মমতা যেতেই ফাঁকা ইনডোর আরও ফাঁকা, রেগে সভা ছাড়লেন অভিষেক

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

রফিকুল জামাদার

অনেক আগে থেকে ঘোষিত কর্মসূচি। ডাকা হয়েছিল দলের ছাত্র, যুবদের। অন্যান্যবার এই ধরনের সমাবেশে তিল ধারনের জায়গা থাকে না। কিন্তু সোমবার যেন উল্টো ছবি। নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র-যুব কর্মশালা দেখে অতীতের ছবির সঙ্গে কোনও মিল খুঁজেই পাওয়া যাবে না। এমন ছবি দেখে সকাল থেকেই কপালে ভাঁজ ছিল নেতানেত্রীদের। আর সেই ভিড়টুকুও রইল না দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা ছেড়ে বের হয়ে যাওয়ার পরে।

সমাবেশের শেষে এদিন সন্ধে ছ’টা পর্যন্ত কর্মশালা চলার কথা। কিন্তু বেলা তিনটের সময়েই নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের ছবি এমন হয়ে যায় যে বক্তব্য না রেখেই সভাস্থল ছেড়ে চলে যান যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বক্তৃতা দেবেন বলে নাম ঘোষণাও হয়ে যায়। কিন্তু মাইকের সামনেই আসেননি অভিষেক। আসলে যখন তিনি বলতে উঠবেন তখন গ্যালারি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার হুড়োহুড়ি চলছে।

আরও পড়ুন: অভিষেকের চোখ অপারেশন হয়েছে, মাথায়ও একটু প্রবলেম, বাড়িতে বসেই কাজ করছে: মমতা

নেতাজি ইনডোরে এদিন যখন মমতা পৌঁছন তখনও খুবই করুণ অবস্থা সভাস্থলের। স্টেডিয়ামের ফ্লোরই ভরেনি, গ্যালারি খাঁ খাঁ করছে। এ দৃশ্য দেখে যে তিনি সন্তুষ্ট নন তা বোঝা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণেও। মঞ্চে উঠেও বেশ কিছুক্ষণ বসে ছিলেন পিছনের সারিতে। তবে তিনি যখন বক্তৃতা দিতে ওঠেন তখন অনেকটাই ভিড় বেড়েছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তৃতা শেষে বিধানসভার উদ্দেশে বেরিয়ে যেতেই সভাস্থাল ফাঁকা হতে থাকে। এর পরে অভিষেকও বেরিয়ে গেলে স্টেডিয়াম আরও খালি হয়ে যায়। তার পর সভা পরিচালনা করেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য।

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তৃতার শেষ অংশে বারবার করে বলেন, আমি বেরোনোর পর আপনারা এই কর্মশালা চালিয়ে যাবেন। এখানে আমাদের ফেসবুক টিম আছে, আমি পরে সব দেখে নেব কে কি বক্তৃতা রাখছেন। তিনি বক্তৃতায় যা বলেছেন তার কতটা অংশ উপস্থিত ছাত্র-যুবরা নিতে পারল তার পরীক্ষা নিতেও বলেন সুব্রত বক্সিকে। কিন্তু কাদের পরীক্ষা নেবেন! বেশির ভাগ ছাত্র, যুবই তখন ঘরমুখী।

পরিস্থিতি যে এরকম হতে পারে তার আগাম আশঙ্কা দলের মধ্যেও ছিল। দলের একটি সূত্রের মতে, ছাত্র-যুবদের এই কর্মসূচিতে দলের অন্য নেতা-মন্ত্রীর উচিত ছিল সাহায্য করার (পড়ুন লোক পাঠানোর)। কিন্তু তাঁরা করেননি, বা হতে পারে ইচ্ছাকৃত ভাবেই করতে চাননি। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ফাঁকা স্টেডিয়ামের বার্তা খুবই নেতিবাচক। নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধে গোটা দেশ জুড়ে যে বিক্ষোভ, আন্দোলন চলছে তার পুরোভাগে রয়েছে ছাত্র-যুব সমাজ। অথচ বাংলায় শাসক দলের ছাত্র ও যুব সংগঠন যে এ ব্যাপারে উৎসাহ দেখাল না, বা কর্মসূচিতে সমন্বয়ের অভাব ঘটল তা তাৎপর্যপূর্ণ বইকি। তা হলে কি বাংলার উদার ছাত্রসমাজ তৃণমূলের সঙ্গে নেই? পর্যবেক্ষকদের অনেকের বক্তব্য, এ প্রশ্নের উত্তর সন্ধান হয়তো তৃণমূল করতে শুরু করে দিয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More