শনিবার, মার্চ ২৩

# Breaking জইশের সদর দফতরের দখল নিল পাক সরকার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবারই রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ থেকে কড়া বিবৃতি দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ ই মহম্মদের বিরুদ্ধে। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানা গেল, জইশের সদর দফতরের দখল নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। নিরাপত্তা পরিষদ থেকে বলা হয়েছিল, আমরা কঠোরতম ভাষায় পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার নিন্দা করছি। এই ধরনের হামলা যারা চালায়, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। ওই বিবৃতিতে জইশ ই মহম্মদের নামও উল্লেখ করা হয়। তারপরেই ওই সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় ইমরান খানের সরকার।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার পরে দায় স্বীকার করে জইশ। কিন্তু তার পরেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ওই সংগঠনটিকে দায়ী করতে চাননি। বরং সাংবাদিক বৈঠকে বলেছিলেন, ভারত যদি কোনও সংগঠনের বিরুদ্ধে তাঁদের হাতে তথ্যপ্রমাণ তুলে দিতে পারে, তাঁরা ব্যবস্থা নেবেন। ভারত চেষ্টা করেছিল যাতে জইশের প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহারকে রাষ্ট্রসঙ্ঘ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী বলে ঘোষণা করে। কিন্তু সেক্ষেত্রে বাধা দেয় পাকিস্তানের মিত্র চিন। কিন্তু বৃহস্পতিবার ১৫ সদস্য বিশিষ্ট রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ বিবৃতি দিয়ে বলে, আমরা এই জঘন্য ও কাপুরুষোচিত আক্রমণের নিন্দা করছি। যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটায় তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

শুক্রবার পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, বাহাওয়ালপুরে জইশ ই মহম্মদের হেড কোয়াটার্সের দখল নিয়েছে পঞ্জাব সরকার। সেখানে একজন প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। বাহাওয়ালপুর জায়গাটি লাহৌর থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

পাকিস্তানে জইশ ২০০২ সাল থেকে নিষিদ্ধ। কিন্তু তার পরেও সেদেশে ভিন্ন নামে সংগঠনটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন বিদেশী ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্টে জানা যায়, পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে জইশ খুবই সক্রিয়। বাহাওয়ালপুরে রয়েছে তাদের সদর দফতর। মৌলানা মাসুদ আজহারও সেখানেই থাকেন।

এদিন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে এক বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক বসে। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জইশের সদর দফতরের দখল নেওয়া হয়েছে। সেখানে যারা ছিলেন, তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে পঞ্জাব পুলিশ।

জইশের প্রধান নেতা মৌলানা মাসুদ আজহার কোথায় আছে, তাঁকে বন্দি করা হয়েছে কিনা, তা অবশ্য জানানো হয়নি।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইতিমধ্যে কয়েকজন জঙ্গি নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবারই ২০০৮ সালে মুম্বই হামলায় জড়িত জামাত উদ দাওয়া সংগঠনটি নিষিদ্ধ করে দিয়েছে ইমরানের সরকার। জঙ্গি লস্কর ই তোইবাকে এই জামাত উদ দাওয়া সংগঠনটিই পরিচালনা করে। মুম্বই হামলায় লস্কর সন্ত্রাসবাদীদের হাতে ১৬৬ জন মারা গিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে আমেরিকা এই সংগঠনটিকে বিদেশী সন্ত্রাসবাদী বলে চিহ্নিত করে।

 

Shares

Comments are closed.