১৫ হাজার শুয়োর অসমে মৃত আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু-তে! করোনার মধ্যেই হত্যা করা হবে সংক্রামিতদের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা মহামারী নিয়ে যখন কার্যত নাকানিচোবানি পরিস্থিতি সারা দেশের, সে সময়ে  আরও এক সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবে ক্রমেই বাড়ছে বিপদ৷ ইতিমধ্যেই আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু-এর আক্রমণে অসমের ১৫ হাজার শুয়োরের মৃত্যু হয়েছে৷ নতুন নতুন এলাকাতেও ছড়াচ্ছে রোগটি৷ পরিস্থিতি খুব শিগ্গিরি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা।

    এই কারণেই রোগ প্রতিরোধে গণহারে শুয়োর নিধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অসম সরকার। ইতিমধ্যেই হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে অসমের ১০টি জেলায়৷ যাঁরা শুয়োর পালন করেন সেই সব চাষিদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৪৪ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার জন্যও কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানিয়েছে রাজ্য সরকার৷

    Amid Covid-19, African Swine Fever kills over 13,000 pigs in Assam ...

    অসমের পশুপালন দফতরের মন্ত্রী অতুল বোরা জানিয়েছেন, রাজ্যের দশটি জেলা ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছে আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু-তে৷ একের পর এক শুয়োর মারা যাওয়া উদ্বেগ বাড়ছে সরকারের৷ সংক্রামিত এলাকার এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে অবস্থিত শুয়োরদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর পরে সংক্রামিত শুয়োরগুলিকে হত্যা করা হবে।

    আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু বা এএসএফ গৃহপালিত শুয়োরদের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা৷ এটি অসমের পরে অরুণাচল প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়ছে৷ এক প্রাণীর দেহ থেকে আর এক প্রাণীর দেহে সংক্রামিত হয় এই মারণ অসুখ৷ মানুষের দেহে সংক্রমণের ঘটনা এখনও ঘটেনি৷ কিন্তু ২০১৮ থেকে ২০ সালের মধ্যে সে রাজ্যের ৬০ শতাংশ শুয়োর মারা গেছে এই রোগে৷ 

    How Asia's African swine fever crisis is transforming the global ...

    অতুল বোরা আরও বলেন, ‘‘এই অসুখের ভাইরাস শুয়োরের মাংস, লালা, রক্ত ও কোষ থেকে ছড়ায়। তাই জেলা থেকে জেলায়  শুয়োরের সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই অসুখটি মানুষের হয় বলে জানা যায়নি। যেখানে সংক্রমণ নেই, সেখানকার শুয়োরের মাংস খাওয়াতেও কোনও সমস্যা নেই। আমরা কৃষকদের সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব। এই উপলক্ষে ১৩টি জেলাকে আমরা বেছে নিয়েছি।”

    এই রোগের সঙ্গে লড়ার জন্য জেলা ও রাজ্যস্তরে টাস্ক-ফোর্স গঠন করা হয়েছে। আক্রান্ত এলাকার এক কিলোমিটার পর্যন্ত কন্টেনমেন্ট জোনও ঘোষণা করা হয়েছে।

    ফেব্রুয়ারিতেই এই রোগটি শনাক্ত করা হয়। যদিও এটি প্রথম ২০১৯ সালের এপ্রিলে অরুণাচল প্রদেশের চিন সীমান্ত সংলগ্ন জিজাং গ্রামে দেখা গেছিল। অসম পশু পালন ও পশু চিকিৎসার ২০১৯ জনসংখ্যা অনুযায়ী রাজ্যে শুয়োরের সংখ্যা ২১ লক্ষ, কিন্তু বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ লক্ষে।

    North America braces for African swine fever shock | The Western ...

    প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া এই ফ্লু ইউরোপ মহাদেশ হয়ে এশিয়াতে ঢুকে পড়েছে। তারপর কোনও ভাবে তা ভারতে পা-রেখেছে।

    পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলাকে এই বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অসম থেকে পশ্চিমবঙ্গে শুকর আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রাজ্যের এই পাঁচ জেলার ওপর বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশ-প্রশাসনকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More