বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

বালাসাহেব না থাকলে মারাই যেতাম! সিনেমার প্রচারে এসে এ কথা কেন বললেন বিগ-বি?

দ্য ওয়াল ব্যুরে: আজ আমি আপনাদের সামনে বসে আছি, তা কেবল বাল ঠাকরের জন্য।– সম্প্রতি নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকি অভিনীত ‘ঠাকরে’ সিনেমার ট্রেলার প্রকাশে অনুষ্ঠানে এসে এমনটাই বললেন নস্ট্যালজিক অমিতাভ বচ্চন। জানালেন, প্রায় চল্লিশ বছর আগেই তিনি মারা যেতেন। বেঁচে গিয়েছিলেন বালাসাহেব ঠাকরের জন্যই!

সময়টা ১৯৮২ সাল ৷ ‘কুলি’ ছবির শ্যুটিং চলছিল। একটি মারামারির দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে মারাত্মক আহত হয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন৷ চোট এতটাই বেশি ছিল, প্রায় জীবন সংশয় দেখা দিয়েছিল! আর সেই সঙ্গেই চলছিল প্রকৃতির তাণ্ডব। প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছে মুম্বই! কোনও অ্যাম্বুল্যান্সও ছিল না তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো!

অমিতাভ বচ্চন জানান, সেই সময়ে সিনেমার প্রযোজনা সংস্থা বালাসাহেব ঠাকরের কাছে যান। এবং শুধুমাত্র বালাসাহেবের একটি কথাতেই অ্যাম্বুল্যান্স আনা হয় অমিতাভের জন্য। অমিতাভ আজও বলেন, “ওই দিন বালাসাহেব না থাকলে আমি মারাই যেতাম।”

অমিতাভের সেই বিপদের সময়ে নিজের দলের লোকজনকে নাকি বাল ঠাকরে জানিয়ে দিয়েছিলেন, শিবসেনার অ্যাম্বুল্যান্সটা যেন সব সময় রেডি থাকে অমিতাভের জন্য৷ শেষমেশ বাল ঠাকরের সেই অ্যাম্বুল্যান্সে করেই আহত অমিতাভকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল৷

শুধু তা-ই নয়, অমিতাভ ও জয়া ভাদুড়ির বিয়ের পরে জয়াকে নিজে থেকে দেখতে চেয়েছিলেন বাল ঠাকরে৷ অমিতাভ জানান, তাঁকে ছেলের মতোই স্নেহ করতেন বাল ঠাকরে। তাই জয়াকে নিজের ছেলের বউ হিসেবেই দেখতেন তিনি৷ এমনকী, বাল ঠাকরের বেডরুমে অমিতাভ নিজের ছবি দেখেও চমকে গিয়েছিলেন !

আজ এতটা বয়সের পরেও বলিউডের শাহেনশা তিনি। বড়পর্দায় তাঁর উপস্থিতিটুকুই এখনও দর্শকদের মধ্যে একটি আলাদা ক্রেজ তৈরি করে। এই কিংবদন্তি অভিনেতার কোনও কুণ্ঠা নেই, বিপদের দিনে সাহায্য পাওয়ার কথা স্বীকার করতে। তাই ঠাকরে সিমেনার প্রচারে এসে বললেন, “বালা সাহেব আমায় বিপদের সময়ে সাহায্য করেছেন। আমি ওঁকে খুবই শ্রদ্ধা করি।”

আগামী ২৫ তারিখ মুক্তি পাবে নওয়াজউদ্দিন অভিনীত ‘ঠাকরে’। শিবসেনার মুখপাত্র সঞ্জয় রাউতের চিত্রনাট্য ও প্রযোজনায় আসছে এই সিনেমাটি।

Comments are closed.