বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

হরপ্পার সমাধিতে কয়েক হাজার বছরের পুরানো স্বামী-স্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আদ্যিকালের সমাধিতে একজোড়া তরুণ-তরুণীর কঙ্কাল। পুরুষটির মুখ ঘোরানো মেয়েটির দিকে। পুরাতত্ত্ববিদরা জানাছেন, পাঁচ হাজার বছর আগে পৃথিবীর অপরে চলেফিরে বেড়াত সেই তরুণ-তরুণী। তারা ছিল হরপ্পা শহরের বাসিন্দা। হয়তো সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী ছিল তারা। কিংবা প্রেমিক-প্রেমিকা। তারা চেয়েছিল মৃত্যুর পরেও যেন বিচ্ছেদ না ঘটে। তাই তাদের আত্মীয়-প্রিয়জনেরা একইসঙ্গে কবর দিয়েছিল তাদের। কিছুদিন আগে পুনের ডেকান কলেজ ডিমড ইউনিভার্সিটির পুরাত্তওবিদরা কবর খুঁড়ে বার করেছেন সেই তরুণ-তরুণীর দেহাবশেষ।

যে জায়গায় ওই কবর পাওয়া গিয়েছে, তার নাম রাখিগড়ি। দিল্লির থেকে দেড়শ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই প্রথমবার পুরাত্তত্ববিদেরা নিশ্চিত করে জানতে পারলেন, হরপ্পায় দম্পতিকে একসঙ্গে কবর দেওয়ার প্রথা ছিল। তাঁরা কঙ্কালগুলি পরীক্ষা করে জানতে পেরেছেন, তাদের একসঙ্গেই সমাহিত করা হয়েছিল। একজনকে আগে কবর দেওয়া হয়েছে, আর একজনকে পরে, এমন প্রমাণ নেই। প্রশ্ন উঠেছে, তারা কি একসঙ্গেই মারা গিয়েছিল?

রাখিগড়ি নামে যে অঞ্চলে ওই কবর পাওয়া গিয়েছে, সেখানে হরপ্পা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছিল আজ থেকে ৫০ বছরেরও বেশি আগে। ১৯৬৩ সালে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া সেখানে সুপ্রাচীন সভ্যতার চিহ্ন খুঁজে পায়। জায়গাটি হরিয়ানার হিসার জেলায় অবস্থিত।

প্রথম আবিষ্কারের সময়ই পুরাত্তত্ববিদরা জানতে পারেন, অন্যত্র হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো সভ্যতার যে নমুনা পাওয়া গিয়েছে, তার তুলনায় রাখিগড়ির ধ্বংসাবশেষ বেশি পুরানো। তা বিরাট জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। ডেকান কলেজ ডিমড ইউনিভার্সিটির পুরাত্তত্ত্ববিদদের যে টিমটি সেখানে খনন কার্য চালাচ্ছে, তার নেতৃত্বে আছেন বসন্ত সিন্ধে নামে এক অধ্যাপক। ২০১৫ সাল থেকে তাঁরা খোঁড়াখুড়ি শুরু করেন। প্রথমদেই তাঁরা একটি কবরখানার সন্ধান পান। বেশ কয়েকটি কঙ্কালও উদ্ধার করেন। কিন্তু একজোড়া নারী-পুরুষের কবর আবিষ্কার করার পরে পুরাতাত্ত্বিক মহলে শুরু হয়েছে হইচই। হরপ্পার সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণাই পালটে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

গতবছরেই সাইবেরিয়ার নোভোসিব্রিস্ক অঞ্চলে তাম্রযুগের ৬০০ সমাধি পাওয়া যায়। তার মধ্যে কয়েক ডজন কবরে একসঙ্গে নারী-পুরুষের দেহ পাওয়া গিয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয় হল, নারী ও পুরুষের কঙ্কালগুলি ছিল আলিঙ্গনাবদ্ধ অবস্থায়। অর্থাৎ তারা পরস্পরকে আলিঙ্গন করে মরেছিল। তাদের চারপাশে ছড়িয়েছিল তামার তৈরি শৌখিন জিনিসপত্র, সেরামিকের প্লেট এমনকী খেলনাও। কানের দুল ও নেকলেসও ছিল। পুরাত্তত্ত্ববিদেরা জানিয়েছেন, কবরগুলি সাইবেরিয়াতে মিলেছে ঠিকই কিন্তু মৃতদেহগুলি স্থানীয় মানুষের নয়। সম্ভবত তারা ককেশীয় অঞ্চল থেকে এসেছিল।

Shares

Comments are closed.