উদ্বেগে আছি, ঘুমোতে পারছি না, বললেন হরিবংশ, বসছেন অনশনে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার সকালে সংসদ চত্বরে অবস্থানরত আট সাংসদকে চা খাওয়াতে গিয়েছিলেন রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ। সাংসদরা তাঁকে ফিরিয়ে দেন। তাঁর এই আচরণের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপরে জানা যায়, রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ও উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নায়ডুকে চিঠি লিখেছেন হরিবংশ। চিঠির বক্তব্য, বিরোধী এমপিরা রাজ্যসভায় যে আচরণ করেছেন, তাতে তিনি উদ্বিগ্ন। তাঁর ঘুম হচ্ছে না। তিনি বুধবার পর্যন্ত অনশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, তিনি গণতান্ত্রিক রীতিনীতির তোয়াক্কা করেননি। রবিবার তড়িঘড়ি কৃষি বিলগুলি পাশ করাতে সরকারকে সাহায্য করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্যসভায় অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চেয়েছিলেন বিরোধীরা। চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নায়ডু অবশ্য সেই প্রস্তাব মানেননি।

হরিবংশ এদিন চিঠিতে লিখেছেন, “গত রবিবার রাজ্যসভায় যা ঘটল, তাতে আমি গভীর উদ্বিগ্ন হয়েছি। গত দু’দিন আমি ঘুমোতে পারিনি।” পরে তিনি লিখেছেন, ‘গণতন্ত্রের নামে বিরোধী এমপিরা হিংস্র আচরণ করেছেন। তাঁরা চেয়ারম্যানকে ভয় দেখাতে চেষ্টা করছিলেন।’

৬৪ বছর বয়সী হরিবংশ কিছুদিন আগে দ্বিতীয়বার রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি চিঠিতে লিখেছেন, ‘গত ২০ সেপ্টেম্বর আমার সামনে যা ঘটেছে, তাতে রাজ্যসভার মর্যাদাহানি হয়েছে। রুলবুক ছিঁড়ে আমার দিকে ছুড়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন এমপি টেবিলের ওপরে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন। তাঁরা আমার বিরুদ্ধে অসংসদীয় ভাষা প্রয়োগ করছিলেন। ওই ঘটনার কথা সবসময় আমার মনে পড়ছে। আমি ঘুমোতে পারছি না।’

হরিবংশ বলেন, তিনি জয়প্রকাশ নারায়ণের গ্রামের মানুষ। জয়প্রকাশ নারায়ণের ডাকে তিনি আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি বিহারে রাজনীতি করে উঠে এসেছেন। এই বিহারের বৈশালীতেই প্রাচীনকালে গণতন্ত্র স্থাপিত হয়েছিল।

মঙ্গলবার সকালে হরিবংশের প্রশংসা করে টুইট করেন মোদী। তিনি লেখেন, ‘ক’দিন আগেই যাঁরা তাঁকে আক্রমণ করেছেন, অপমান করেছেন, তাঁদের নিজের হাতে চা দিতে গিয়েছিলেন শ্রী হরিবংশজি। তিনি বিনয়ী এবং উদার প্রকৃতির মানুষ। তিনি মহৎ। দেশের মানুষ তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। আমিও তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

রাজ্যসভায় বিশৃঙ্খলার অভিযোগে সোমবার আট সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়। তাঁরা হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের ডেরেক ওব্রায়েন, দোলা সেন, আম আদমি পার্টির সঞ্জয় সিং, কংগ্রেসের রাজীব সাতভ, সৈয়দ নাসির হুসেন, রিপুন বরেন, সিপিএমের কে কে রাগেশ, এলামারান করিম। তাঁরা এক সপ্তাহ রাজ্যসভার অধিবেশনে অংশ নিতে পারবেন না। সোমবার রাজ্যসভায় তাঁদের শাস্তি ঘোষণা করার পরেই তাঁরা সংসদ চত্বরে প্রতিবাদে বসেন। তাঁদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা, ‘আমরা কৃষকদের জন্য লড়াই করব’, ‘পার্লামেন্টকে খুন করা হয়েছে’।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More