গরুতে গন্ডগোল চলছেই, ছাগলও ঢুকিয়ে দিলেন বিজেপি নেতা

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরু তো ছিলই। এ বার ‘মাতার’ তালিকায় কি ছাগলও?

    জাতীয় রাজনীতিতে গরু এখন এমনিতেই গুরুতর বিষয় হয়ে উঠেছে। বিজেপি শাসিত উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলিতে গেরস্তের বাড়িতে, রেস্তোরাঁয় ‘বিফ’ উপাদেয় খাবার হিসাবে চালু থাকলেও, সে দিকে তাকানো যাবে না! অন্য কোথাও গো হত্যা দূর, গরুকে বকলে পর্যন্ত গণপিটুনি কপালে জোটার উপক্রম হয়েছে। এ হেন গরু-ময় রাজনীতির মাঠে বাংলা বিজেপি-র এক সহ সভাপতি এখন এনে ফেলেছেন ছাগলকেও। তাঁর নিদান, গান্ধীজি ছাগলকে ‘মাতা’ বলেই মানতেন। তাই ছাগলের মাংসও খাওয়া যাবে না!

    গেরুয়া দলের ওই সহ সভাপতির অন্য একটি পরিচয়ও রয়েছে। তিনি নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ভাইপো চন্দ্র কুমার বসু। এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের সুবাদেই হয়তো তিনি সাম্প্রতিককে ধরতে চেয়েছেন আবার ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে। তাঁর কথায়, “গান্ধীজি যখন ১ নম্বর উডবার্ন পার্কে আমার ঠাকুরদা শরতচন্দ্র বসুর বাড়িতে এসেছিলেন, সেই সময় উনি ছাগলের দুধ খেতে চাইতেন। তাঁর জন্য দুটি ছাগল কেনা হয়েছিল। হিন্দুদের রক্ষক গান্ধীজি ছাগলের দুধ খেতেন বলেই, ছাগলকে মাতা বলে মানতেন। তাই হিন্দুরা ছাগলের মাংস খাওয়া ছাড়ুন।”

    চন্দ্র বসুর এমন কথা বাকিরা প্রতিক্রিয়া কী জানাবেন, তার আগেই মুখ খুলেছেন বাংলা বিজেপি-র প্রাক্তন সভাপতি তথা অধুনা ত্রিপুরার রাজ্যপাল তথাগত রায়। রাজ্যপালের পদ প্রথাগত ভাবে রাজনীতির উর্ধ্বে। তবে তথাগতবাবু রাজনৈতিক বিষয়ে মুখ খোলেন না এমন ‘বদনাম’ তাঁর নেই। চন্দ্র বসু গোটা ব্যাপারটা টুইট করে লিখেছিলেন। তাঁকে টুইটেই বিদ্ধ করে তথাগত লেখেন, “আপনি যে উপসংহারে পৌঁছেছেন সেটা একদম ঠিক না। গান্ধীজি বা আপনার ঠাকুরদা কেউই ছাগলকে মাতা বলেননি। গান্ধীজি কখনওই নিজেকে হিন্দু রক্ষক বলে দাবি করেননি। আমরা হিন্দুরা গরুকেই মাতা জ্ঞান করি, ছাগলকে নয়! দয়া করে এ সব পচা কথা ছড়াবেন না।”

    কিন্তু চন্দ্রবাবুই বা ছাড়বেন কেন? সংবাদসংস্থা এএনআই-কে তিনি বলেছেন, আমি যা বলেছি ইতিহাসে লেখা রয়েছে। জওহরলাল নেহরু, গান্ধীজি আকছার আমাদের বাড়িতে আসতেন। তাঁদের কিছু বায়নাক্কা ছিল। সেগুলো মেটাতে হত। এর মধ্যে ছাগলের দুধও ছিল। তাঁর কথায়, রাজনীতির সঙ্গে ধর্ম মিশিয়ে ফেলা হচ্ছে। গান্ধীজি ছাগলের দুধ খেতেন। তার মানেই ছাগলকে মা বলে মানতেন! এরপর আর ছাগলের মাংস খাওয়া যায়!

    বৃষ্টিভেজা শনিবারে চন্দ্র-তথাগতর এই তর্কাতর্কিই এখন চায়ের আড্ডাতে ঢুকে পড়েছে। এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তৃণমূল নেতা ও বিধায়ক সমীর চক্রবর্তী বলেন, গান্ধীজি ছাগলের দুধ খেতেন পড়েছি। এমনকী বিলেতে রানীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় জাহাজে করে উনি ছাগল নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে উনি ছাগলকে মাতা-জ্ঞান করতেন এমন কখনও শুনিনি। তাঁর কথায়, এঁরা এখন নেতাজি নিয়েও ব্যবসা শুরু করেছে। আর এ কথা বলতে বলতে মনে পড়ে যাচ্ছে বাংলার একটা প্রবাদ,- পাগলে কী না বলে, ছাগলে কী না খায়!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More