শনিবার, নভেম্বর ২৩
TheWall
TheWall

ডিভোর্সের পরেও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল নবনীতার সঙ্গে: অমর্ত্য সেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্বাবিদ্যালয়ে অধ্যাপনার সূত্রেই দু’জনের আলাপ। সেখানেই গড়ে উঠেছিল সম্পর্ক। তারপর বিয়ে। কিন্তু বিচ্ছেদও হয়ে গিয়েছিল তাঁদের। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ও প্রয়াত সাহত্যিক নবনীতা দেব সেন। বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলা হিন্দুস্তান পার্কের বাড়িতে ৮১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নবনীতা। একসময়ের জীবনসঙ্গীর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমকে নানান কথা বললেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। জানালেন দুই কন্যা অন্তরা দেব সেন ও নন্দনা দেব সেনের জন্যই নিয়মিত যোগাযোগ ছিল নবনীতাদেবীর সঙ্গে।

অমর্ত্যবাবু কলকাতায় নেই। সংবাদমাধ্যমকে ফোনে জানিয়েছেন, “প্রায় রোজই কথা হত নবনীতার সঙ্গে। আমাদের দুই মেয়ের সৌজন্যেই শেষপর্যন্ত যোগাযোগ ছিল ওঁর সঙ্গে।” নবনীতার লেখা, চিন্তা করার ক্ষমতা, যুক্তিবাদী বোধের  কথা উঠে আসে অর্থনীতিবিদের গলায়। সঙ্গে আফসোস, “শেষ দেখা দেখতে পারলে ভাল লাগত।”

এদিন প্রয়াত লেখিকাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হিন্দুস্তান পার্কে উপচে পড়ে মানুষের ভিড়। যান রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়, রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়, কবি শঙ্খ ঘোষ, লেখিকা বাণী বসু-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। হিন্দুস্থান পার্ক থেকে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে নন্দন চত্বর। তারপর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে লেখিকার।

নবনীতা দেবসেনের বাবা ছিলেন কবি নরেন্দ্র দেব। মা রাধারানী দেব। হিন্দুস্থান পার্কে তাঁদের ‘ভালবাসা’ বাড়িতেই ১৯৩৮ সালের জানুয়ারি মাসে জন্ম নবনীতার। কবি দম্পতির স্নেহচ্ছায়া আর আদ্যোপান্ত সাহিত্য আর সাংস্কৃতিক পরিবেশে বড় হওয়া। গোখেল মেমোরিয়াল স্কুলে পড়াশোনা শুরু। গ্র্যাজুয়েট হয়েছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে। ১৯৫৮ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করেন।

পরবর্তীতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিসটিংশন নিয়ে আবার এমএ পাশ করেন সাহিত্যের এই কৃতী ছাত্রী। পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পোস্ট ডক্টরেট ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

১৯৫৯ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম প্রত্যয়’ দিয়ে ততদিনে পা রাখা হয়ে গেছে লেখালেখির জগতে। প্রথম উপন্যাস ১৯৭৬ এ প্রকাশিত ‘আমি অনুপম’। নানা রঙের লেখায় গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। ১৯৭৫ থেকে ২০০২ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় অধ্যাপনা করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামুলক সাহিত্য বিভাগে। ইউরোপ ও আমেরিকার বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে যুক্ত ছিলেন নবনীতা।

পড়ানোর ব্যস্ততার মধ্যেও কিন্তু থেমে থাকেনি তাঁর কলম। একের পর এক লিখে গিয়েছেন কবিতা, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনী, উপন্যাস। রম্যরচনাতেও নজরকাড়া মুন্সিয়ানা। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩৮। আত্মজীবনী মূলক রম্যরচনা ‘নটী নবনীতা’ গ্রন্থের জন্যে ১৯৯৯ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান নবনীতা দেবসেন।

Comments are closed.