সোমবার, ডিসেম্বর ৯
TheWall
TheWall

ডেঙ্গির পরে আর এক ঘাতক

ডেঙ্গির মতো কিন্তু ডেঙ্গি নয়। শোনা যেত সেই রোগের বাহক যে পোকা, তারা জন্মায় ধানক্ষেতের মধ্যে কিংবা ঝোপেঝাড়ে। সেক্ষেত্রে কেবল গ্রামেগঞ্জেই সেই রোগের প্রকোপ দেখা যাওয়ার কথা। অথচ শহরাঞ্চল, এমনকি খাস কলকাতা থেকেও সেই রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর আসছে। রোগের নাম স্ক্রাব টাইফাস। ডেঙ্গির প্রকোপ সামলাতে যখন রাজ্য নাজেহাল, তখন চুপিসাড়ে হানা দিয়েছে আর এক ঘাতক। চলতি বছরেও স্ক্রাব টাইফাসে মৃত্যুর খবর আসা শুরু হয়েছে। শিশু, যুবক কিংবা বৃদ্ধ, কাউকে রেহাই দিচ্ছে না সেই রোগ।

স্ক্রাব টাইফাসের সংক্রমণ হলে প্রচণ্ড জ্বর আসে, মাথায় যন্ত্রণা হয়, পেশিতে যন্ত্রণা হয়, শরীরে বাদামি রং-এর চাকা চাকা দাগ দেখা যায়। মনে হয় সিগারেট দিয়ে কেউ ছ্যাঁকা দিয়েছে। রোগীর রক্তে প্লেটলেট কাউন্ট হু হু করে কমে। ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগীর মাল্টি অর্গান ডিসফাংশন সিনড্রোম দেখা যায়। অর্থাৎ লিভার কিডনি, হৃদযন্ত্র ইত্যাদি একে একে বিকল হতে থাকে। ফলে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগী মারা যায়।

গ্রামেগঞ্জে এই রোগ প্রথমদিকে ধরতেই পারেন না অনেকে। বহু ক্ষেত্রে প্রথম দিকে ডেঙ্গু ভেবে চিকিৎসা হয়। শেষকালে যখন রোগ ধরা পড়ে তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।

আরও বিপদের কথা হল, স্ক্রাব টাইফাস কখন যে দেখা দেবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। আগে ভাবা হত, জুন থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে এই রোগের সংক্রমণ হতে পারে। কিন্তু গত কয়েক বছরে নভেম্বরে, এমনকি ডিসেম্বরেও স্ক্রাব টাইফাসে আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে।

আমাদের রাজ্যে প্রথমে উত্তরবঙ্গে ওই রোগের সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল। বছর তিনেক আগে দক্ষিণবঙ্গে স্ক্রাব টাইফাসে আক্রান্তের সন্ধান মেলে। গত ১৩ নভেম্বর স্ক্রাব টাইফাসে মারা গিয়েছেন মুর্শিদাবাদের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মহাদেব মণ্ডল। তিনি প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৪ নভেম্বরে। প্রথমদিকে সেরে উঠছিলেন। পরে অবস্থার অবনতি হয়। হাসপাতালে দিনের বেশিরভাগ সময় নাকি ঘুমিয়ে থাকতেন।

গত শনিবার মারা গিয়েছেন মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থানা এলাকার বাসিন্দা তরুণ সরকার। তিনিও প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন। তাঁকে কলকাতার হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু তার সময় পাওয়া যায়নি।

ডেঙ্গির প্রকোপ থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। হেলথ ক্যাম্প, ব্লিচিং ছড়ানো, মানুষকে সতর্ক করার জন্য প্রচার, ইত্যাদি চলছে। তাতে কিছু কাজ হচ্ছে নিশ্চয়। কিন্তু স্ক্রাব টাইফাস নিয়ে তেমন তৎপরতা কই? যতদূর মনে হচ্ছে, এই রোগের মোকাবিলা করা ডেঙ্গির চেয়ে কঠিন। কেননা সে প্রথমে ডেঙ্গির ছদ্মবেশ ধরে আসে। এক্ষেত্রে সচেতনতাই বড় হাতিয়ার। সাধারণ মানুষ যাতে রোগের লক্ষণ শুরুতেই বুঝতে পারে, সেজন্য রাজ্য জুড়ে প্রচার অভিযান চালানো প্রয়োজন।

Comments are closed.