বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২
TheWall
TheWall

হিন্দু ভোট এককাট্টা করতে দেবীপক্ষে বিজেপি নেতাদের তিন মন্ত্র দিয়ে গেলেন শাহ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় জাতীয় নাগরিকপঞ্জী (এনআরসি) চালু হবেই। কোনও ভাবেই তা রুখতে পারবে না তৃণমূল কংগ্রেস। কাজে দেবে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি। দেবীপক্ষে কলকাতায় এসে সাফ জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। শুধু বিজেপি সভাপতিই নন, অমিত শাহ এখন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মঙ্গলবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘‘মমতাদিদি নিজেই এক সময় অনুপ্রবেশকারীদের বার করে দেওয়ার কথা বলতেন। এখন ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখে এনআরসি হতে দিতে চাইছেন না।’’

রাজ্য বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অমিত শাহ।

এই ভোটব্যাঙ্ক বিভাজনই ছিল অমিত শাহর পুজো সফরের মূল মন্ত্র। আর সেই মন্ত্রই শিখিয়ে গেলেন রাজ্য নেতাদের। এদিন নেতাজি ইন্ডোরের সভা ছাড়াও বিজেপি নেতাদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন শাহ। আর সেখানেই দিয়ে গেলেন তিন মন্ত্র। বিজেপির এখন প্রধান ইস্যুই যে এনআরসি তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। আর পশ্চিমবঙ্গের মতো অনুপ্রবেশ যে রাজ্যের বড় সমস্যা সেখানে এই ইস্যুকে সামনে আনতে আরও বেশি করে মরিয়া গেরুয়া শিবির। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ইস্যুই যে বিজেপির বড় হাতিয়ার হতে চলেছে সেটা এদিন আরও বেশি করে বুঝিয়ে দিয়েছেন সর্বভারতীয় সভাপতি। এই এনআরসি ইস্যুকে আরও বেশি করে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে তিন পন্থাও বাতলে দিয়েছেন অমিত শাহ। বিজেপি নেতাদের কাছে হেডমাস্টারের দেওয়া সেই হোমটাস্কই এখন তিন মন্ত্র।

বিজেপি সূত্রের খবর, আলাদা করে নেতাদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে তিনি বলেছেন–

১। সহজ কথায় এনআরসি বোঝাতে হবে সাধারণ মানুষকে। সাদা বাংলায় এর লক্ষ্য, উদ্দেশ্য বলতে হবে। বোঝাতে হবে এর মাধ্যমে হিন্দুদের লাভ হবে।

২। দরকারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাতে হবে এনআরসি মানে হিন্দুদের দেশ ছাড়া করা নয়। এর মাধ্যমে শুধুমাত্র অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা হবে। হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখরা শরণরার্থী হিসেবে এদেশে সব সুযোগ, সুবিধা ও অধিকার পাবেন।

৩। তৃণমূল কংগ্রেসের অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে। কোনও রকম ফাঁক রাখা চলবে না। পুজোর দিনগুলোতেও ছুটি না কাটিয়ে এনআরসি ইস্যুকে সাধারণের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

এদিন অমিত শাহ বলেন, এনআরসি নিয়ে তৃণমূল-কংগ্রেস ভীতি সৃষ্টি করছেন। তিনি নেতাদের বলেন, মানুষের মনে ভয় তৈরি করতে ইচ্ছাকৃত ভাবে মিথ্যা রটানো হচ্ছে। এটা আরও বাড়বে। যত সময় এগিয়ে আসবে তত বেশি করে বলা হবে, হিন্দুদেরও তাড়িয়ে দেওয়া হবে। হিন্দু ভোট ভাগ করার এই চেষ্টা রুখে দিতে হবে বাংলায়।

সল্টলেক বিজে ব্লকের পুজো উদ্বোধনে অমিত শাহ।

সহজ বাংলায় না বললেও, এদিনের বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের কাছে একথা অমিত শাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জবাবে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিই করতে হবে। যেভাবে হোক এককাট্টা করতে হবে রাজ্যের হিন্দু ভোট।

নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের সভায় যে কথা তিনি বলেছেন সেটা আরও স্পষ্ট করেছেন কার্যকর্তাদের বৈঠকে। তিনি একেবারে পরিষ্কার করে বলেন– হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ শরণার্থীদের কেউ দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করবে না। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হলে শরণার্থীরাও দেশের নাগরিক হিসাবে সমস্ত অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এই বার্তা রাজ্যের প্রতিটি হিন্দু নাগরিকের কাছে পৌঁছে যাওয়া চাই।

Comments are closed.