আমি গেস্ট হতে আসিনি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    মধুরিমা রায়
    এই ঘরটাই ভাঙচুর করেছিল। এলইডি টিভি, শো কেস, দেরাজ..। মেঝে জুড়ে কাচ ছড়ানো!
    ঝড়ের কথা তুললেন লকেটই। বললেন, “ঝড় আসে, চলেও যায়।”
    সে চোদ্দ সালের কথা। নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী। বাংলায় তখনও বিরোধী পরিসরে খরা। মোদীর হাত ধরে বাংলায় বিজেপি-র ভোট বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১৭ শতাংশ। গেরুয়া শিবির আন্দাজ করেছিল, হাওয়া ঘুরছে বুঝি। কিন্তু লড়াইয়ের মুখ কই?
    বাংলায় তৃণমূলের ‘অগ্নিকন্যা’-র সামনে যদি এক জন আগুনখোর মুখ পাওয়া যায়। অবশ্যই মহিলা। তা হলে খোঁজ খোঁজ। এক জনকে পাওয়া গেল। কিন্তু তাঁর অতিনাটকীয়তায় দলই বেসামাল। তাঁর কথা থাক। দ্বিতীয় আরও একজনকে তুলে আনা হল। তিনি অবশ্য দিদির ওজনের সামনে হাল্কা, তবে আতুপুতু নয়। আগ্রাসী। এবং রাজনীতিতে টিকে থাকার আগ্রহ, উদ্দীপনা, ও জেদটাও ফ্রেমে ধরা যায়!
    সেই তিনি লকেট চট্টোপাধ্যায়কেই বিজেপি এ বার প্রার্থী করে দিয়েছে হুগলিতে। তৃণমূলের সংসদীয় দলের অন্যতম মুখ রত্না দে নাগের বিরুদ্ধে।
    বীরভূমটা লকেটের চেনা। বিধানসভা ভোটে ময়ুরেশ্বরে যখন প্রার্থী হয়েছিলেন, অনুব্রত মণ্ডলের চোখে চোখ রেখেই লড়েছিলেন।
    কিন্তু হুগলি?
    টলিউডে দীর্ঘদিন অভিনয় করেছেন। দল যখন মেরুকরণের রাজনীতি করছে, তখন মুডটা হয়তো ভালই ধরতে পারেন। লাল পাড়ের গরদের শাড়ি, কনুই পর্যন্ত ঝুলের লাল ব্লাউজ, আর বড় লাল টিপে লকেট ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদীর’ ভাবটা পুরোদস্তুর রয়েছে।
    বীরভূম ছেড়ে হুগলি দেওয়া হল বলে কি অভিমান? মোবাইলে খুট খুট করছিলেন। ক্যাম্পেন রুট দেখছিলেন সম্ভবত। বললেন, “কেন? দক্ষিণেশ্বরের মেয়ে আমি। গঙ্গার এ পার আর ওপার। গত চল্লিশ দিনে প্রতিটা ব্লক তেরো চোদ্দ বার চষে ফেলেছি”।
    তা অবশ্য করেছেন লকেট। কখনও সাইকেলে চেপে, কখনও বাইকে বা স্কুটিতে, কখনও বা নৌকোয় চেপে প্রচারে করে বেরিয়েছেন গত এক মাস। বাড়ি বাড়ি পৌঁছে গেছেন। একেবারে গেরস্তের হেঁসেলে।
    হুগলি আসন বিজেপি-র জন্য অনুর্বর বলা যায় না। তবে রত্না নাগের পিতৃপরিচয় তো বড়! গোপাল দাস নাগের মেয়ে। তার উপর তপন দাশগুপ্ত, অসীমা পাত্র, প্রবীর ঘোষালদের দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই জেলায়!
    “ওরাও জানত আমি বসে থাকব না। প্রথম দিন থেকেই ঝাঁপাব। তাই তো ভাঙচুর চালিয়েছে তৃণমূল”। লকেট থামেন না। মোবাইলটাকে মুঠোয় নিয়ে বলে চলেন, “অভ্যাস হয়ে গেছে আমার। ছোটবেলা থেকে লড়াই করে উঠে এসেছি। কোনও পলিটিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। বাই হার্ট যা করতে চেয়েছি, তা করেই এগিয়েছি।“ তবু আখেরে টলিউডই তো? এই যেমন মিমি চক্রবর্তী, নুসরত জাহানরা প্রার্থী হয়েছেন। মানুষ প্রশ্ন তুলছেন।
    লকেট এ বার সিরিয়াস। “গত তিন বছর তা হলে কী করলাম? মানুষ দেখেছে তো! মুনমুন সেনদের মঞ্চে বসিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ওঁরা আমাদের গেস্ট। ওঁদের ক্রেজকে ভোটে কাজে লাগান। তার পর পাঁচ বছর ওঁদের কেউ দেখতে পায় না। কনস্টিটিউয়েন্সিতে ওঁদের কন্ট্রোল থাকে না। কিন্তু আমি জাস্টিফাই করতে চাই… গেস্ট হতে আসিনি।”

     সাক্ষাৎকারে আর কী বললেন লকেট, দেখুন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More