি তিনি। সেই মার্চের ১৬ থেকেই শ্যুটিং বন্ধ হয়ে গেছে। তবে বিশ্বমাতার অসুখ করেছে, সুতরাং এটাই যদি তার ওষুধ হয় তাহলে তা মানতেই হবে, এমনই মনে করেন তিনি। তাঁর পরামর্শ, সকলে বাড়িতেই থাকুন, ভাল থাকুন। সৃজনশীল কাজ বাড়িতে বসেও করা যায়, তাতে মন ভাল থাকে।

    এসবের মধ্যেই এসেছে, অপরাজিতার কেরিয়ারের অন্যতম সেরা ছবি ‘বেলাশেষে’র পাঁচ বছর পূর্তির দিন। গতকাল, ১ মে ছিল সেই দিনটাই। অপরাজিতা বলছিলেন, মানুষ যতবার দেখবে ততবার ভাল লাগবে এই ছবি। এই ছবির সিক্যুয়েল ‘বেলা শুরু’তেও আছেন অপরাজিতা।

    অপরাজিতার আরও একটি শর্টফিল্ম।

    অপরাজিতার কথায়, “দেখো আমি তো কাজ ছাড়া থাকতে পারি না। যে কোনও সৃজনশীল কাজ আমি করতে ভালোবাসি, না করলে আমার শরীর খারাপ করে যায়। তো আমি কাজের মধ্যেই আছি, আমাদের কাজগুলো মানুষের ভালো লাগছে এটা পরম প্রাপ্তি। তাই জন্যেই ‘দুঃসময়ের ওষুধ’ ছবিটা দেখলে মানুষ বুঝতে পারবে কেন দেখা উচিত।

    দেখুন সেই সিনেমাটি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More