বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯

বড় হয়ে শিবনের মতো হতে হবে, কন্যাকুমারীতে ছোটদের কাছে প্রেরণা ইসরো কর্তা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ইসরোর মতো সংস্থায় নেতৃত্ব দেওয়া সহজ নয়। কৃষকের ঘরে জন্মগ্রহণ করে ইসরোয় স্থান পাওয়াও সহজ ছিল না কে শিবনের কাছে। এখন চন্দ্রযান উপলক্ষে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। তাঁর জন্য গর্ব করছে জন্মস্থান কন্যাকুমারী। সেখানকার শিশুদের কাছে শিবন এখন রোল মডেল। অনেক ছাত্রছাত্রী তাঁর মতো হওয়ার চেষ্টা করে। তারা বলে, শিবন আমাদের শিখিয়েছেন, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে জীবনে কিছুই অসম্ভব নয়।

শিবনের গ্রামের নাম সারাক্কালভিলাই। তিনি ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে চাষের ক্ষেতে গিয়েছেন। পড়াশোনা করেছেন অখ্যাত স্কুলে। খালি পায়ে স্কুলে যেতেন। শিবনের পরিবার এখনও সেই গ্রামে থাকে। পরভিন নামে গ্রামের এক তরুণ বলেন, যখন শিবন এই গ্রামে থাকতেন, তখন খুব বেশি লোক তাঁকে চিনত না। কিন্তু এখন ইসরো প্রধানকে সারা দেশের মানুষ চেনে। আমিও সবাইকে গর্ব করে বলি, তিনি আমার বাড়ির কাছেই থাকতেন।

পরভিন জানিয়েছেন, যদি গ্রামের কোনও শিশুকে জিজ্ঞাসা করা যায়, তুমি বড় হয়ে কী হতে চাও, সে বলে শিবন স্যারের মতো হতে চাই। গ্রামে শিবনের এক ভাইঝি বাস করেন। তাঁর নাম নিশা। তিনি কাকাকে চিত্তাপ্পা বলে ডাকেন। বড়দের মুখে কাকার ছোটবেলার অনেক গল্প শুনেছেন।

নিশার কথায়, চিত্তাপ্পা খুব কষ্ট করে বড় হয়েছেন। তিনি দাদুর সঙ্গে চাষের ক্ষেতে যেতেন। বড় বিজ্ঞানী হওয়ার জন্য তাঁকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। তিনি এখন ইসরোর চেয়ারপার্সন হওয়া সত্ত্বেও সকলের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর জন্য কন্যাকুমারীর এই অঞ্চল বিখ্যাত হয়ে উঠেছে।

শিবনের ভাইপো নারায়ণপেরুমল বড়দের মুখে শুনেছেন, শিবন ছোট থেকেই পড়াশোনায় খুব মনোযোগী। তাঁর বয়সী ছেলেরা যখন খেলতে যেত, তিনি লাইব্রেরিতে বসে পড়াশোনা করতেন। এক গ্রামবাসী জানিয়েছেন, শিবন যে স্কুলে পড়তেন, তার এখন অনেক উন্নতি হয়েছে। স্কুলে আলাদা একটি ব্লক তৈরি হয়েছে। স্কুলে শিবনের সহপাঠী মদনকুমার বলেন, শিবন বরাবরই পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেত। সব সময় ক্লাসে প্রথম হত। বেশিরভাগ সাবজেক্টে পেত ১০০-য় ১০০।

Comments are closed.