বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫

জলপাইগুড়িতে মোদীর সভা: ভিডিও কনফারেন্সে মুকুল-কৈলাসদের নির্দেশ অমিত শাহের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নরেন্দ্র মোদীর সভার আগের দিন জমজমাট জলপাইগুড়ি।

এমনিতেই বাংলায় রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে তাঁদের পদে পদে বাধা পেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন বিজেপি নেতারা। সেই বাংলার জলপাইগুড়িতেই শুক্রবার দলীয় সভা করতে আসছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাই আগের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলা দিল্লি থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কৈলাস বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায়, অরবিন্দ মেননদের থেকে পরিস্থিতি জানলেন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। দিলেন নির্দেশও। আর বাধ্য ছাত্রের মতো সেই নির্দেশ নোট প্যাডে টুকে নিয়ে প্রচারের ফিনিশিং টাচ দিলেন মুকুল-কৈলাস।

শুক্রবার ময়নাগুড়িতে জনসভা করবেন নরেন্দ্র মোদী। বিকেল বেলা জলপাইগুড়ি জেলা বিজেপি দফতর থেকে মুকুল রায় এবং কৈলাস বিজয়বর্গীয় ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন শাহের সঙ্গে। বিজেপি সূত্রের খবর, অমিত শাহই শেষ বেলায় প্রচারের পারদ তুঙ্গে তুলতে দুই নেতাকে রাস্তায় নামতে নির্দেশ দেন। তারপরেই দলীয় কর্মীদের নিয়ে জলপাইগুড়ি শহরের দোকানে দোকানে ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মোদীর সভায় যাওয়ার আবেদন জানান তাঁরা।

গত শনিবার ঠাকুরনগর এবং দুর্গাপুরে জোড়া সভা করেন মোদী। দুটি সভাতেই মানুষের ভিড় ছিল নজর কাড়া। রাজ্য বিজেপি নেতাদের দাবি, শুক্রবারও মোদীর সভায় রেকর্ড ভিড় হবে। ঠাকুরনগরে মতুয়া মহাসঙ্ঘের সভা হওয়ায় একটু রেখে ঢেকে বললেও, দুর্গাপুরের দলীয় সভা থেকে বাংলার শাসক দল এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বাছা বাছা বিশেষণে আক্রমণ শানিয়েছিলেন মোদী। ভোট যত এগিয়ে আসবে ততই চড়বে এই পারদ। পর্যবেক্ষকদের মতে, শুক্রবারের সভাতেও মোদী খেলবেন স্ট্রেট ব্যাটেই। সন্দেহ নেই, জলপাইগুড়ির মতো উদ্বাস্তু এবং উপজাতি অধ্যুষিত জেলায় শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করবেন মোদী। কারণ রাজনৈতিক শিবিরের অনেকের মতে, লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে বিজেপি তত মেরুকরণের রাজনীতির মাত্রাও বাড়াবে।

আরও পড়ুন: সংবিধানের শিরে সংক্রান্তি, পুলিশ পেটাচ্ছে সিবিআইকে!

এমনিতেই জলপাইগুড়ি সফরের আগেই সার্কিট বেঞ্চের বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে মোদীর ক্যাবিনেট। আর সার্কিট বেঞ্চ উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটে সার্কিট বেঞ্চ অনুমোদিত হওয়ার জন্য এ দিন সন্ধেবেলা জলপাইগুড়ি শহরে বিজয় মিছিলও করে বিজেপি। নেতৃত্ব দেন মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, দুর্গাপুরে মোদীর সভা মঞ্চে নাম না থাকায় খানিকটা গোঁসা করেই কলকাতার পথ ধরেছিলেন লকেট। ফলে রাজনৈতিকমহলের চোখ ছিল জলপাইগুড়িতে লকেট যান কি না সে দিকে। সভার আগের দিনই সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন অভিনয় জগৎ থেকে রাজনীতিতে আসা এই ডাকসাইটে নেত্রী।

এখন সবার চোখ জলপাইগুড়িতে শুক্রবার মোদী কী বলেন সে দিকেই।

আরও পড়ুন

মোদী পশ্চিমবঙ্গে আসার আগেই জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের অনুমোদন কেন্দ্রের

 

Shares

Comments are closed.