চিনা অ্যাপ বয়কটের জোয়ার, অল্প দিনেই জনপ্রিয় ‘রিমুভ চায়না অ্যাপস’, লক্ষ লক্ষ ডাউনলোড

গত ১৭ মে নতুন এই অ্যাপটি বাজারে আসে। খবরে দাবি করা হচ্ছে, এরমধ্যেই দশ লাখের বেশি ডাউনলোড হয়ে গেছে। পাঁচের মধ্যে ৪.৮ স্টার রেটিংও পেয়েছে অ্যাপটি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি তাঁর জাতির উদ্দেশে ভাষণে ‘আত্মনির্ভর’ ভারত গঠনের ডাক দিয়েছিলেন। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র উপরে জোর দিতে বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ঘোষণায় আধাসেনার ক্যান্টিন থেকে বিদেশি পণ্য বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। এর পর থেকে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদেশি পণ্য বর্জনের ডাক দিতে শুরু করেন। বিশেষ করে চিনা সামগ্রীর বিরুদ্ধে প্রচার শুরু হয়। প্রথমদিকে সেটা ছিল করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে চিনের উপরে রাগ। পরে দিল্লি-বেজিং কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে উত্তাপ তৈরি হতে চিনের উপরে রাগ আরও বেড়েছে। আর এই রাগকে নির্ভর করেই প্রায় রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নতুন এক অ্যাপ। ‘রিমুভ চায়না অ্যাপস’ ইতিমধ্যেই গুগল প্লে স্টোরে ফ্রি অ্যাপের মধ্যে দু’নম্বর জায়গায় চলে এসেছে। বাড়ছে স্টার রেটিংও।

    আরও পড়ুন

    দিলীপ-মুকুল ভারসাম্য, নবাগতদের উৎসাহ, রাজ্য বিজেপির কোর কমিটিতে ভোটের দামামা

    গত ১৭ মে নতুন এই অ্যাপটি বাজারে আসে। খবরে দাবি করা হচ্ছে, এরমধ্যেই দশ লাখের বেশি ডাউনলোড হয়ে গেছে। পাঁচের মধ্যে ৪.৮ স্টার রেটিংও পেয়েছে অ্যাপটি। রাজস্থানের জয়পুরের সংস্থা ‘ওয়ানটাচ অ্যাপল্যাবস’ এই অ্যাপটি বানিয়েছে। একেবারেই অখ্যাত এই সংস্থার বক্তব্য, কোনও স্মার্টফোনে ক’টি চিনের অ্যাপ রয়েছে তা খুঁজে দেবে এই অ্যাপ। এর পরে গ্রাহক চাইলেই সেই সব অ্যাপ রিমুভ করতে পারেন। চিনা অ্যাপের সেই তালিকায় থাকছে, ‘টিকটক’, ‘শেয়ারইট’, ‘ক্যামস্ক্যানার’-এর মতো জনপ্রিয় অ্যাপগুলিও।

    এই অ্যাপটি এত তাড়াতাড়ি জনপ্রিয় হওয়ার পিছনে আরও একটি কারণ রয়েছে। সম্প্রতি সীমান্তে চিনের আগ্রাসী মনোভাবের সময়েই সেই দেশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতবাসীকেও সামিল হওয়ার ডাক দেন সোনম ওয়াংচুক। যাঁর ছায়ায় বলিউডের বিখ্যাত ছবি ‘থ্রি ইডিয়টস’-এ আমির খানের চরিত্রটি তৈরি হয় সেই ওয়াংচুক একটি ভিডিওবার্তায় চিনা পণ্য বয়কটের ডাক দিয়ে বলেন, ”একদিকে সেনাবাহিনী লড়াই করছে, আর আমরা চিনা হার্ডওয়ার ও টিকটক অ্যাপের মত সফটওয়ার ব্যবহার করছি। কোটি টাকার ব্যবসা করছে চিনা সংস্থাগুলি। সেই টাকাই তাদের সেনা কাজে লাগাচ্ছে আমাদের বিরুদ্ধে।” ওয়াংচুক ওই ভিডিওবার্তায় আরও বলেন,”চিনকে জবাব দেবে সেনার বুলেট। কিন্তু নাগরিকদের ওয়ালেট দিয়ে জবাব দিতে হবে।” তিনি বলতে চান, পণ্য বয়কট করেই চিনকে ভাতে মারতে হবে।

    সেই ডাকে সাড়া দিয়ে টিকটক অ্যাপ ব্যবহার বন্ধ করে দেন অভিনেতা তথা মডেল মিলিন্দ সোমন। তিনিও টুইট করে চিনা পণ্য বয়কটের ডাক দেন। এই রকম এক পরিবেশের মধ্যেই ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, ‘রিমুভ চায়না অ্যাপস’।

    জনপ্রিয়তা বাড়ার পিছনে আরও একটা কারণ অ্যাপটি ব্যবহারের সহজ অপশন। গুগল প্লে স্টোরে Remove China Apps লিখে সার্চ করে ডাউনলোড করতে হবে। এর পরে শুধু ওপেন করলেই হবে। আলাদা করে সাইন আপের প্রয়োজন নেই। স্ক্রিনে ভেসে ওঠা ‘Scan’ অপশনটি ক্লিক করলেই মোবাইলে যে সমস্ত চিনা অ্যাপ আছে তা দেখিয়ে দেবে। এই বার ইচ্ছা মতো সেই সব অ্যাপ আনইনস্টল করলেই হল। আর মোবাইলে কোনও চিনা অ্যাপ না থাকলে “You are awesome, No China app found in your system” বলে জানিয়ে দিচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More