বৃহস্পতিবার, জুন ২৭

অমিত বিক্রম

ঠেলায় পড়লে গোয়ালাও ঢেলা বয়, এই প্রবচনের কোনও গুজরাটি প্রতিরূপ আছে কি না জানা নেই, তবে কার্যত সেটা করতেই শুরু করেছেন নরেন্দ্রভাই-এর অমিত বেরাদর।

প্রায় রাজনৈতিক সন্ন্যাসে চলে যাওয়া কীর্ণাহারের মুখুজ্জে মশাই সংগোপনে নাগপুরের মোহনজির নেমন্তন্ন গ্রহণ করে দেশ জুড়ে এমন শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন যে, অমিত শাহের মুম্বই অভিযানে কী হলো না হলো, অনেকের চোখ এড়িয়ে গেছে।

বিষয়টা কিঞ্চিৎ খোলসা করা যাক। আজ থেকে ঠিক এক যুগ আগে বুদ্ধবাবুর সেই স্বভাব-বিরোধী হুঙ্কার ‘আমরা ২৩৫ ওরা ৩৫’ যে দম্ভ ও আস্ফালন প্রকাশ করেছিল, তাকে দশ গোল দেবে ২০১৪ পরবর্তী অধ্যায়। দেশ জুড়ে উত্তুঙ্গ ইউফোরিয়া মোদীকে প্রায় গোটা লোকসভাটাই হাতে তুলে দিয়েছিল। ধরা কে সরা জ্ঞান করতে শুরু করলেন তিনি ও তাঁর খাস চেলারা। বিরোধীদের কটাক্ষ, লাঞ্ছনা, পেশীপ্রদর্শন ও হুমকির পাশাপাশি শুরু হয়ে গেল এনডিএ-কে দূর ছাই করে সঙ্গী দলগুলোকেও ধর্তব্যের মধ্যে না আনা।

এখন তাই সহসা নিদ্রাভঙ্গ হয়ে ঘর সামলানোর চেষ্টা। বালাসাহেবের রক্তের তেজ দেখিয়ে উদ্ধব অতিথি অমিতকে যা বলেছেন, তার মর্মার্থ, বড্ড দেরি হয়ে গেছে ভাই, অনেক লপর চপর দেখিয়েছো, ২০১৯-এ বাবাজীবন আমাদের পাবে না গো। আমরা আমাদের মতো থাকবো। যে নীতীশ সম্পর্কে লালুজি ঘরোয়া আড্ডায় বলতেন, ওর তো পেটেও দাঁত আছে, তিনি আবার বেশ দেখিয়ে দেখিয়েই দাঁত কিড়মিড় শুরু করে দিয়েছেন। আরও অনেক কিছু ঘটতে শুরু করেছে জোট সঙ্গী মহলে, আরও অনেক কিছুই ঘটবেও।

কাদায় পড়লে একটু আধটু পদাঘাত তো খেতেই হয়। দেখা যাক আগামী কয়েক মাসে দুই গুজ্জু ভাই কী করে এই হ্যাপা সামলান।

ক্ষমতার দম্ভে নির্ঘাৎ তাঁরা ভুলে গিয়েছিলেন যে ইউফোরিয়া যত তীব্র, ততটাই ক্ষণস্থায়ী। প্রবল প্রত্যাশায় ফোলা বেলুনটা চুপসে যেতেও বিশেষ সময় নেয় না। শুধু ‘অচ্ছে দিন, অচ্ছে দিন’ করে যাবো, বড় বড় ভাষণ দেবো, হ্যান করেঙ্গা ত্যান করেঙ্গা বলে গর্জন করবো, আর ‘ডেলিভার’ করার বেলায় অষ্টরম্ভা—যে ফল প্রসব করার সেটা করতে শুরু করেছে। ইঙ্গিত স্পষ্টতর হল সদ্য হওয়া উপভোটে। বিজেপি পর্যুদস্ত বললে বেশি বলা হয় না। যোগীপুরুষের উত্তরপ্রদেশ তো সন্দেহাতীত ভাবে বেসুরো গাইতে শুরু করেছে।

Leave A Reply