করোনা-গুজবে হেনস্থার শিকার বিমানকর্মী তরুণীর মা, ভিডিও দেখেই তৎপর কলকাতা পুলিশ

গুজবের জেরে কেউ কোনও রকম সামাজিক বিভাজনের শিকার হলে তার বিরুদ্ধে কড়া হবে প্রশাসন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের গুজব ছড়ানো নিয়ে তৎপর কলকাতা পুলিশ।

    ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সে কর্মরত এক তরুণী ভিডিও বার্তা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, এই গুজবের জেরে কীভাবে বিপদে পড়েছেন তিনি ও তাঁর মা।

    খবর পেয়েই সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে কথা বলা হয় কলকাতা পুলিশের তরফে। ঘটনাটির কথা কলকাতা পুলিশ সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছে, আশ্বস্ত করেছে, তরুণীকে ও তাঁর মাকে সবরকম সহায়তা করা হবে প্রশাসনের তরফে। একইসঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে, গুজবের জেরে কেউ কোনও রকম সামাজিক বিভাজনের শিকার হলে তার বিরুদ্ধে কড়া হবে প্রশাসন। যাঁরা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরুরি পরিষেবা চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের প্রতি কোনও কোনও অন্যায় আচরণ মেনে নেওয়া হবে না।

    জানা গেছে, ওই তরুণীকে নিয়ে এলাকায় গুজব ছড়িয়েছে, তিনি নাকি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। তার জেরে হেনস্থার মুখে তাঁর মা। তরুণী একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন এই অবস্থার কথা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিও।

    ওই তরুণী ভিডিওয় বলেন, “গুজব ছড়াচ্ছে আমার এলাকায়, আমি নাকি করোনাভাইরাসে সংক্রমণে ভুগছি। আমি আর আমার মা থাকি বাড়িতে। আমি এখন বাড়িতেও নেই। তবু মানুষজন বাড়িতে এসে আমার মাকে হেনস্থা করছে। মা বাজারে যেতে পারছে না জরুরি জিনিস কিনতেও। সবাই বলছে, ‘তোমার মেয়ের করোনা হয়েছে, তুমিও ভাইরাস ছড়াচ্ছো।’– এসব নানা রকম হেনস্থায় আমরা জর্জরিত।”

    সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার কর্মীদেরও হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। মঙ্গলবার এয়ার ইন্ডিয়ার পর ইন্ডিগোর তরফেও জানানো হয়েছে যে সমাজের বিভিন্ন স্তরে তাঁদের কর্মীদেরও হেনস্থা করা হচ্ছে। যেহেতু এইসব কর্মীদের সম্প্রতি বিদেশে যেতে হয়েছে তাই করোনা সতর্কতায় একদল মানুষ ক্রমাগত তাঁদের একঘরে করে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

    মঙ্গলবার বিবৃতি দিয়ে ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে সারা বিশ্ব জুড়ে যখন এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি এবং চারদিকে জারি হয়েছে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা সেইসবের মাঝেও নিজের কথা না ভেবে, কোনও কিছুর পরোয়া না করেই সংস্থার কর্মীরা জনতাকে সবচেয়ে ভাল পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাই সাধারণ মানুষ এইসবের জন্য যেন সংস্থার কর্মীদের ন্যূনতম সম্মানটুকু দেন। তাঁদের পাশে থাকেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More