বুধবার, মার্চ ২০

বেশ করেছেন অনুষ্কা

কী দরকার ছিল প্রতিবাদী হওয়ার? গাড়ির কাঁচ নামিয়ে পাশের গাড়িকে বকুনি দেওয়ার? কত লোকেই তো গাড়ি থেকে কত কিছু ফেলে। চায়ের কাপ। সিগারেটের খালি প্যাকেট। সিঙ্গাড়ার ঠোঙা। মিষ্টির বাক্সের ধারক ও বাহক পলিপ্যাক। এত দেখার কী আছে ভাই?  এত গর্জে ওঠার কী আছে? ঔচিত্যবোধ জাগিয়ে তোলার জন্য এত কেন ব্যগ্রতা?

বিদগ্ধ সোশ্যাল মিডিয়া সমাজের একটা বড় অংশের তাই মত, অনুষ্কা শর্মা একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন। অনধিকার চর্চা করে ফেলেছেন। তিনি যেহেতু নিজে অনুষ্কা, তিনি যে হেতু বিরাট কোহলির স্ত্রী, তাই একটু প্রতিপত্তি দেখাতেই এ সব করেছেন। রাস্তায় নোংরা ফেলার জন্য যে সহনাগরিককে তিনি তিরস্কার করেছেন, তাঁর সম্মানের কথা না ভেবে বিরাটেরই বা কী দরকার ছিল সেই কথোপকথন ভিডিও রেকর্ডিং করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দেওয়ার?

অতএব বিরুষ্কা কাঠগড়ায়।

কিন্তু এই তর্কবিতর্কের মধ্যে  মনে দ্য ওয়াল মনে  করে,  আন্তরিক ভাবেই মনে করে,  বেশ করেছেন বিরুষ্কা। সমাজের একটা অংশ নেহাত নির্লজ্জ বলে এর মধ্যে খুঁত ধরার চেষ্টা করে। উচিত অনুচিত নিয়ে জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতাবাজি করে। কিন্তু নিজেদের শোধরানোর চেষ্টা করে না।

শহরের রীতিমতো অভিজাত মহল্লাতেও হরবকত দেখা যায়,  এ দিক ও দিক তাকিয়ে গৃহকর্ত্রী বারান্দা থেকে ময়লার প্যাকেট ছুড়ে ফেলছেন রাস্তায়। পাশে গারবেজ বিন থাকা সত্ত্বেও একটু গতর খাটিয়ে সেখানে না গিয়ে রাস্তায় ফেলছেন যা ইচ্ছে তাই।

যিনি ফেলছেন, তিনি যেন ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানেন না। আর যাঁরা সেই নিক্ষেপ দেখছেন,  তাঁরাও কিছু মনে করছেন না। কেউ প্রতিবাদ করলে অবশ্য তাঁরাও সমস্বরে প্রতিবাদী হবেন।

মজার ব্যাপার, এঁরা নিজের শহর বা নিজের পাড়া নোংরা করতে ভালবাসেন, কিন্তু সিঙ্গাপুর বেড়াতে গিয়ে  চকোলেটের প্যাকেট ফেলতেও নির্দিষ্ট পাত্র খোঁজেন। কারণ তাঁরা জানেন,  এর অন্যথা করলে কপালে দুঃখ আছে। অর্থাৎ শক্তের ভক্ত।

অনুষ্কার বকুনিতে যখন এঁদের এতই গা জ্বলে যায়,  এঁদের শাসন করা হোক আইন দিয়ে। পেটে এত বিদ্যে বুদ্ধি নিয়েও যাঁরা এত অসচেতন,  তাঁদেরকে শায়েস্তা করতে রক্তচক্ষুই দরকার। সে অভিনেত্রীর হোক, বা প্রশাসনের।

Shares

Leave A Reply