মঙ্গলবার, মার্চ ২৬

গ্রীষ্ম-বর্ষায় তো দিব্যি সঙ্গী করেন তাকে, কিন্তু খবর রাখেন বিশ্বের সব চেয়ে দামি ছাতার?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে, শীতের কাঁথা আর বর্ষার ছাতা নাকি অমূল্য। সত্যিই তাই, রোদে-জলে ছাতার মতো বড় ভরসা কমই আছে মানুষের। কিন্তু, এই অমূল্য ভরসার জন্য কতটা মূল্য খরচ করা যায় বলে মনে হয়? যারা রোজকার ব্যবহারের জন্য ছাতা কেনেন, তাঁরা হয়তো খরচ করেন দু’-পাঁচশো টাকা। কিন্তু একই কাজ করে, অথচ ভাল কোয়ালিটি এবং বিশেষ ব্র্যান্ড হলে খরচ করা যায় হয়তো কয়েক হাজার। কিন্তু লাখ টাকার ছাতা কারা ব্যবহার করার কথা বোধ হয় কেউ-ই সহজে ভাবেন না। তবে স্বপ্নেও যা ভাবা যায় না, তা-ই করে দেখিয়েছে ইতালির একটি লাক্সারি ব্র্যান্ড ‘বিলিয়নিয়ার কুচার’। এক-দুই-পাঁচ-দশ নয়, একেবারে চল্লিশ লাখ টাকা দামের ছাতা বানিয়ে ফেলেছে তারা।

শুধু ছেলেদের পোশাক ও প্রসাধন সামগ্রী নিয়ে কাজ করে কুচার। তাদের দাবি, চল্লিশ লাখ টাকা দামের ছাতাটি তরা কুমিরের চামড়া দিয়ে তৈরি করেছে! কিন্তু এমন বিশেষ ছাতা কিনে তো তা রোদ-বৃষ্টিতে বার করাই দায়! এত দামি জিনিস নষ্ট হলেই তো মায়া হবে। কাজেই হাতে টাকা থাকলে এই ছাতা কিনে রেখে দেওয়া যায় আলমারিতে। কোনও এক প্রয়োজনের সময়ে দু’-তিন গুণ বেশি দামে নিলামে তা বিক্রি হলেও হতে পারে।

কুমিরের চামড়ার এই ছাতাটি ডিজাইন করেছেন ডিজাইনার অ্যাঞ্জেলো গালাসো। তিনি বলেছেন, “আপনি যদি জীবনকে সুন্দর সব জিনিসে পরিপূর্ণ করে তুলতে চান, নিজের পোশাক-আশাক ও ব্যবহার সামগ্রীর মাধ্যমে চার পাশে একটি স্টাইলের ঝড় তুলতে চান, তাহলে অনবদ্য এই ছাতাটি আপনার কথা মাথায় রেখেই বানানো হয়েছে। বৃষ্টির দিনেও যে ফিটফাট হয়ে থাকা যায় কিংবা নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রাখা যায়, তার প্রমাণ হতে পারে এমন একটি দুর্দান্ত ছাতা।”  

এমন একটি ছাতাকে নিজের করে পেতে হলে, বিশেষ অর্ডার দিয়ে রাখতে হবে লন্ডনের ফ্ল্যাগশিপ স্টোরে। কুচারের দাবি, তাদের এই ছাতা এতটাই মজবুত, যে বর্ষার দিনে নিজেই নিজেকে ঝড়-বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। সঙ্গে নিজের মালিককেও ভিজতে দেয় না। আর তার শক্তপোক্ত চামড়া প্রবল ঝড়েও ছাতাটি উড়িয়ে নিয়ে যেতে দেয় না। ছাতার সঙ্গে ম্যাচিং করে কুচার কুমিরের চামড়ার ব্যাগ, জুতো, কোট, বেল্ট-ও তৈরি করেছে। 

তথ্য বলছে, এই ছাতাটি বানানোর আগে পর্যন্ত পৃথিবীতে সব চেয়ে দামি ছাতাটির দাম ছিল প্রায় ১ লক্ষ টাকার। ‘সোয়ায়েন অ্যাডেনে ব্রিগ ম্যান মালাকা’ কোম্পানির এই সুদর্শন ছাতাটির রয়েছে দু’টি হাতল। জল শুষে নেওয়ার জন্য একটা ফ্লাস্কও রয়েছে এই ছাতায়। কালো সিল্কের কাপড় দিয়ে বানানো ছাতার হাতলটি তৈরি টিউলিপ কাঠ দিয়ে। হাতলের বাঁটে রয়েছে রুপোর প্রলেপ।

ওই সংস্থারই আরও একটি এক্সক্লুসিভ ছাতা আছে, যার দাম হাজার সত্তর টাকা। খামখেয়ালি স্বভাবের গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে, তৈরি হয়েছে এটি। ছাতার হাতল তৈরি করা হয়েছে বাঁশের শেকড় দিয়ে। যেমনতেমন বাঁশ নয়, আফ্রিকার একটি নির্দিষ্ট জায়গার বাঁশ এনে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তাকে সংরক্ষণ করে তৈরি করা হয় ছাতার বাঁট। এই বাঁশ সহজে ভাঙে না।

তবে এই সবই নতুন নয়। রানি ভিক্টোরিয়া একটি বেশ দামি, স্বচ্ছ ছাতা ব্যবহার করতেন যাতে, ছাতার বাইরে থেকে ভিতরের রানিকে ঠিকমতো দেখা যায়। সেই ছাতাটি বাইরে থেকে দেখতে যেমন সুন্দর, ভিতর থেকেও তা ঠিক ততটাই কার্যকর বলে উল্লেখ করেছিলেন রানি নিজেই।

রোজকার ব্যবহারের কার্যকর জিনিস ছাতাও যে আসলে অ্যান্টিক বস্তুতে পরিণত হতে পারে, তার নিদর্শন দেখাতেই যেন উৎসাহী এই দামি দামি ছাতা তৈরির ব্র্যান্ডগুলো।

Shares

Comments are closed.